সঙ্গীতশিল্পী আসিফ আকবর কারাগারে যাওয়ার ঘটনাটি সবাইকে অবাক করেছে। সেই ২০০১ সালে বাংলা গানে ধ্রুবতারার মতো জ¦লে উঠেছিলেন আসিফ। প্রথম অ্যালবামেই ৬০ লাখ বিক্রি দেশের অডিও ইন্ডাস্ট্রির ইতিহাসে মাইলফলক। তারপর একের পর এক গান উপহার দিয়ে তিনি বাংলা গানকে করেছেন সমৃদ্ধ। জাতীয় পুরস্কারপ্রাপ্ত শিল্পী আসিফ আকবর ৫৭ ধারার মামলায় কারাগারে গেলেন। নিজের সতীর্থদের করা মামলায় ‘বাংলা গানের যুবরাজ’ বন্দী হয়েছিলেন। কেন তার বিরুদ্ধে আইসিটি আইনে মামলা?
আসিফ আকবর কতটা অপরাধী, আইনি বিধিতে তার বিশ্লেষণ করবেন আদালত। কিন্তু একজন শিল্পীর প্রতি ভালো লাগা আর ভালোবাসার প্রশ্নে আমাদের জিজ্ঞাসা, সত্যিই যদি আসিফ অন্যের স্বাক্ষর জালিয়াতি করেন কিংবা প্রতারণার মাধ্যমে অন্যের গান বেচে দেন, তবে অনেক আগেই তার বিরুদ্ধে প্রতারণার মামলা হওয়ার কথা। মূলত অর্থ আদায়ের মামলা হওয়ার কথা। কিন্তু তা না করে মামলা হলো ফেসবুকে কথা বলার অপরাধে তথ্যপ্রযুক্তি আইনের বহুল বিতর্কিত ৫৭ ধারায়? এর জবাব কী?
শফিক তুহিনের গান আসিফ তার ভরাট কণ্ঠে তুলে নেন। এতে তুহিনের নাম গতি পায়, প্রদীপের আলোয় উঠে আসে, খ্যাতি বাড়ে। হঠাৎ কী এমন হলো তুহিনের গানের প্রাণ একদম আসিফকেই কারাগারের অন্ধকার প্রকোষ্ঠে নিক্ষেপ করতে হবে?
দুর্ভাগ্য এই প্রজন্মের। রাষ্ট্র ও নাগরিক যখন বিপন্ন বোধ করে তখন আগের মতো কবি সাহিত্যিকের প্রতিবাদ রূপ এখন আর দেখা যায় না। অতীতের মতো, কবি, সাহিত্যিকেরা তাদের ছন্দে, কবিতায়, গানে ও নৃত্যে, উচ্চকিত শব্দে নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে সাড়া দিতে এখন আর মরিয়া নন। সেই চিরন্তন প্রকৃতি আর প্রিয় স্বদেশের এমনই বিকৃতি রূপ দেখে কবিগুরু লিখেছেন, ‘সময় যেন ইতর হয়ে উঠেছে’। প্রকৃতির এমন ইতর রূপ অতীতে কবিরা সহ্য করতে পারেননি। কিন্তু এখনকার সর্বাধিক জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী কবি সম্ভবত ঘুমকাতর চোখে অভিজাত এলাকার বাড়ির ছাদে বসে অচিন এক নেশায় জোনাকহীন জ্যোৎস্নার ছবি আঁকছেন।
মনে রাখা প্রয়োজন, আমাদের শিল্পবোধের জায়গাটি এখনো সম্প্রসারিত নয়। এটা আর ঈর্ষায় ভরে যাবে, আমরা তো কল্পনাও করি না। তবুও অস্বস্তিবোধ করতে হয়, সঙ্গীত জগতে আজ ৫৭ ধারাকে বীরদর্পে প্রবেশ করানো দেখে। হাতের কাঁকন ভাঙা শুধু সৌন্দর্যহানিই নয়, এটি কালো ছায়াও বটে। বিপর্যয়ের কালো রেখায় ভবিষ্যৎ এগিয়ে যেতে পারে আঁধারের আরো কিছু পথ ধরে। সময়ের ব্যবধানে আক্রান্ত হতে পারে আরো বহু মানুষ। অতএব এখন থেকেই সাবধান হতে হবে। হ
anwarbaripintu@gmail.com