ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস নিরাপত্তা ইস্যুতে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠক করেছেন। রোববার রাতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরের রামাল্লা শহরে আব্বাসের কার্যালয়ে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

দীর্ঘদিন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর পরবর্তী জুনে গঠিত নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ইসরাইলি কোনো মন্ত্রীর সাথে মাহমুদ আব্বাসের এটিই প্রথম বৈঠক।

বৈঠকের পর এক টুইট বার্তায় বেনি গান্টজ বলেন, মাহমুদ আব্বাসের সাথে বৈঠকে তারা নিরাপত্তা, প্রশাসনিক ও অর্থনৈতিক বিষয়ে আলোচনা করেন।

তিনি বলেন, ইসরাইল ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের (পিএ) অর্থনৈতিক অবস্থা শক্তিশালী করতে পদক্ষেপ নেবে।

বেনি গান্টজ আরো বলেন, পশ্চিম তীর ও গাজায় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কাঠামো গঠনের বিষয়েও তারা আলোচনা করেন। সামনে এই বিষয়ে তারা আরো আলোচনা করার জন্য সম্মত হন।

এদিকে মাহমুদ আব্বাসের ফাতাহ দলীয় সেন্ট্রাল কমিটির এক সদস্য হোসেইন আল-শেইখ জানিয়েছেন, মাহমুদ আব্বাস ও বেনি গান্টজের মধ্যে বৈঠকে ফিলিস্তিনি-ইসরাইলি সম্পর্কের 'সকল ক্ষেত্র' নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

এদিকে মাহমুদ আব্বাস ও বেনি গান্টজের মধ্যে বৈঠকের নিন্দা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ও ইসলামিক জিহাদ।

হামাসের মুখপাত্র আবদুল লতিফ কানু সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন, এই বৈঠক ফিলিস্তিনি জনগণ ও তাদের ত্যাগের 'পিঠে ছুরিকাঘাত'।

বিবৃতিতে বলা হয়, 'এটি শহীদদের রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা।'

হামাসের অপর এক মুখপাত্র হাজেম কাসেম ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্টকে ইসরাইলি কর্মকর্তার সাথে বৈঠকের মাধ্যমে 'আরব দেশগুলোকে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে উৎসাহ' দেয়ার জন্য অভিযুক্ত করেন।

তিনি বলেন, এর মাধ্যমে ইসরাইলের সাথে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে ফিলিস্তিনিদের প্রত্যাখ্যানের অবস্থানকে দুর্বল করা হচ্ছে।

অপরদিকে ইসলামিক জিহাদের মুখপাত্র তারিক সিলমি বলেছেন, 'আব্বাস ও গান্টজের মধ্যে বৈঠক আমাদের জনগণের পিঠে ছুরিকাঘাত।'

তারিক সিলমি ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ ও আব্বাসকে জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষার করার জন্য অভিযুক্ত করেন।

সূত্র : টিআরটি ওয়ার্ল্ড ও প্রেস টিভি