এ বছরের শেষে জাতীয় নির্বাচন। এ নির্বাচনে সরকার আবারো ঘোলা পানিতে মাছ শিকার করে ৫ জানুয়ারির মতো আরো একটি নির্বাচন উপহার দিতে চাচ্ছে। এ ল্েয নির্বাচন কমিশনকে পরিচালনা করছে সরকার। খুলনা সিটি নির্বাচনে টেস্ট পরীা দিয়েছে ইসি। এ পরীার পাস-ফেলের হিসাব কষছে দেশের জনগণ। দৃশ্যত খুলনার নির্বাচন নিয়ে কে এম নুরুল হুদা সন্তোষ প্রকাশ করলেও ভেতরের পর্যালোচনা স্বস্তিদায়ক ছিল না। অনিয়মের কারণে তিনটি ভোট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত এবং ইসির অভ্যন্তরীণ তদন্তে খোদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণ করার কমিশানের দায়িত্বে থাকা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী তাদের সহযোগী। অনিয়ম করেছে মতাসীন দলের লোকজন ।
এ দেশের গণতন্ত্রে মোটামুটিভাবে দু’টি জিনিস ভালো ছিল। মোটামুটি ফেয়ার নির্বাচন হতো। সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে একটা ভারসাম্য ছিল। মোটামুটি গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা ছিল। ৫ জানুয়ারির নির্বাচনের মধ্য দিয়ে দুটিই ধ্বংস হয়েছে। এখন বাংলাদেশের গণতন্ত্র নামেই গণতন্ত্র। গণতন্ত্রের নামে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েম হয়েছে। সেটা সংসদ এবং সংসদের বাইরে। রাজপথে আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের তৎপরতা, পোস্টারিং নেই। এটি দুঃখজনক। গণতন্ত্রের জন্য খুবই দুর্ভাগ্যজনক একটা সময়। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপে এবং অংশগ্রহণমূলক একটি নির্বাচন করতে হবে। এর কোনো বিকল্প নেই। অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন হচ্ছে, গণতন্ত্র নির্মাণের একটি ভিত্তি। ভিত্তি যদি না থাকে, তাহলে কোনো ভবন দাঁড়িয়ে থাকে না, ধসে পড়ে। তাই প্রথমে গণতন্ত্রের ভিত্তিটা তৈরি করতে হবে আমাদের। এরপর ধীরে ধীরে কিভাবে সংসদ কার্যকর করা যায়, প্রধানমন্ত্রীর মতা কমিয়ে কিভাবে ভারসাম্য আনা যায়, বিরোধী দলের ভূমিকা কিভাবে আরো বাড়ানো যায়, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে কিভাবে গণতন্ত্রায়ন কিভাবে করা যায়, তা নিয়ে সবাইকে কাজ করতে হবে। কথায় বলে, সকাল দেখলেই বুঝা যায় দিনটি কেমন যাবে। এ কথাটি সদ্যসমাপ্ত দেশের সিটি নির্বাচনের েেত্র অনেকাংশে প্রযোজ্য। বর্তমান নির্বাচন কমিশন তার অধীনে অতীতের আর সব নির্বাচনের মতো কেন্দ্র দখল, ভোট ডাকাতি, জালভোট প্রদান এবং বৈধ ভোটারদের ভোটদান থেকে বঞ্চিত করার ঘটনাকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা বলে নির্বাচন সার্বিক বিচারে সুষ্ঠু হয়েছে বলে সাফাই গেয়ে দায় সেরেছেন। যদিও এবার শুরু থেকে বলা হয়েছিল, কঠিন পরীায় নির্বাচন কমিশন উত্তীর্ণ হতে পারবেন কি না সেটাই দেখার বিষয়। সত্যি বলতে কি সরকার এবং বিতর্কিত নির্বাচন কমিশন কেউই ভাবেননি প্রকৃত প্রধান বিরোধী দল বিএনপি পৌর নির্বাচনে অংশ নেবে। একটা অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের অপরিহার্য শর্ত হলো সরকার ও বিরোধী দল উভয়ের জন্য লেভেল প্লেলেয়িং ফিল্ড তৈরি করা। প্রকৃত প্রধান বিরোধী দল বিএনপির জন্য এই লেভেল প্লেলেয়িং ফিল্ড ছিল না শুরু থেকেই। বিএনপি ও তার মিত্র জামায়াত এই দুই দলের নেতাকর্মীদের ওপর নির্বাচন সামনে রেখে ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয়েছে। দেশের বেশ কিছু স্থানে বিএনপির নেতাকর্মীরা আওয়ামী ক্যাডারদের হাতে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়। আগামী নির্বাচনে বিএনপি এবং মতাসীন জোটের অন্তর্ভুক্ত ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ, জাতীয় পার্টি এবং আওয়ামী লীগের বিদ্রহী প্রার্থীরা নির্বাচনের দিন সেনা নামানোর আহ্বান জানালেও নির্বাচন কমিশন তা উপো করেছেন। এরই পরিপ্রেেিত কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কি সেনাবাহিনীর ওপর আস্থা রাখতে পারছে না। অন্য দিকে পুলিশের সুপারিশক্রমে নির্বাচন কমিশন নির্বাচনী খবরাখবর প্রকাশে প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের ওপর জারি করে নানা বিধিনিষেধ।হ
লেখক : সাংবাদিক