জীবন বড়ই অদ্ভুত। জীবনকে সুন্দর, উজ্জ্বল ও সফল করতে অনেক কিছুই করতে হবে। এই যেমন- একটি ফুটবল ম্যাচে আপনার পায়ে বল থাকুক আর না থাকুক আপনাকে দৌড়াতে হবেই। যদি পুরো ম্যাচে একবারও আপনি বল পায়ে না পান, তবুও রেফারির শেষ বাঁশি বাজানোর আগ মুহূর্ত পর্যন্ত আপনাকে খেলে যেতে হবে, দৌড়াতে হবে। সত্যি জীবনটা এমনই। আর তাই আপনাকে প্রথমে একটি লক্ষ্য ঠিক করতে হবে, তারপর দৌড়াতে থাকতে হবে। ভাগ্য আপনার সাথে থাকুক আর না থাকুক আপনার নিজেকে কখনো ভাগ্যের হাতে ছেড়ে দেয়া যাবে না। আপনি যদি নিজেই আপনার নিজের ভাগ্য বদলানোর চেষ্টা না করেন। তাহলে কীভাবে আশা করবেন যে, ভাগ্য নিজ থেকে এসে আপনার জীবন বদলে দেবে! আর হ্যাঁ, সমস্যা নিয়ে বেশি দুশ্চিন্তা করবেন না। একটি সমস্যা শেষ হওয়ার পর আরেকটি সমস্যা এমনি শুরু হয়ে যাবে। তাই আপনি শুধু দৌড়াতেই থাকবেন। আর কেউ আপনার পায়ের বল কেড়ে নেয়ার চেষ্টা করবে না, আপনি নিশ্চয়ই এরকম কোনো হাস্যকর প্রতিযোগিতা কখনো আশা করেন না!
আপনাকে যারা গালাগালি করছে, তাদের প্রতি কান দেয়ার দরকার নেই। আপনি কান দিলেই তাদের উদ্দেশ্য সফল হবে। মনে রাখতে হবে, গ্যালারির সব দর্শক কখনোই আপনার পক্ষের মানুষ হবে না। আপনার হেরে যাওয়ার আনন্দে কেউ কেউ রাতভর পার্টি করবে। আপনি তখনো দৌড়াতে থাকবেন। মনে রাখবেন, আপনি হেরে গেলেই তারা সফল হবে না; তারা সফল হবে তখনই যদি আপনি থেমে যান। সফল মানুষের সফল হওয়ার গল্প শুনতে আমাদের ভালো লাগে। তাদের জীবনী পড়ার পর রক্ত সঞ্চালন বেড়ে যায়। ইচ্ছে হয় এখন কিছু একটা করে বসি। কিন্তু সে জোর আর জোশটা বেশিদিন থাকে না। কেননা মাথার ভেতরে জেদ ততটা তখনো পাকাপোক্তভাবে স্থির হয়নি। দু’-একটি ঠুনকো বাঁধায় সেই উৎসাহে ভাটা পড়ে।
লেখক মোস্তাক আহমাদের একটি বই পড়েছিলাম, ‘সবাই জান্নাতে যেতে চায় কিন্তু কেউই মরতে চায় না।’ আমাদের অবস্থাও অনেকটা এরকম। আমরা সবাই সফল হতে চাই কিন্তু কেউ কঠোর কোনো পরিশ্রম করতে চাই না। হ্যাঁ, সফল হওয়ার প্রথম শর্ত শুধু পরিশ্রম করা নয়। যদি শুধু পরিশ্রম করা হতো, তাহলে গাধারাই বনের রাজা হতো। মনে রাখতে হবে, আপনি তত বেশি সফল হবেন, যত বেশি ব্যর্থতা আপনি সহ্য করতে পারবেন। আপনি কত দ্রুত দৌড়াতে জানেন তার চেয়েও বেশি জরুরি হলো কতটা বেশি সময় ধরে আপনি দৌড়াতে জানেন বা পারেন। এ জন্য সফল মানুষের গল্প শুনবেন তবে সফলতার গল্প না! আপনার বেশি কাজে আসবে তাদের ব্যর্থতার গল্পগুলো। তাদের সফলতার গল্প শোনার চেয়ে সফলতার পেছনের শত নিঃসঙ্গ রাতের, নিদ্রাহীন ব্যর্থতার গল্প আপনাকে শেখাবে কীভাবে একের পর এক বাধা-বিপত্তি, চড়াই-উতরাই পার করে সামনে এগোতে হয়। আপনি যদি প্রতিদিন এই ভেবে দিন শুরু করেন যে, আজই আপনার জীবনের শেষ দিন, তাহলে একদিন অবশ্যই নিশ্চিতভাবে আপনার সেই ভাবনাটা সত্যি হবে। এক ব্যক্তি স্টিভ জবস প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে জিজ্ঞাসা করতেন আজ যদি আমার জীবনের শেষ দিন হতো! আমি কী তাই করতাম যা আমি আজ করছি? যদি পরপর কিছু দিন এই প্রশ্নের জবাব ‘না’ হতো, তাহলে তিনি বুঝে ফেলতেন যে, তার জীবনের পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে হবে! তাই আমাদেরও উচিত এসব বিষয় খেয়াল করা ও প্রথমে একটি লক্ষ্য ঠিক করা, তারপর লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের দিকে যতটা বেশি সম্ভব দৌড়াতে শুরু করা। তাহলেই একদিন সফলতার চূড়ায় পৌঁছতে পারব, ইনশাআল্লাহ।
