জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর করা অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে তুরস্ক। তুরস্কের রাষ্ট্রীয় বার্তাসংস্থা আনাদোলু অ্যাজেন্সির প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদে দেয়া এক উত্তেজনাপূর্ণ ভাষণে নেতানিয়াহু তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়্যেব এরদোগানকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করেন। একইসাথে তিনি অভিযোগ করেন, তুরস্ক হামাসের নেতাদের আশ্রয় দিচ্ছে।

নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় জাতিসঙ্ঘের অধিবেশনকক্ষে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের কয়েক ডজন প্রতিনিধি অধিবেশনকক্ষ থেকে বেরিয়ে যান। কেউ কেউ নেতানিয়াহুর বক্তব্যের সময় ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য ও দুয়োধ্বনি দেন। এ সময় অধিবেশনের সভাপতি শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানান। 
অন্যদিকে, নেতানিয়াহুর সাথে থাকা ইসরাইলি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা দাঁড়িয়ে করতালি দেন।

ভাষণে নেতানিয়াহু বলেন, ‘ইহুদিবিদ্বেষী মিথ্যার সর্বশেষ বড় প্রচারক হয়ে উঠেছে তুরস্ক।’ 

এরপর তিনি এরদোগানকে ‘স্বৈরশাসক’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তিনি হামাসের সন্ত্রাসী নেতাদেরও আশ্রয় দেন।’

অন্যদিকে, গাজায় ইসরাইলের চলমান যুদ্ধ নিয়ে এরদোগান আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সমালোচনা করে আসছেন। তিনি গাজা পরিস্থিতির কারণে ইসরাইলের ওপর আরো চাপ প্রয়োগের জন্য বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। একইসাথে তিনি বিভিন্ন দেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে ফিলিস্তিনকে স্বীকৃতি দেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

তুরস্কের প্রেসিডেন্টের যোগাযোগবিষয়ক পরিচালক বুরহানেত্তিন দুরান নেতানিয়াহুর বক্তব্যের কঠোর সমালোচনা করেছেন। আনাদোলুর প্রতিবেদনে তার বক্তব্য উদ্ধৃত করে বলা হয়, জাতিসঙ্ঘ সাধারণ পরিষদের মঞ্চ ব্যবহার করে তুরস্ক ও প্রেসিডেন্ট এরদোগানকে নিয়ে নেতানিয়াহুর করা ‘ভিত্তিহীন অভিযোগ’ জাতিসঙ্ঘের শান্তি, আইন ও সংলাপের আদর্শের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

দুরান বলেন, নেতানিয়াহুর বক্তব্যের মাধ্যমে ‘গাজায় সংঘটিত হত্যাকাণ্ড, সৃষ্ট মানবিক বিপর্যয় এবং আন্তর্জাতিক আইনের আওতায় চলমান কার্যক্রমকে আড়াল করা সম্ভব হবে না’।

সূত্র : বাসস