বর্তমানে ভূমিদস্যুদের করাল গ্রাসে মধ্যবিত্ত ও দরিদ্র শ্রেণীর অবস্থা একেবারেই বেহাল। কিছু বিত্তবান ও অসাধু মনোভাবের লোকজনরা অন্যের জায়গা-জমি অসৎ উপায়েও জোর-জবরদস্তির মাধ্যমে দখল করছে। চোখে দেখা সত্ত্বেও বিত্তবানদের এই অসৎ আচরণের প্রতিবাদের ভাষা ক’জনেরই বা থাকে? কুচক্রী ব্যক্তিদের লোভের কারণে আজ বহু লোকের জায়গা-জমি বেদখল হতে যাচ্ছে। আজকাল প্রায় জায়গায় দেখা যাচ্ছে বিত্তবান লোকদের দাপটে, অসহায় শ্রেণী আরো বেশি অসহায় হয়ে পড়ছে। ভুল বুঝিয়ে আজ কিছু কুচক্রী প্রকৃত মালিকদের কাছ থেকে জায়গা ছিনিয়ে নিচ্ছে। কেউ কেউ অতি চালাকি করে কম শিক্ষিত মানুষকে ভুল বুঝিয়ে তাদের কাছ থেকে ফাঁকা দলিলে বা কাগজে টিপ সই এনে পরে তাতে ‘প্রয়োজনীয়’ অঙ্ক বসিয়ে, জায়গা দখল করার অপচেষ্টা করছে। গরিবেরা সরকারি জায়গায় একটু ঠাঁই নিলে মামলা মোকদ্দমা হয়, অথচ ধনবানেরা সরকারি জমি অবৈধ উপায়ে ভোগদখল করছে রাষ্ট্রের এতে কিছুই হচ্ছে না, বরঞ্চ প্রশাসন নীরব ভূমিকা পালন করছে। ভূমিদস্যুরা মধ্যবিত্ত সমেত অসহায় শ্রেণীকে ঠকিয়ে জায়গা দখল করে তাদের এমনকি প্রাণনাশের হুমকি দিচ্ছে। প্রশাসনের কাছে নালিশ দিলেও তা অর্থের জোরে ব্যর্থ হয়ে যাচ্ছে। যাদের একটু অর্থশক্তি কম তাদের জমি অবৈধ উপায়ে ভোগ দখল করতে অহেতুক ভয়ভীতি ও চাপ দেয়া হয়। অনেক গরিব ভূমিদস্যুদের চরম চাপের মুখে শেষ পর্যন্ত প্রাণ বাঁচানোর দায়ে, শেষ সম্বল এসব জমি এই ভূমিদস্যুদের হাতে তুলে দিতে বাধ্য হয়। আজ অনেক জায়গায় দেখা যাচ্ছে, ক্ষমতাবানেরা খাল ভরাট করে ঘরবাড়ি ও মিলকারখানা গড়ে তুলছে। কেউ অন্যান্য রাজনৈতিক প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে বেআইনি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে পড়েছে। কেউ আবার অর্থের জোরে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অবৈধ উপায়ে ভূমি দখল করে অর্থ উপার্জনের পথ খুঁজছে। মিডিয়ায় চোখ রাখলেই দেখা যায়, সরকারি জায়গা দখল করে বসে আছে কুচক্রী মহল। সরকারি খাল ভরাট করে সেখানে অনেকে আজ অসৎ উপায়ে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খুলে বসে আছে, কিংবা অন্যান্য চলছে অবৈধ কর্মকাণ্ড। ভূমিদস্যুদের দৌরাত্ম্যে অনেকে বসত ভিটাটুকু পর্যন্ত হারানোর উপক্রম। ভূমি অফিসে গিয়ে হাজার হাজার টাকা খরচ করেও অনেকে সঠিক দলিল সংগ্রহ করতে না পারায় অসাধু জমিদারদের খপ্পরে পড়ে জমিজমা বিকিয়ে দিতে বাধ্য হয়। অনেক অসহায় টাকার অভাবে ভূমি অফিসে যেতে পারেন না। টাকার জোরে চুপে চুপে অপরের জমি নিজেদের নামে দলিলও করে, অনেক ধনবান পরের জায়গা অবৈধভাবে দখল করছে। নিস্বদেরও এরা ছাড় দিচ্ছে না। অপরের আইল বা জমির সীমানা ভেঙে কিছু অসাধু লোক নিজেদের জায়গা বৃদ্ধি করার অপকৌশল অবলম্বন করছে। ভূমিদস্যুরা গরিবদের আরো নিস্ব করতে জমি দখলের অপকৌশল করছে। শত শত বিঘা সরকারি জায়গা কেন আজ কুচক্রীদের দখলে? কেন ভূমিদস্যুরা আজ অসহায় শ্রেণীর জায়গা দখল করছে? কোন অধিকারে একজনের জমি অন্যজনে অর্থের দাপটে বা রাজনৈতিক শক্তি কাজে লাগিয়ে ভোগদখল করবে? প্রশাসন ঘুমিয়ে আছে। অনেক নদ-নদী মরে যাচ্ছে। নদীর বুকেও জনবসতি। একটি অসাধু চক্র এ অপরাধে জড়িয়ে পড়েছে। সরকারি গাছ অবৈধ উপায়ে ভূমিদস্যুরা কেটে প্রকাশ্যে বিক্রি করছে। সরকারি রাস্তায় আজ দালানকোঠা নির্মাণ করা হচ্ছে, দোকানপাট গড়া হচ্ছে। এসব কুচক্রীকে আইনের আওতায় এনে যথাযথ শাস্তি না দিলে জবরদস্তিমূলক জমি দখল কখনো কমবে না। সরকারি সম্পদ সঠিকভাবে চিহ্নিত করে তা সংরক্ষণে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। যাদের জমি ভূমিদস্যুরা অবৈধ উপায়ে দখল করে নিয়েছে, তাদের জমি ফিরিয়ে দিতে সরকারকে আশু উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। অবৈধ উপায়ে জমি দখলকারী সবার যথাযথ শাস্তি নিশ্চিত করতে কর্তৃপক্ষকে ব্যবস্থা নিতে অনুরোধ করছি। হ
কাছিকাটা, মোরেলগঞ্জ, বাগেরহাট