রয়টার্স
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহারের ঝুঁকি নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিতে স্বেচ্ছাসেবী নির্দেশিকা মেনে চলতে সই করেছেন মার্কিন প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ কর্তারা। একই সাথে দেশজুড়ে ডাটা সেন্টারের দ্রুত প্রসারে নিজের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। প্রযুক্তি ব্যবস্থার নিরাপত্তা নিয়ে সাধারণ মানুষের সংশয় এবং ডাটা সেন্টারের কারণে পরিবেশ ও অবকাঠামোয় পড়া প্রভাব ঘিরে ক্ষোভের আবহেই গত পরশু তিনি এই অবস্থানের কথা জানান। এআইয়ের বিভিন্ন ঝুঁকি এবং ডাটা সেন্টারগুলোর বিপুল পরিমাণ বিদ্যুতের চাহিদা বৃদ্ধি নিয়ে তৈরি হওয়া উদ্বেগের মধ্যেই হোয়াইট হাউজে প্রযুক্তি খাতের নির্বাহীদের সাথে আয়োজিত এক বৈঠক শেষে এসব কথা জানান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প।
ওই আলোচনা সভা শেষে অংশ নেয়া প্রতিষ্ঠানগুলো জানায়, নিজস্ব এআই ব্যবস্থাগুলো তাদের পরিকল্পনা মাফিক কাজ সম্পন্ন করছে কি না, তা যাচাইয়ের লক্ষ্যে তারা ‘স্বাধীন নিরীক্ষকদের’ সাথে সমন্বয় করে কাজ করবে। একই সাথে উদ্ভাবিত এআই সরঞ্জাম যেন অনাকাক্সিক্ষতভাবে অন্য কোনো কারিগরি সিস্টেমে অনুপ্রবেশ বা হ্যাক না করতে পারে, সে বিষয়ে নিশ্চয়তা দিয়েছে তারা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত চুক্তির একটি অনুলিপি প্রকাশ করেছেন ট্রাম্প নিজে। সাম্প্রতিক সময়ে উন্নত প্রযুক্তির এআই যে ঝুঁকি তৈরি করছে, তা সামলাতে মার্কিন প্রশাসনের ওপর চাপ ক্রমাগত বাড়ছিল। সম্প্রতি ওপেনএআই ও অ্যানথ্রপিক নামের দু’টি প্রতিষ্ঠান জানায়, তাদের উদ্ভাবিত এআই এজেন্ট নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানের কারিগরি সিস্টেমে হ্যাক করে প্রবেশ করেছে। অন্য দিকে এসব এআই মডেল পরিচালনা ও প্রশিক্ষণে প্রয়োজনীয় বিপুল কম্পিউটিং শক্তির যোগান দেয় বিভিন্ন ডাটা সেন্টার। তবে এসব স্থাপনা তৈরিতে বিদ্যুৎ খরচ বৃদ্ধি, স্থানীয় পর্যায়ে পানি ও পরিষেবা মূল্যের প্রভাবসহ একাধিক বিষয়ে সাধারণ মানুষের তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই অসন্তোষ রিপাবলিকান পার্টির জন্য একটি বড় রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।





