চলতি বছরের ডিসেম্বরে আন্তর্জাতিক সুন্দরী প্রতিযোগিতা মিস ইউনিভার্সের ৭০তম আসর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। প্রতিযোগিতায় অন্য বিভিন্ন দেশের সাথে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর প্রতিযোগীরাও অংশ নিচ্ছেন।

বুধবার ইসরাইলের পর্যটন মন্ত্রণালয় জানায়, লোহিত সাগর উপকূলবর্তী ইসরাইলের পর্যটনকেন্দ্র ইলিয়াতে এই ১২ ডিসেম্বর এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হবে।

মিস ইউনিভার্সের এই আসরে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এই ধরনের প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে যাচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরাত। অপরদিকে ৪০ বছর পর নতুন করে আবার প্রতিযোগিতায় ফিরছে মরক্কো।

সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মরক্কোর মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলের নিষ্ঠুর আচরণের কথা উল্লেখ করে অনেকেই ইসরাইলে অনুষ্ঠিতব্য অনুষ্ঠান বয়কট করার আহ্বান জানিয়েছেন।

দক্ষিণ আফ্রিকার কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকার আন্দোলনের নেতা ও দেশটির সাবেক প্রেসিডেন্ট নেলসন ম্যান্ডেলার নাতি ইনকসি জুইলিভেলিলি মানডলা ম্যান্ডেলা সাউথ আফ্রিকার সকল মিস ইউনিভার্স প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারীদের ইসরাইলে অনুষ্ঠিতব্য আসরে যোগদান করা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।

এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, 'ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে দখলদারিত্ব, নিষ্ঠুরতা ও প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্যের মধ্যে কোনো প্রকার সৌন্দর্য নেই।'

তিনি বলেন, 'আমরা আমাদের ফিলিস্তিনি ভাই-বোনদের দুর্ভোগকে সমর্থন বা বৈধতা দিতে পারি না।'

এছাড়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হ্যাশট্যাগে মিস ইউনিভার্সের আসর বয়কটের (#BoycottMissUniverse) বার্তা ছড়িয়ে পড়েছে।

গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কথিত 'ইবরাহীমি চুক্তির' আওতায় ইসরাইল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের সাথে স্বাভাবিক কূটনীতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা করে। পরে ওই চুক্তিতে মরক্কো ও সুদান যোগ দেয়।

এই চুক্তির মাধ্যমে চার আরব রাষ্ট্রের সাথে কূটনীতিক সম্পর্ক প্রতিষ্ঠার পাশাপাশি ইসরাইল বাণিজ্য, শিক্ষা, গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন বিষয়ে সহযোগিতার বিষয়ে সম্মত হয়।

ফিলিস্তিনিরা এই চুক্তিকে তাদের সাথে আরব দেশগুলোর বিশ্বাসঘাতকতা বলে বিবেচনা করছেন।

সূত্র : মিডল ইস্ট মনিটর