এএফপি
যুক্তরাজ্য আবার ইউরোপীয় ইউনিয়নে (ইইউ) ফিরে আসতে পারেÑ প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের এমন ইঙ্গিতের পর বিষয়টিকে প্রকাশ্যেই সাধুবাদ জানিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। গত মঙ্গলবার লেবার পার্টির বার্ষিক সংম্মেলনে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বার্নহাম মন্তব্য করেন, ২০২০ সালে ব্রিটেনের ইইউ ত্যাগ ‘লাভের চেয়ে য়তিই বেশি বাড়িয়েছে’। এরপর গত বুধবার বিবিসি রেডিওকে দেয়া এক সাাৎকারে তিনি জানান, ইউরোপের সাথে সম্পর্কের নানা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক পর্যালোচনার পর তার মধ্য-বামপন্থী লেবার সরকার ইইউ-এর একক বাজার বা কাস্টমস ইউনিয়নে যুক্ত হতে পারে, কিংবা সরাসরি ‘পুরো পথ হেঁটে’ পুনর্যোগদানের আবেদনও জানাতে পারে।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের মধ্য দিয়ে ব্রিটেনে ব্রেক্সিট বিতর্ক পুনরায় উসকে উঠল। জুলাই মাসে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার মতাচ্যুত হওয়ার পর বার্নহাম দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি স্পষ্ট জানান, ব্রেক্সিটের দরুন ব্রিটেনে বিগত এক দশক ধরে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ব্যাহত হয়েছে। ফলে চলতি বছরের শেষের দিকে ২৭টি দেশের সদস্য নিয়ে আয়োজিত হতে যাওয়া ইইউ শীর্ষ সম্মেলনের আগেই দেশের সুবিধাজনক অবস্থান নিশ্চিতে একাধিক বিকল্প খতিয়ে দেখবে লন্ডন। বার্নহামের এমন উদ্যোগকে এএফপির মাধ্যমে স্বাগত জানান ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। মাদ্রিদে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজের সাথে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ব্রিটিশরা যদি নিজেদের ভুল শুধরে ব্লকে ফিরতে চায় এবং দেশটির প্রধানমন্ত্রী সে পদপে নেন, তবে তা ব্রিটেন ও সমগ্র ইউরোপীয়দের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক সংবাদ। বক্তব্য প্রদানকালে তিনি বার্নহামকে সরাসরি ফিরে আসার আহ্বান জানান।
একই সুর মিলিয়ে স্প্যানিশ প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ জানান, ইইউ-তে ব্রিটেনের পুনর্বহালের যেকোনো আবেদনকে স্পেন সাদরে গ্রহণ করবে এবং এই সিদ্ধান্তের পর ভ্রাতৃপ্রতিম ব্রিটিশ জনগণের জন্য তাদের দু’হাত খোলাই থাকবে। অন্য দিকে লন্ডনের এমন ইঙ্গিতে নিজেদের অবস্থানের কথা পরিষ্কার করেছে ইউরোপীয় কমিশন। এক বিবৃতিতে সংস্থার মুখপাত্র বালাজ উজভারি জানান, ব্রিটেন তাদের অন্যতম প্রধান অংশীদার। ফলে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক কেমন হবে তার রূপরেখা দেয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ ব্রিটেনেরই। লন্ডন আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের কোনো বিকল্প প্রস্তাব পাঠালে ইউরোপীয় ইউনিয়ন তা নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত বলে জানান তিনি। তবে প্রধানমন্ত্রীর এই পরিকল্পনার তীব্র বিরোধিতা করেছে ব্রিটেনের ডানপন্থী রাজনৈতিক দলগুলো। তাদের মতে, ২০১৬ সালের বিতর্কিত গণভোটের পর ব্রিটেনে যে চরম রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়েছিল, এ ধরনের নতুন প্রস্তাবে সেই তীব্র ‘ব্রেক্সিট সঙ্ঘাত’ আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে পারে।
এই সম্পর্কিত আরও
রোব, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
ইয়েমেনের কাহবুব পাহাড়ে ভয়াবহ লড়াই
রোব, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
তৃণমূল থেকে পদত্যাগের পর বিজেপিতে সম্মানিত কোয়েল
রোব, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
হাউছিদের দখলে থাকা এলাকা পুনর্দখলের ঘোষণা ইয়েমেন সরকারের
রোব, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
আমেরিকাকে ঠেকাতে ইরানের 'সজারু রণ-কৌশল'
রোব, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬
লং মার্চের প্রথম পর্যায় শুরু করেছে পিটিআই
রোব, ০৪ অক্টোবর, ২০২৬





