টিআরটি
জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ফাঁকে নিউ ইয়র্কে আয়োজিত এক উচ্চপর্যায়ের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে ত্রিপক্ষীয় ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’র প্রতি পূর্ণ অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে সৌদি আরব ও পাকিস্তান। এই আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল মধ্যপ্রাচ্যের চলমান নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা সহযোগিতা আরো সংহত করা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষা করা।
পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ও সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুবরাজ ফয়সাল বিন ফারহান আল সৌদের উপস্থিতিতে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বর্তমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। পাকিস্তান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতি অনুযায়ী, বৈঠকে সৌদি আরবের সার্বভৌমত্ব ও ভৌগোলিক অখণ্ডতার প্রতি অবিকল সংহতি প্রকাশ করেছে ইসলামাবাদ। সেইসাথে সাম্প্রতিক সময়ে সৌদি লক্ষ্যবস্তুগুলোতে চালানো আক্রমণের তীব্র নিন্দা জানানো হয়। মধ্যপ্রাচ্যে বাড়তে থাকা চরম উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে এই কূটনৈতিক আলোচনাটি বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সাথে ইরানের সামরিক সঙ্ঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই অঞ্চলটির নিরাপত্তা ব্যবস্থা গভীরভাবে সঙ্কটাপন্ন হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সৌদি ভূখণ্ডে একাধিক বড় ধরনের ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো দেশটির সামরিক ঘাঁটি, বসতি এলাকা ও গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামোগুলোকে নিশানা করে। একইসথে লোহিত সাগরে সৌদি বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানপন্থী হাউছি বিদ্রোহীদের আক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় নৌপথের নিরাপত্তাও ঝুঁকিতে পড়ে।
পরিস্থিতির এই দ্রুত অবনতি আঞ্চলিক পরাশক্তিগুলোর মধ্যে সামরিক সমন্বয়ের গতি বাড়িয়ে দিয়েছে। গত বছর রিয়াদ ও ইসলামাবাদের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় প্রতিরক্ষা চুক্তি সই হলেও গত আগস্টে তুরস্ককে যুক্ত করে এটিকে ‘মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তি’ নামক শক্তিশালী ত্রিপক্ষীয় জোটে রূপান্তরিত করা হয়। এই নিরাপত্তা সমঝোতার মূল ধারা অনুযায়ী, জোটভুক্ত যেকোনো এক সদস্যের ওপর আক্রমণ হলে তা তিন দেশের ওপরই যৌথ হামলা হিসেবে গণ্য হবে। নিউ ইয়র্কের এই বৈঠকের মাধ্যমে দুই দেশই স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিল, প্রতিরক্ষা জোরদার ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে যৌথ অঙ্গীকার বাস্তবায়নে তারা একযোগে কাজ করে যাবে।





