ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির কাতার সফরের সময় দু’দেশের মধ্যে ১৪টি চুক্তি সম্পন্ন হয়েছে। এ সপ্তাহে রাইসি দু’দিনের জন্য দোহায় গেলে ইরান ও কাতারের মধ্যে এসব চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। বুধবার এমন সংবাদ প্রকাশ করেছে আল-জাজিরা।

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসির কাতার সফরের সময় তার সাথে ছিলেন দেশটির তেলমন্ত্রী জাভেদ ওজি ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমিরাবদুল্লাহ। কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত গ্যাস রফতানিকারক দেশগুলোর সংগঠন ‘দ্যা গ্যাস এক্সপোর্টিং কান্টিস ফোরাম’-এর (জিইসিএফ) সম্মেলনেও অংশ নিবেন এ ইরানি নেতারা।

মঙ্গলবার রাতে ইরানে ফিরে যাওয়ার পর ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি বলেন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যক সম্পর্ক, অর্থনীতি, জ্বালানি, সংস্কৃতি ও বিনিয়োগ সম্পর্কিত বিভিন্ন বিষয়ে (কাতারের আমির ও কর্মকর্তাদের সাথে) আলোচনা হয়েছে।

বাণিজ্য ও অর্থনীতি বিষয়ক একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে দু’দেশের মধ্যে যার লক্ষ্য হলো মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল প্রতিষ্ঠা করা। ইরানের স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল রিসার্চ ইনস্টিটিউট ও কাতারি কর্তৃপক্ষের মধ্যে আরো একটি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। পর্যটনের বিষয়ে একটি চুক্তি হয়েছে। শিক্ষা, ক্রীড়া ও যুব বিষয় দু’বছর মেয়াদি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। এ সময় একটি জ্বালানি চুক্তিও হয়।

ইরান ও কাতারের মধ্যে বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক তিনটি চুক্তি হয়েছে। সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের মধ্যে সহযোগিতা নিয়ে চুক্তি হয়েছে। এ চুক্তির মাধ্যমে দু’দেশের টেলিভিশন ও রেডিও তাদের পারস্পরিক সহযোগিতা বাড়াবে। এছাড়া ইরান ও কাতারের মধ্যে কূটনীতি ও দূতাবাস বিষয়ক তিন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে।

ইরানের প্রেসিডেন্ট রাইসি ও কাতারের আমিরের মধ্যে ভিয়েনায় চলমান ‘২০১৫ সালের ইরানি পরমাণু চুক্তি’ বিষয়ক বিভিন্ন ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। এ পরমাণু আলোচনা পুনরায় শুরু করার বিষয়ে কাতারের সহযোগিতা ছিল। এছাড়া বিভিন্ন ইস্যুতে দু’দেশের স্বার্থ ও ফিলিস্তিন প্রসঙ্গ নিয়ে আলোচনা হয়।

সূত্র : আল-জাজিরা