ফ্রান্সের কানে অনুষ্ঠিত বার্ষিক আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত দ্বিতীয় বাংলাদেশী চলচ্চিত্র রেহানা মরিয়ম নূর। ২০০২ সালে ৫৫তম আসরে প্রথম 'মাটির ময়না' প্রদর্শিত হওয়ার ১৯ বছর পর ৭৪তম আসরে এই চলচ্চিত্রটি প্রদর্শিত হচ্ছে।

বুধবার বিনোদন বিষয়ক ম্যাগাজিন হলিউড রিপোর্টারে ফ্রান্সের কানে চলমান আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত দ্বিতীয় এই বাংলাদেশী চলচ্চিত্রটির সম্পর্কে একটি রিভিউ প্রকাশ করা হয়। এখানে সংক্ষেপে রিভিউটি তুলে ধরা হলো,

মূল চরিত্রের নাম অনুসারেই চলচ্চিত্রটির নাম রাখা হয়েছে রেহানা মরিয়ম নূর। ডা. রেহানা মরিয়ম নূর এক মেডিক্যাল কলেজের সহকারি অধ্যাপক। এক মেয়ের মা বিধবা ডা. নূর নৈতিকতা ও মূল্যবোধের কঠিন অনুসারী। পরীক্ষার হলে নকল করায় এক শিক্ষার্থীকে তিনি বহিস্কার করেন। আবার কলেজের এক শিক্ষার্থীকে অনৈতিক সম্পর্কে বাধ্য করার কারণে প্রতিকারের জন্য সিনিয়র অধ্যাপকের কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায়ে লেগে থাকেন তিনি।

পরিচালক আবদুল্লাহ মোহাম্মদ সাদের দ্বিতীয় এই চলচ্চিত্র শুধু অনিয়ন্ত্রিত এক নারীর শীতল আত্মার চিত্র অংকনই নয়, আজমেরি হক বাঁধন যা অভিনয়ের মাধ্যমে তুলে ধরেছেন। সমানভাবে এটি এক নারীর প্রতিও প্রশংসা ও শ্রদ্ধা নিবেদন, যিনি যৌন হয়রানির মতো জটিল ঘটনায় অন্য সবার মতো পাশ কাটিয়ে না গিয়ে দায়ী ব্যক্তির কাছ থেকে জবাবদিহিতা আদায়ে নিজের লক্ষ্যে অটল থেকেছেন। তার দৃঢ়তা তাকে একইসাথে নায়িকা ও সমবেদনার পাত্র হিসেবে তৈরি করেছে। পাশাপাশি অনৈতিকতায় ভ্রুক্ষেপ না করা ব্যক্তিদের জন্যও তিনি অস্বস্তির সৃষ্টি করেছেন।

পুরুষ প্রাধান্য থাকা এক মেডিক্যাল কলেজে কাজ করেন রেহানা। সেখানে অধ্যাপক আরেফিন (কাজী সামি হাসান) শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন ত্রুটি ও অপকর্মে তিরস্কার ও চড়-থাপ্পর দিয়েই ছেড়ে দেন, অপরদিকে রেহানা তার মূল কারণ সমাধানের চিন্তা করেন।

ঘটনাপ্রবাহে একদিন তরুণী শিক্ষার্থী আন্নিকে অধ্যাপক আরেফিনের অফিস থেকে কান্নারত অবস্থায় বের হতে দেখেন রেহানা। ঘটনা সম্পর্কে জানতে গিয়ে ভয়াবহ অভিজ্ঞতার মুখোমুখি হন তিনি।

কাহিনী অগ্রসর হওয়ার সাথে সাথে অস্বস্তি ও অস্বাস্থ্যকর এই ঘটনায় ওই শিক্ষার্থীকে রেহানা বলেন, 'আমি দিনের পর দিন চুপ থাকতে পারবো না।' আন্নিকে তিনি চাপ দিতে থাকেন অধ্যাপকের বিরুদ্ধে অধ্যক্ষের কাছে অভিযোগ করতে। কিন্তু আন্নি তা করতে রাজি না হওয়ায় রেহানা নিজে গিয়ে অভিযোগ করেন, অধ্যাপক আরেফিন তাকে ধর্ষণ করেছেন। এর মাধ্যমে রেহানার লক্ষ্য ছিল, ওই শিক্ষকের পদচ্যুতির মাধ্যমে অন্য শিক্ষার্থীদের তার থাবা থেকে বাঁচানো।

পরিচালক সাদ চলচ্চিত্রটিতে রেহানার চরিত্র ফুটিয়ে তুলতে অভিনেত্রী বাঁধনের সর্বোচ্চ দক্ষতাকে কাজে লাগিয়েছেন। কারিগরি বাছাইয়ের ক্ষেত্রেও দৃঢ়তার পরিচয় দিয়েছেন তিনি। বিশেষ করে চলচ্চিত্রের দৃশ্যে গভীর আকাশী নীল রঙের ব্যবহার, যার মাধ্যম দর্শকের ধারণা হতে পারে যেনো জীবনের দৃশ্যকেই যেনো তুলে এনেছে।