অবরুদ্ধ ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে দুই শ' ৪৮ জনে। শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।

এর আগে টানা ১১ দিন গাজায় বিমান হামলার পর বৃহস্পতিবার ইসরাইলের মন্ত্রিসভার এক বৈঠকে হামলা বন্ধ করে যুদ্ধবিরতিতে যেতে সম্মতি দেয়। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এই যুদ্ধবিরতিতে গাজায় হতাহতদের উদ্ধারে নতুন কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়, উদ্ধার অভিযানে নতুন করে হতাহত উদ্ধারের ফলে মোট নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে দুই শ' ৪৮ জন। নিহতদের মধ্যে ৬৬ শিশু ও ৩৯ নারী রয়েছে।

গত ১১ দিনের ইসরাইলি হামলায় আহতদের তথ্য উল্লেখ করতে গিয়ে ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আরো বলেছে, ‘কমপক্ষে ১৯৪৮ ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন ইসরাইলের হামলায়।'

অধিকৃত জেরুসালেমের শেখ জাররাহ মহল্লা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপনে গত ২৫ এপ্রিল ইসরাইলি আদালতের আদেশের জেরে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে পরপর কয়েক দফা মসজিদুল আকসায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই সকল হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক দফতর ইউএনওসিএইএ।

মসজিদুল আকসা চত্ত্বরে মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ইসরাইলকে আলটিমেটাম দেয় গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামাস রকেট হামলা শুরু করে।

ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে মোট চার হাজার তিন শ' ৬০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করা হলেও বেশ কিছু রকেট ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। রকেট হামলায় ইসরাইলের ১২ অধিবাসী নিহত ও সাত শ’ ৯৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন।

ইসরাইল ভূখণ্ডে হামাসের রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে রাত থেকেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল।

গাজায় ইসরাইলের টানা ১১ দিনের আগ্রাসনের পর বৃহস্পতিবার রাতে ইসরাইল ও হামাস যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার ঘোষণা দেয়। মিসরীয় উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টায় ইসরাইলি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর শুক্রবার সকাল থেকে তা কার্যকর হয়। ফিলিস্তিনিরা এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে গণ্য করছেন।

সূত্র : আনাদোলু এজেন্সি