আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে ইউরোপীয় দেশ চেক প্রজাতন্ত্র জেরুসালেমে কূটনীতিক অফিস স্থাপন করায় নিন্দা জানিয়েছে আরব লীগ ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ। এর আগে বৃহস্পতিবার তেল আবিবে দেশটির ইসরাইলি দূতাবাসের একটি শাখা অফিস খোলা হয়।
চেক প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেজ বাবিসের উপস্থিতিতে নতুন এই কূটনীতিক অফিসের উদ্বোধন করা হয়। এর দুই সপ্তাহ আগে ‘ভ্যাকসিন কূটনীতির’ আওতায় চেক রিপাবলিকে মর্ডানার পাঁচ হাজার করোনা টিকা পাঠায় ইসরাইল।
শনিবার ফিলিস্তিনি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে বলে, প্রাগের এই পদক্ষেপ ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের অধিকারে এক স্থূল আঘাত, যা নগ্নভাবে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন।
অপরদিকে কায়রো থেকে আরব লীগের মহাসচিব আহমদ আবুল গেইত এক বিবৃতিতে বলেন, ‘একটি একটি দেশের প্রতিনিধিত্বকারী অফিস খোলার সিদ্ধান্তের মাধ্যমে জেরুসালেমের আইনগত মর্যাদায় প্রভাব পড়ছে। আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে পূর্ব জেরুসালেম অধিকৃত ভূখণ্ড।’
এদিকে চেক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জেরুসালেমে খোলা অফিস ‘কোনো দূতাবাস অফিস নয়’ জানিয়ে এক বিবৃতিতে বলে, শহরটিতে থাকা চেক নাগরিকদের সেবাদান উন্নতি এবং ইসরাইলের সাথে চেক প্রজাতন্ত্রের কৌশলগত সম্পর্ক জোরদার করতে এই অফিস চালু করা হয়েছে।
এতে আরো বলা হয়, ‘ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সাথে আরো রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে চেক প্রজাতন্ত্রের ইচ্ছায় এই অফিস প্রতিষ্ঠা কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
বর্তমানে জেরুসালেমে যুক্তরাষ্ট্র ও গুয়াতেমালা- এই দুই দেশের পূর্ণ ক্ষমতাসম্পন্ন দূতাবাসের কার্যক্রম রয়েছে।
১৯৬৭ সালে ছয় দিনের আরব-ইসরাইল যুদ্ধের পর পূর্ব জেরুসালেম ইসরাইল দখল করে নেয়। আন্তর্জাতিক আইনে অধিকৃত ভূমি হিসেবে বিবেচিত হলেও ইসরাইল শহরটিকে একীভূত করে নেয় এবং অখণ্ড জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে ঘোষণা করে। ২০১৭ সালে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জেরুসালেমকে ইসরাইলের রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেন। পরের বছর ইসরাইলে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস তেল আবিব থেকে স্থানান্তর করে জেরুসালেমে নিয়ে আসা হয়।
সূত্র : আলজাজিরা






