মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের অবসানের কোনো লক্ষণ না থাকায় তেলের দাম সাম্প্রতিক সময়ে বেড়েছে। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের বন্ডের সুদহার কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠায় শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শেয়ারবাজারে মিশ্র প্রবণতা দেখা গেছে।
বিশ্লেষকেরা বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে বাণিজ্যবিরতি আরো দুই মাস বাড়ানো হলেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় অমীমাংসিতই রয়ে গেছে। ফলে বিদ্যমান ঝুঁকিগুলো আপাতত ভবিষ্যতের দিকে ঠেলে দেয়া হয়েছে।
শুক্রবার তেলের দাম সামান্য কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ০ দশমিক ৭ শতাংশ কমেছে। এর আগে বৃহস্পতিবার তেলের দাম ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছিল এবং এর মাধ্যমে আগের কয়েক দিনের ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা আরো বাড়ে।
বৃহস্পতিবার বিশ্বজুড়ে বেশিভাগ শেয়ারবাজারে দরপতন হয়। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বেঞ্চমার্ক ১০ বছর মেয়াদি ট্রেজারি বন্ডের সুদহার ২০০৭ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে। আর ৩০ বছর মেয়াদি বন্ডের সুদহার ২০০৪ সালের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।
শুক্রবার সকালে জাপানের ১০ বছর মেয়াদি সরকারি বন্ডের সুদহারও ৩০ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে ওঠে।
বাজার বিশ্লেষণ প্রতিষ্ঠান এক্সটিবির গবেষণা পরিচালক ক্যাথলিন ব্রুকস এক বিবৃতিতে জানান, ‘বন্ডের সুদহার যেন দোলনার মতো এদিক-ওদিক উঠানামা করছে।’
তিনি বলেন, ‘বাজারের জন্য এখন কোনো স্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।’
বাজারে অনিশ্চয়তার উদাহরণ হিসেবে তিনি প্রশ্ন তোলেন—‘আমরা কি বন্ড সঙ্কটের মধ্যে আছি, নাকি নেই?’ এবং ‘ইরান যুদ্ধ কি আরো খারাপের দিকে যাচ্ছে, নাকি পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে?’
ব্রুকস বলেন, এসব প্রশ্নের উত্তর না পাওয়া পর্যন্ত বাজারে অস্থিরতা অব্যাহত থাকবে, বিশেষ করে পণ্যবাজার ও বন্ডবাজারে এর প্রভাব বেশি থাকবে।
শুক্রবার টোকিওর শেয়ারবাজার ১ দশমিক ২ শতাংশ বেড়েছে। তবে হংকংয়ের বাজার প্রায় ২ শতাংশ কমেছে। সিডনি ও জাকার্তার বাজারও দরপতনের মুখে পড়ে। ছুটির কারণে সাংহাই, তাইপে ও সিউলের শেয়ারবাজার বন্ধ ছিল।
ব্রুকসের মতে, চলতি সপ্তাহে শেয়ারবাজারে দরপতন তুলনামূলকভাবে সীমিত ছিল। বৈদেশিক মুদ্রার বাজারেও ওঠানামা ছিল ‘মোটামুটি মাঝারি’। তবে একই সময়ে বাজারে ডলারের প্রতি স্পষ্ট ঝোঁক দেখা গেছে।
জাপানের অর্থমন্ত্রী সাতসুকি কাতায়ামা সাংবাদিকদের জানান, চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দুর্বল ইয়েন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
বৃহস্পতিবার হোয়াইট হাউসে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্মানে জাঁকজমকপূর্ণ রাষ্ট্রীয় নৈশভোজের আয়োজন করেন ট্রাম্প। দিনভর নানা আনুষ্ঠানিকতার পর ওই নৈশভোজ হয়। তবে এসব জাঁকজমকের আড়ালে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের মধ্যে গভীর উত্তেজনা রয়ে গেছে।
নৈশভোজে বাণিজ্য ইস্যু গুরুত্বপূর্ণ হলেও শির সফর থেকে বড় ধরনের কোনো অগ্রগতির প্রত্যাশা কম।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যবিরতি আরো দুই মাস বাড়িয়ে জানুয়ারি পর্যন্ত নেয়া হয়েছে। তবে চীন দুই বছরের জন্য এই বাণিজ্যবিরতি বাড়ানোর আশা করেছিল।
এমইউএফজির বিশ্লেষক লয়েড চ্যান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে ভূরাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এমন এক সময়ে, যখন তেলের বাজার এমনিতেই চাপে রয়েছে। ফলে তেলের সরবরাহ ও মূল্যস্ফীতি—দুই বিষয় নিয়েই উদ্বেগ বাড়ছে।
তিনি আরো বলেন, যুক্তরাষ্ট্র-চীন বাণিজ্যসংক্রান্ত ঝুঁকিও পেছনে থেকেই যাচ্ছে।
চ্যানের ভাষায়, ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র দুই মাসের জন্য বাণিজ্যবিরতি বাড়ানো হয়েছে। ফলে শুল্ক, কৃষিপণ্য কেনাকাটা, বিরল খনিজ এবং প্রযুক্তি-সংক্রান্ত বিধিনিষেধের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
সূত্র : বাসস





