রয়টার্স
আফগানিস্তানের কুনার ও হেলমান্দ প্রদেশে পাকিস্তানের বিমান হামলায় তিনটি বসতবাড়ি ধ্বংস হয়েছে। এ ঘটনায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ২২ জন নিহত এবং আরো ১১ জন আহত হয়েছে বলে জানিয়েছে আফগান তালেবান প্রশাসন। বিপরীতে পাকিস্তান সরকারের প থেকে বলা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সন্ত্রাসীদের দু’টি ঘাঁটিতে ওই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে, যেখানে ২২ জন নিহত হয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়া এক্স-এ দেয়া এক বার্তায় তালেবান সরকারের প্রধান মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ জানান, এই হামলায় বেসামরিক নাগরিক, বিশেষ করে নারী ও শিশুরা প্রাণ হারিয়েছে। এই পদপেকে অনাকাক্সিক্ষত ‘আগ্রাসন ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’ হিসেবে আখ্যায়িত করে তীব্র প্রতিবাদ জানান তিনি। অন্যদিকে, পাকিস্তানের তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে হামলা চালিয়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানাগুলো গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে। ওই অভিযানে সেখানে মজুদ থাকা বিপুল পরিমাণের অস্ত্র ও সামরিক গোলাবারুদ ধ্বংস করার পাশাপাশি প্রাথমিকভাবে ২২ জন নিহতের খবর নিশ্চিত করে ইসলামাবাদ।
উভয় পরে দেয়া হতাহত ও য়তির দাবির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করতে পারেনি রয়টার্স। উল্লেখ্য, গতকাল বৃহস্পতিবারের আগে গত মাসে পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিম অঞ্চলের এক পুলিশ দফতরে সশস্ত্র হামলায় ২৪ জন প্রাণ হারানোর পর প্রতিবেশী দুই দেশের সামরিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। এর আগে গত ফেব্রুয়ারি মাসেও সীমান্ত এলাকায় দুই দেশের সামরিক বাহিনীর মধ্যে বিগত কয়েক বছরের মধ্যে সবচেয়ে বিধ্বংসী রক্তয়ী সংঘর্ষ ঘটেছিল। কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একসময় ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও ইদানীং সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তানে হামলা চালানো সশস্ত্র দলগুলোকে মদদ দেয়ার অভিযোগ তুলে কাবুলের সাথে দূরত্বের সৃষ্টি করেছে ইসলামাবাদ। তবে তালেবান সরকার শুরু থেকেই এই অভিযোগ অস্বীকার করে বিষয়টি পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ আইনশৃঙ্খলাজনিত সঙ্কট বলে দাবি করে আসছে। বিগত দুই সপ্তাহে আফগান ভূখণ্ডে একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়েছে পাকিস্তান। ইসলামাবাদ প্রতিবারই সন্ত্রাসী ঘাঁটি ধ্বংসের কথা বললেও কাবুল প্রতিবারই সাধারণ নাগরিক হতাহত হওয়ার অভিযোগ এনেছে।
আফগানিস্তানে পাকিস্তানি বিমান হামলায় ২২ জন নিহত





