আমরা এখন এমন এক সময় অতিক্রম করছি, যখন মানবিক ও নৈতিক সঙ্কট চরমে। সমগ্র বিশ^জুড়েই মানুষের স্বাভাবিক বিকাশধারা প্রবলভাবে বাধাগ্রস্ত। রাজনীতি ও রাষ্ট্রই হয়ে উঠেছে দানবীয় শক্তির আধার; যেখানে মানবিকতা ও নৈতিকতার পতন ঘটেছে। ফলে মানুষের সমাজ-সভ্যতা-সংস্কৃতি-শিল্পকলা এবং মৌলিক অধিকারের সঙ্কট ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। এ অবস্থা থেকে উত্তরণের উপায় আমাদের খুঁজে বের করতে হবে মানব মুক্তির লক্ষ্যেই।
বহমান ক্রান্তিকাল থেকে পরিত্রাণের উপায় হতে পারে ঐতিহ্যবাদী সংস্কৃতির চর্চা। যখন দেশের বেশির ভাগ মানুষ সৌন্দর্য ও শুভবোধের চর্চা করবে, তখন রাজনৈতিক অচলায়তনের অবসান হতে পারে। ইতিহাস সে কথাই বলে। একুশ শতকে প্রযুক্তির চরম উৎকর্ষে কল্যাণময় সংস্কৃতির চর্চা ও মনের বিকাশ সময়ের দাবি। আর সংস্কৃতির রূপান্তরের ধারায় সমাজও বদলে যেতে পারে। তবে নাগরিক সংস্কৃতি ইউরোপ-আমেরিকার সংস্কৃতির প্রভাবে আক্রান্ত। ফলে পশ্চিমের প্রভাববলয়ে চলে এসেছে বাকি পৃথিবী। এ অবস্থায় আমাদের নিজস্ব সংস্কৃতির স্বরূপ সন্ধান ও চর্চার প্রতি মনোযোগী হতে হবে।
বাংলাদেশ প্রকৃত অর্থেই গ্রামীণ অর্থনীতি ও সংস্কৃতির জনপদ। উৎপাদন ব্যবস্থা ও জীবন কাঠামো গ্রামকেন্দ্রিক। এখানে আপন সংস্কৃতি বলতে লোকসংস্কৃতিকেই বোঝায়। বাঙালি মুসলমানের জীবনচক্র এই সংস্কৃতিতেই আবর্তিত। লোকসংস্কৃতি বৃহত্তর জনগোষ্ঠীর হাজার বছরের যাপিত জীবনের ঐতিহ্যিক স্মারক যার উদ্ভব, প্রকাশ ও প্রচলন সংহত সমাজে বা লোকসমাজে। গ্রামে-গঞ্জে, শহরে সমাজবদ্ধ মানুষ বসবাস করছে বহু যুগ ধরে। অবশ্য যুগে যুগে তার কিছু পরিবর্তনও ঘটেছে। কালক্রমে লোকসমাজে প্রবীণে-নবীনে সঙ্ঘাত এখনো চলছে। প্রকৃতি, পরিবেশ, ঐতিহ্য, মানবজীবনের সচল প্রবাহ, সঙ্ঘবদ্ধ সমাজজীবন, নানাবিধ কর্মপ্রণালী থেকেও সাধারণ মানুষ জ্ঞান আহরণ করেন। সেই জ্ঞান ও জাগতিক অভিজ্ঞতা একজন সাক্ষর মানুষের চেয়ে কোনো দিক থেকে কম নয়। ফলে এই সাধারণ লোক সংস্কৃতিবান বা সংস্কৃতির স্রষ্টা হতে কোনো বাধা নেই। যেমনÑ চন্দ্রাবতী, লালন ফকির, শেখ দেওয়ান গুমানি, পাগলা কানাই, রমেশ শীল, শাহ আবদুল করিম প্রমুখ। এদের গান ও কাব্য কত জীবন্ত, কত গভীর অর্থে পূর্ণ। আমাদের দেশের সমৃদ্ধ লোকসংস্কৃতির স্রষ্টারা হলেন এ ধরনের সাধারণ মানুষ। ভাটিয়ালি, ভাওয়াইয়া, বাউল, মুর্শিদি, জারি-সারি, ঝুমুর, গম্ভীরা গানে বলিষ্ঠ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য বহমান। লোকসংস্কৃতির বিভিন্ন রূপ প্রত্যক্ষ করা যায় গোষ্ঠীবদ্ধ নাচে-গানে, ধর্মীয় অনুষ্ঠানে, সামাজিক উৎসবে, গ্রামীণ ও আঞ্চলিক অনুষ্ঠানে। লোকসাহিত্য ও লোকশিল্প এই লোকসংস্কৃতিরই অঙ্গ। গ্রামীণ জীবনের সৃজনী ধারার প্রকাশ এখানে প্রতিফলিত।
আধুনিককালেও বাঙালি জীবনে লোকসংস্কৃতির প্রভাব কার্যকর। তবে তা অপরিবর্তিত রূপে নেই। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অপ্রতিরোধ্য জোয়ারে তার রূপান্তর ঘটেছে ব্যাপকভাবে। অন্য দিকে বিশ্বায়নের হাওয়ায় পাল্টে যাচ্ছে তার অবয়ব। এসব কারণ সত্ত্বেও বর্তমানে বাঙালির বৃহত্তর জনজীবনে লোকসংস্কৃতির প্রভাব অনস্বীকার্য। কেননা হাজার বছরের ঐতিহ্যকে অল্প সময়ের ব্যবধানে ভুলে যাওয়া বা মুছে ফেলা সম্ভব নয়। এই সত্যের স্বাক্ষর পাওয়া যায় বাংলাদেশের সমাজ অঙ্গনে। বিশেষভাবে গ্রামীণ সমাজে এখনো তার স্বরূপ জীবন্ত। নাগরিক সংস্কৃতিতেও লোকশিল্প ও লোকগানের প্রভাব ও প্রচলন ঘটেছে। জনপ্রিয়ও অনেক ক্ষেত্রে।
নদীস্বভাবের মতো জনসমাজেরও এক পাড় ভাঙে তো অন্য পাড় গড়ে। ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক ব্যবস্থায় চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাস্তবায়নের ফলে আবহমান লোকজীবন, লোকসাহিত্য ও লোকশিল্প যখন ভাঙনে ভাঙনে বিলীয়মান হতে চলেছে, তখন নতুন এক শ্রেণী সুযোগ নিতে থাকে। ইংরেজের দালাল, মুৎসুদ্দি, মধ্যস্বত্বভোগী, অনুগ্রহজীবীরা নতুন জমিদার ও ব্যবসায়ী শ্রেণীরূপে আত্মপ্রকাশ করেÑ শহরেই তাদের বসবাস, লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতির সাথে তাদের সম্পর্ক কোনোদিন ছিল না। আর শিল্প-সাহিত্যের পৃষ্ঠপোষকতার মতো রুচিও তাদের মধ্যে থাকার কথা নয়। ফলে ‘বাবু শ্রেণী’ গড়ে ওঠে আর ‘বাবু বিলাস’ উৎযাপন করতে থাকে বিভিন্ন তরল, নিম্ন রুচির বিনোদনের মাধ্যমে। ‘আলালের ঘরের দুলাল’ (১৮৫৮) ও ‘হুতোম প্যাঁচার নকশা’ (১৮৬২) এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য। দেশীয় সমাজ ও সংস্কৃতির বিপর্যয়ে আর একটি শ্রেণীর সৃষ্টি হয়, সেই শক্তিশালী ও বড় শ্রেণীটি হলো ঔপনিবেশিক শিক্ষা-দীক্ষা ও ভাবধারায় গড়ে ওঠা মধ্যবিত্ত শ্রেণী। ১৮০০ থেকে ১৯৪৭ পর্যন্ত এই শ্রেণীরই বিজয় কেতন উড়ছে, ঔপনিবেশিক মধ্যবিত্তের বা বাঙালি ভদ্রলোকের সৃষ্টিশীলতা এই সময়ে ভরপুরÑ বাঙালির ‘নবজাগৃতি’। গোপাল হালদার ১৮০০-১৯৪৭ পর্যন্ত কালকে ‘ঔপনিবেশিক মধ্যবিত্তের যুগ’ বা বাঙালি ‘ভদ্রলোকের যুগ’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মধুসূদন-বঙ্কিম যুগ, রবীন্দ্র যুগ ও কল্লোল যুগ এ সময়ের মধ্যেই সৃষ্টি। এই তিনকালের মাঝে রবীন্দ্রনাথ, নজরুল, জীবনানন্দ ও জসীমউদ্দীন ছাড়া আর কোনো লেখক বাঙালির আত্মপরিচয়ের স্বরূপটি প্রকাশ করতে সক্ষম হননি।
বাংলার বিরাজমান লোকজীবন ও লোকসংস্কৃতিÑ বেশির ভাগ মানুষ যার মধ্য দিয়ে বহমান, তার শিল্পিত সাহিত্যিক প্রকাশ আমরা পাইনি। না পাওয়াই স্বাভাবিক, কারণ তারা ঔপনিবেশিক মধ্যবিত্ত শ্রেণীর প্রতিনিধিত্ব করেছেন, বৃহত্তর জনজীবনের প্রতিনিধিত্ব করেননি বা পারেননি। কলোনিয়াল শিক্ষায় ‘আলোকিত’ লেখকরা আসলে পশ্চিমের জানালায় চোখ রেখে পশ্চিমের প্রকৃতি, মানুষ, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রেমে আকুল হতে হতে স্বদেশের বঞ্চিত, শোষিত ও সংগ্রামী জনসমাজের দিকে চোখ ও মন ফেরাতে সময় পাননি। কেউ কেউ জীবনের শেষ সময়ে ঘরে ফেরার তাড়না অনুভব করলেও মহকাল সেই সময় ও সুযোগ খুব একটা দেয়নি। তারা কলোনিয়াল সিস্টেমের প্রতি এতটাই দায়বদ্ধ ছিলেন যে, শোষিত ও নির্যাতিত জনসমাজ যখন বিদ্রোহ-প্রতিবাদ করেছে নানাভাবে, ভারতের প্রথম স্বাধীনতা সংগ্রাম ও বিপ্লব যখন সিপাহিরা সম্পন্ন করার আপ্রাণ চেষ্টা করেছে সর্বোচ্চ ত্যাগের মাধ্যমে, তখন ঔপনিবেশিক বুদ্ধিজীবী ও লেখকরা তাকে ‘নিষ্ফল উন্মত্ততা’, ‘ষড়যন্ত্র, ‘অন্যায়’ ইত্যাদি নামে অভিহিত করেছেন, সমর্থন সে তো বহু দূরের কথা। লেখকদের জনবিচ্ছিন্নতা, দায়হীনতা ও সুযোগসন্ধানী মানসিকতা সৃষ্টিতে ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা কার্যকর ভূমিকা রেখেছে।
স্বাধীন দেশের স্বাধীন শিল্পকলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি আত্মপরিচয়সমৃদ্ধ হতে চায়। কিন্তু পথ? সঠিক ও সোজা পথ : লোকসংস্কৃতির পথ। বাংলাদেশের মানুষের আত্মপরিচয় লোকসংস্কৃতির মাঝে বিরাজমান। লোকসংস্কৃতি প্রধানত ঐতিহ্যনির্ভর। জীবনের প্রয়োজনে পূর্বপুরুষের মাধ্যমে প্রাপ্ত লৌকিক জীবনের যাবতীয় অভিজ্ঞতার ফসল তাই লোকসংস্কৃতির সম্পদ হিসেবে বিবেচিত। সে কারণে নৃতত্ত্ব, পুরাতত্ত্ব, ধর্মতত্ত্ব, সমাজতত্ত্ব, ভাষাতত্ত্ব তথা জাতিতত্ত্বের প্রকৃত উপাদান লোকসংস্কৃতিতে প্রবহমান থাকে। সুতরাং একটি দেশের, একটি জাতির মৌলিকতা ও স্বকীয়তার পরিচয় তার লোকসংস্কৃতির দ্বারাই সম্ভব।
ঔপনিবেশকালে সবচেয়ে বেশি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছে লোকঐতিহ্য ও লোকসংস্কৃতি। যে দেশেই পশ্চিমের ঔপনিবেশ স্থাপিত হয়েছে, সেখানেই তার বিনাশকে ত্বরান্বিত করেছে। বাংলার লোকসংস্কৃতির ভিত্তি শত আঘাতেও বিলীন হয়নি। এখনো বৃহত্তর গ্রামীণ জনসমাজ কৃষি, মৎস, মৃৎ ও তাঁত ব্যবস্থার সাথে জড়িত; জীবন-জীবিকা প্রকৃতিলগ্ন। নগরসংস্কৃতির প্রভাব তৃণমূলপর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে গেলেও বেদখল হয়ে যায়নি। ফসলের জন্য জমিন তৈরি, বীজবপন, চারা পরিচর্যা-কাটা-মাড়াই-সংগ্রহ ও বীজ সংরক্ষণ ইত্যাদি কাজগুলো আবহমান পদ্ধতিতে অর্থাৎ লোকবিজ্ঞানে ও প্রযুক্তির সাহায্যে হয়ে থাকে। সংযোগ ঘটেছে লাঙ্গলের স্থলে ট্রাক্টর, জৈবসারের বদলে রাসায়নিক সার, কীটনাশক ও নতুন সেচ পদ্ধতি। কালের যাত্রায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে অবশ্যই গ্রহণ করতে হবেÑ তবে যাচাই-বাছাই করে। কেননা, নতুন প্রযুক্তির ব্যবহারে বাম্পার ফলন যেমন হচ্ছে, তেমনি মাটি ও পরিবেশের ক্ষতি ঘটছে, জীবনীশক্তি ক্রমাগত হারিয়ে যাচ্ছে। মোটকথা, নতুন যুগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে গ্রহণ করতে হবে স্থানিক প্রকৃতি ও পরিবেশের সাথে সামঞ্জস্য রক্ষা করে। লোকবিজ্ঞান ও নতুন বিজ্ঞানের সমন্বয়েই আমাদের অগ্রগতি নিহিত।
একুশ শতকে তাই আমাদের বিবেচনায় আনতে হবে লোকশিল্প ও লোকবিজ্ঞান-প্রযুক্তির সদ্ব্যবহার বা যথার্থ প্রয়োগ। কারণ, আবহমানকাল ধরে বাংলাদেশের জলবায়ু, প্রকৃতি, পরিবেশ ও মানুষের উপযোগী হয়ে গড়ে উঠেছে এই টেকসই শিল্প ও বিজ্ঞান। এই দুটি শাখার অজস্র উপাদানের অনেকগুলোই অবিকলভাবে রেখে দেয়া যায়; আবার অনেকগুলোকে সংস্কার করা প্রয়োজন। যেমনÑ নকশি কাঁথাকে অবিকৃত অবস্থায় রাখতে হবে, কারণ এর বিকল্প নেই। মৃৎ, দারু ও কাসার শিল্পেরও কোনো আধুনিকায়নের প্রয়োজন নেই। অন্য দিকে লোকশিল্পের অনেক প্রতীক, মডেল বা নকশা বড় শিল্প-কারখানায় উৎপাদিত পণ্যের ডিজাইনে প্রয়োগ করা যায়, অনেক দিন ধরে তা হচ্ছেওÑ আধুনিক প্রযুক্তি ও ঐতিহ্যিক উপাদানের সমন্বয়েÑ যা শেকড়ের সাথে যুক্ত। এভাবে লোকবিজ্ঞানের অনেক বিষয়কেও সমন্বয় করা যায়। এই কাজটি জরুরি, কারণ শেকড়ছাড়া জাতির ইমারত ভেঙে যেতে বাধ্য।
লোকসাহিত্যের বিষয়টি আলাদা। কেননা লোকসমাজে সৃষ্ট এই সাহিত্য লোকসমাজেই প্রচার, প্রসার ও বিবর্তন ঘটে। নগর সমাজে লোকসাহিত্য সংগৃহীত হয়ে যেটুকু পাঠকের হাতে এসেছে তাকে পরিবর্তন ঘটানো সম্ভব নয়। তবে নতুন করে ক্ষুদ্র পরিসরে লোকসমাজে যে ঐতিহ্যিক সাহিত্য রচিত হচ্ছে তাকে লালন, পরিচর্চা ও বিকাশের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়া প্রয়োজন। তাহলে বাইরের আত্মহীন-অচেনা সাহিত্যের আক্রমণ থেকে রক্ষা করা যাবে লোকসমাজের সাহিত্যামোদীদের। আর স্বাধীন বা উত্তর-ঔপনিবেশিক সাহিত্য নির্মাণে লোকসাহিত্য পাঠের বিকল্প নেই। জাতির আত্মপরিচয়, প্রকৃতি, প্রবণতা, সাংস্কৃতিক সম্বন্ধসূত্র ও ঐতিহ্যের স্বরূপ এখানেই পাওয়া যায়। তাই লোকসাহিত্য থেকে অজস্র উপাদান সংগ্রহ করা অপরিহার্য দায়িত্ব হয়ে পড়ে এ দেশের একজন সচেতন লেখকের জন্য। আবার এই সাহিত্যের রিফর্ম বা পুনর্নির্মাণও করা যায়Ñ শামসুর রাহমানের ‘চাঁদ সদাগর’ ও আল মাহমুদের ‘মিথ্যাবাদী রাখাল’ এ ক্ষেত্রে স্মরণীয় দৃষ্টান্ত।
সাহিত্য-সংস্কৃতি চর্চার মাধ্যমে মনের শুভ বিকাশ তাই সময়ের দাবি হয়ে দাঁড়িয়েছে। কারণ সংস্কৃতির মূলে আছে নান্দনিক বোধের প্রবাহ। প্রবহমান সেই সুন্দরের চর্চায় সুন্দর মন জাগতে পারে, জাগাতেও পারে অন্য মনকে। সৌন্দর্যের জাগরণে মনের বিকাশ অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। যদিও কয়েক শত বছর ঔপনিবেশিক শাসনব্যবস্থায় থেকে নিজেকে বা আত্মতাকে হারিয়ে অন্যের পোশাক পরে, অন্যের রূপ নিয়ে প্রকৃত চেহারা বদলে গেছে। তাই আসল আত্মা ও শরীর আবিষ্কার এবং নতুন বিনির্মাণের কাজ দক্ষতা ও শিল্পনৈপুণ্যের সাথে করার মধ্যেই এই ধারার প্রবহমানতা ও সাফল্য নির্ভরশীল। লোকসংস্কৃতি মানে ঐতিহ্যবাদী সংস্কৃতির চর্চার ফলে মানবিক উৎকর্ষ ও মুক্তির পথরেখা অঙ্কনেই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্ভরশীল। আমরা আরো একটি বছর পার করে নতুন বছরে পদার্পণ করেছি। পুরাতন বছরের সমস্ত সঙ্কট-আবর্জনা-অমানবিকতা ঝেড়ে ফেলে দিয়ে নতুন সূর্যোদয়ের পথে আমরা এগিয়ে যাবোÑ এই হোক আজকের দৃঢ় প্রত্যয়।