তরুণ মননশীল লেখক সীমান্ত আকরামের মননশীলতার পরিচয়ের প্রথম নিবন্ধগ্রন্থের নাম ‘নক্ষত্র বিভাব’। গ্রন্থটি আমাদেরকে জাতিসত্তা জানার ও শেকড়ের সন্ধানে প্রয়াসী করে। বইমেলা ২০১৭তে সাহিত্যকাল প্রকাশনী থেকে মোট ১৫টি নিবন্ধের সমন্বয়ে গ্রন্থটি প্রকাশ হয়েছে। প্রসঙ্গ কথার পর বাংলা সাহিত্যের চিরভাস্বর কবি নজরুলকে নিয়ে তিনটি লেখা স্থান পেয়েছে। প্রথম নিবন্ধটির নাম হলো ‘কুমিল্লায় নজরুল : বিচিত্র জীবনের খণ্ডিত অংশ’ দ্বিতীয় নিবন্ধ তৃতীয় নিবন্ধটির শিরোনাম ‘নজরুলের নাট্যচর্চা’। নজরুল যে শুধুমাত্র একজন কবি, গল্পকার, ঔপন্যাসিক, সঙ্গীতকারক নন তিনি যে সাহিত্যের প্রায় সব শাখায় সফল পদচারণা করেছেন তার অন্যতম প্রকৃষ্ট উদাহরণ তার নাট্য সাহিত্য। স্বল্প পরিসরে আকরাম নজরুলের নাট্যাবদানের মূল্যায়ন করেছেন।
বাংলাদেশের পল্লীকবি জসিমউদ্দীনের গান নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছেন আকরাম। তাইতো তিনি পল্লীকবির গানে আবহমান বাংলার চিত্ররূপ নিয়ে নিবন্ধে পল্লী গায়ের সব শ্রেণীপেশার মানুষের, সব ধর্ম-জাতির মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে থাকা আবহমান সংস্কৃতির চিত্রকল্প এঁকেছেন। এ নিবন্ধ পাঠে পল্লী কবির গানের সমাহারে বিহার হয়।
বিপ্লবী ও ইসলামী রেনেসাঁর কবি ফররুখের ইসলামী গানের অবদান নিয়ে ‘ইসলামী গানের ভুবনে কবি ফররুখ আহমদ’ শিরোনামে একটি নিবন্ধ লিখেছেন। কবির সংক্ষিপ্ত জীবনী ও সাহিত্যকর্ম আলোচনার পরেই ইসলামী গান নিয়ে আলোচনা করেছেন আকরাম।
কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দিনকে নিয়ে নিবন্ধ ‘দরদী গানের মরমী কণ্ঠশিল্পী আব্বাসউদ্দিন’।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সাহিত্যিক তিতাশ চৌধুরীকে নিয়ে তিনি তার সপ্তম নিবন্ধটি। বর্তমান বাংলা সাহিত্যের প্রধান কবি আল মাহমুদকে নিয়ে গ্রন্থটির অষ্টম নিবন্ধে নিবন্ধকার কবির কাব্য থেকে ছত্র উল্লেখপূর্বক তাকে আধুনিক চিত্রকল্পের কবি হিসেবে প্রমাণ করার প্রয়াস করেছেন।
আমাদের সাহিত্যাঙ্গন ও শিক্ষিত মহলে উপেক্ষিত বিদ্যুৎসাহী ও অসাধারণ ব্যক্তিত্বের অধিকারী নওয়াব ফয়জুন্নেসা চৌধুরানীকে নিয়ে নবীন এ নিবন্ধকার আমাদেরকে সচেতন করেছেন। জানিয়েছেন ফয়জুন্নেছার নারীশিক্ষায় বিদ্যুৎসাহিতা ও অসাধারণ ব্যক্তিত্ব।
আমাদের বাংলাভাষার প্রখ্যাত প্রেমিক ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সূর্যসন্তান ধীরেন্দ্রনাথ দত্তকে নিয়ে আকরাম দশম নিবন্ধটি লিখেছেন। শিরোনাম হচ্ছে ‘রাষ্ট্রভাষা বাংলার প্রস্তাবক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত’। এরপরের নিবন্ধটি কুমিল্লার সন্তান সঙ্গীত জগতের নক্ষত্র শচীন দেব বর্মণকে নিয়ে। ‘সঙ্গীতের মহারাজা শচীন দেব বর্মণ’ শীর্ষক নিবন্ধে নিবন্ধকার বর্মণের জীবনী ও সঙ্গীত নিয়ে লিখেছেন।
অন্যদের মতো এখানে আলাউদ্দিন খাঁর সংক্ষিপ্ত জীবনী ও গানের আলোচনা আছে। পল্লী উন্নয়নের রূপকার আখতার হামিদকে নিয়ে ত্রয়োদশ নিবন্ধটি। চতুর্দশ নিবন্ধটিতে কবি ও কণ্ঠশিল্পী মতিউর রহমান মল্লিকের কবিতা ও গান নিয়ে আলোচনা স্থান পেয়েছে। মল্লিকের গান যে, মানুষকে বিশুদ্ধতার দিকে টানে সে বিষয়টি গানের উদ্ধৃতিসহ লিখেছেন নিবন্ধকার। সর্বশেষে নিবন্ধটি কবি, কণ্ঠশিল্পী, গীতিকার ও চিত্রশিল্পী গোলাম মোহাম্মদকে নিয়ে। গোলাম মোহাম্মদের গানের অভ্যন্তরে যে শাশ্বত সত্যের আহ্বান সেটি নিবন্ধকার উপস্থাপন করেছেন।
মুক্তিযোদ্ধা ও মৃত্তিকার কবি আল মুজাহিদীর একটি প্রসঙ্গ কথা দিয়ে শুরু হওয়া নিবন্ধগ্রন্থটি কবি আল মাহমুদকে উৎসর্গ করেছেন গ্রন্থকার। শেষাংশে তথ্যসূত্র যোগ করে নিবন্ধের তথ্যের ব্যাপারে নিষ্ঠার পরিচয় দিয়েছেন। গ্রন্থটির বেশ কয়েক জায়গায় বানানজনিত ত্রুটি লক্ষিত হয়েছে। কুমিল্লা ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ব্যক্তিগণই অধিকাংশ জায়গাজুড়ে স্থান পেয়েছেন। সর্বজনীনতার প্রশ্নে সীমান্ত আকরামকে দেশের গুরুত্বপূর্ণ শিল্পী, কবি-সাহিত্যিকদের স্থান দেয়া উচিত।
নক্ষত্র বিভাব
ধরন : নিবন্ধগ্রন্থ
প্রকাশনী: সাহিত্যকাল
প্রচ্ছদ: হামিদুল ইসলাম
মূল্য : ১৮০ টাকা
তরুণ মননশীল লেখক সীমান্ত আকরামের মননশীলতার পরিচয়ের প্রথম নিবন্ধগ্রন্থের নাম ‘নক্ষত্র বিভাব’। গ্রন্থটি আমাদেরকে জাতিসত্তা জানার ও শেকড়ের সন্ধানে প্রয়াসী করে। বইমেলা ২০১৭তে সাহিত্যকাল প্রকাশনী...
