ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী বেনি গান্টজ বৃহস্পতিবার যুক্তরাষ্ট্রে সফরে যাচ্ছেন বৃহস্পতিবার। সফরে তিনি ইসরাইলের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমের সংস্কারে এক শ' কোটি ডলার (আট শ' ৪৫ কোটি টাকা) সাহায্যের জন্য অনুরোধ জানাবেন। মার্কিন সিনেটর লিন্ডসে গ্রাহাম এবং ইসরাইলের কর্মকর্তাদের সূত্রে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে এই খবর জানানো হয়।
মঙ্গলবার জেরুসালেম সফরে যাওয়া মার্কিন সিনেটর গ্রাহাম সাংবাদিকদের বলেন, এই সপ্তাহে পেন্টাগনের কাছে ইসরাইলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী আয়রন ডোমের সংস্কার ও অন্য বিভিন্ন বিষয়ে এক শ' কোটি ডলার সাহায্যের আবেদন করবেন।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর সূত্র অনুসারে, এবার গাজায় সংঘর্ষে হামাস ও অন্য স্বাধীনতাকামী সংগঠনগুলো চার হাজার তিন শ' ৬০টি রকেট নিক্ষেপ করেছে। ইসরাইলের আয়রন ডোম প্রত্যাশা অনুসারে হামাসের সব রকেট প্রতিহত করতে ব্যর্থ হয়েছে।
ইসরাইল এমন এক সময় সামরিক খাতে সহায়তার আবেদন করছে যখন দেশটির কাছে যুক্তরাষ্ট্র ৩.৮ বিলিয়ন অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়ায় বিশ্বব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার মধ্যে পড়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন কংগ্রেসের সিনেট ও প্রতিনিধি পরিষদের বেশকিছু সদস্য ওই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন।
অধিকৃত জেরুসালেমের শেখ জাররাহ মহল্লা থেকে ফিলিস্তিনি বাসিন্দাদের উচ্ছেদ করে ইহুদি বসতি স্থাপনে গত ২৫ এপ্রিল ইসরাইলি আদালতের আদেশের জেরে ফিলিস্তিনিদের বিক্ষোভে পরপর কয়েক দফা মসজিদুল আকসায় হামলা চালায় ইসরাইলি বাহিনী। ৭ মে থেকে ১০ মে পর্যন্ত এই সকল হামলায় এক হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি আহত হয়েছেন বলে জাতিসঙ্ঘের মানবিক সাহায্য বিষয়ক দফতর ইউএনওসিএইএ।
মসজিদুল আকসা চত্ত্বরে মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে মসজিদ থেকে সৈন্য সরিয়ে নিতে ইসরাইলকে আলটিমেটাম দেয় গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। আলটিমেটাম শেষ হওয়ার পর গাজা থেকে ইসরাইলের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামাস রকেট হামলা শুরু করে।
ইসরাইলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, গাজা থেকে ইসরাইলি ভূখণ্ডে মোট চার হাজার তিন শ' ৬০টি রকেট নিক্ষেপ করা হয়েছে। ইসরাইলি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আয়রন ডোমে বেশিরভাগ রকেট ধ্বংস করা হলেও বেশ কিছু রকেট ইসরাইলের বিভিন্ন স্থানে আঘাত হানে। রকেট হামলায় ইসরাইলের ১২ অধিবাসী নিহত ও সাত শ’ ৯৬ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
ইসরাইল ভূখণ্ডে হামাসের রকেট হামলার পরিপ্রেক্ষিতে ১০ মে রাত থেকেই গাজায় বিমান হামলা শুরু করে ইসরাইল। ইসরাইলি বিমান হামলায় ৬৬ শিশু ও ৩৯ নারীসহ ২৫৪ ফিলিস্তিনি নিহত হন। হামলায় আহত হয়েছেন আরো এক হাজার নয় শ' ৪৮ গাজাবাসী।
টানা ১১ দিনের আগ্রাসনের পর ২০ মে রাতে ইসরাইল গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসের সাথে যুদ্ধবিরতিতে যাওয়ার ঘোষণা দেয়। মিসরীয় উদ্যোগে এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব ইসরাইলি মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর ২১ মে সকাল থেকে তা কার্যকর হয়। ফিলিস্তিনিরা এই যুদ্ধবিরতিকে নিজেদের বিজয় হিসেবে গণ্য করছেন।
সূত্র : আলজাজিরা






