সৌদি আরবের মরহুম বাদশাহ আবদুল্লাহ বিন আবদুল আজিজ স্পেনের সাবেক রাজা প্রথম জোয়ান কার্লোসের নিয়ন্ত্রণাধীন তহবিলে ২০০৮ সালে ১০০ মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করে কোনো আইন লঙ্ঘন করেছেন কি না, তা নিয়ে তদন্ত করছেন এক সুইস প্রসিকিউটর।
এই নিয়ে গত মাসে জেনেভায় আইনি মতামত পর্যালোচনায় এক রুদ্ধদ্বার শুনানি হয়েছে। ব্লুমবার্গের নজরে আসা নথিপত্র অনুসারে শুনানিতে প্রসিকিউটর ইয়ভেস বেরতোসা বিশেষজ্ঞদের কাছে জানতে চেয়েছেন, সাবেক সৌদি বাদশাহ আবদুল্লাহর ওই অর্থ দেয়ায় দেশটির আইনে কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে কি না। গত বছরের ২৩ জুলাই প্রথম এক চিঠিতে সুইস ইনস্টিটিউট অব কমপেরেটিভ ল’-এর কাছে এই বিষয়ে পরামর্শ চান বেরতোসা।
বেরতোসার অনুরোধের ঠিক এক মাস আগেই স্পেনীয় সুপ্রিম কোর্টের প্রসিকিউটররা ঘোষণা করেন, স্পেনীয়-সৌদি এক সংস্থা সৌদি আরবে দ্রুতগতি সম্পন্ন ট্রেনের এক প্রকল্পের ঠিকাদারি পাওয়ায় জোয়ান কার্লোসের অপরাধের কোনো যোগসূত্র আছে কি না, ওই বিষয়ে তারা তদন্ত করবেন।
২০১৪ সালে সিংহাসন ছাড়ার সাথে সাথে জোয়ান কার্লস বিচারিক অব্যাহতির সুযোগ হারিয়েছেন।
সৌদি আরবের বর্তমান বাদশাহর সৎ ভাই সাবেক বাদশাহ আবদুল্লাহর ওপর বেরতোসার তদন্ত সৌদি সম্পদের পছন্দনীয় গন্তব্য হিসেবে সুইজারল্যান্ডের ভূমিকাকে বিঘ্নিত করতে পারে। সুইস ব্যাংকারস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯ সালের শেষে মধ্যপ্রাচ্যের বিনিয়োগকারীরা দেশটিতে ৪৩২ বিলিয়ন সুইস ফ্র্যাঙ্ক বা ৪৬৪ বিলিয়ন ডলার জমা করেছে, যা দেশটিতে মোট অর্থের পাঁচ ভাগের এক ভাগ। প্রতিবছর জুলাই ও আগস্ট মাসে মরুভূমির তীব্র তাপ এড়াতে দলে দলে জেনেভা লেকের পাড়ের বিলাসবহুল বাগানবাড়িতে এসে সময় কাটায় সৌদিরা।
এসব বিষয়ে প্রশ্ন করে ইমেইল করা হলেও সৌদি সরকারের সেন্ট্রাল ফর ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিকেশন কোনো সাড়া দেয়নি। এক শ' মিলিয়ন ডলার স্থানান্তর করা সৌদি অর্থ মন্ত্রণালয়ও এই বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে। অন্যদিকে অর্থ স্থানান্তর ও রেলের ঠিকাদারির মধ্যে যোগসূত্র ও তার তদন্ত নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে অস্বীকার করেছে বেরতোসার দফতর।
বেরতোসা তার চিঠিতে জানান, তার তদন্তে লক্ষ্য করা হয়েছে কথিত এই উপহারের সাথে দুর্নীতির কোনো সংযোগ আছে কি না।
ওই চিঠিতে রেল প্রকল্পে ঠিকাদারির কোনো উল্লেখ করা হয়নি।
সূত্র : ব্লুমবার্গ ডটকম








