শিক্ষকেরা উন্নত জাতি গঠনের অগ্রপথিক। শিক্ষকের সঠিক দিকনির্দেশনায় একজন ছাত্র বড় হয়ে জাতিগঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। প্রকৃত শিক্ষক নৈতিক শিক্ষা দেয়া তার কর্তব্য। অবাক হতে হয়, যখন শুনিÑ ‘আমার সোনার বাংলা’য় জাল সনদে শিক্ষকতা পেশা চলছে।
দেশে সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুব কম। তাই শিক্ষার্থী বেশির ভাগ বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে লেখাপড়া করে। কিন্তু জাল সনদের হাটে সঠিক সনদধারীরা বিপাকে। এখন দেশে প্রায় ৬০ হাজার লোক জাল সনদে শিক্ষকতা করছে। এ পর্যন্ত অনেক জাল সনদধারী চিহ্নিত হয়েছে; কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি। এ দায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং এনটিআরসিএ এড়িয়ে চলছে অনেক দিন ধরে। মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে জাল সনদ কিনে শিক্ষকতার মহান পেশাকে বারবার কলঙ্কিত করা হয়েছে, এখনো হচ্ছে। যে জাল সনদ কিনে চাকরি করে, সে প্রকৃত শিক্ষক নয়। এমন ব্যক্তি কখনো নৈতিক শিক্ষা দিতে পারে না। কিছুদিন আগে ঢাকার কয়েকটি নামীদামি প্রতিষ্ঠানে দুদক অনেক জাল সনদধারী শিক্ষক চিহ্নিত করেছে। চিরুনি অভিযান পরিচালিত হলে দেশে প্রায় ৬০ হাজার জাল সনদধারী শিক্ষক পাওয়া যাবে।
২০০৫ সালে এনটিআরসিএ গঠনের পর জাল সনদ বিক্রি ‘ব্যবসায়’ বেড়ে যায়। সম্প্রতি শিক্ষক নিয়োগের উদ্দেশ্যে এনটিআরসিএ নিবন্ধন সনদধারীদের জাতীয় মেধাতালিকা প্রকাশ করেছে। সেখানে রয়েছে জালসনদের ছড়াছড়ি। কেননা, যে সময় শুধু ৪০ নম্বর পেলেই নিবন্ধন সনদ দেয়া হতো, সে সময় কিভাবে একজন পরীক্ষার্থী লিখিত পরীক্ষায় ৯৫-৯৯ নম্বর পায়? এই জাল সনদের শিক্ষকরাই ছাত্রদের প্রশ্নফাঁস ও নকলে সহায়তা করে। অথচ দোষ হয় সব শিক্ষকের। সময় এসেছে জাল সনদধারীদের শাস্তির আওতায় এনে চাকরিচ্যুত করার। তা না হলে প্রকৃত সনদধারীদের মেধা গুমরে গুমরে কাঁদবে। চোখের জলে বুক ভাসিয়ে প্রকৃত সনদধারীরা বেকারত্বের করালগ্রাসে বন্দী। আর ভেজাল শিক্ষকেরা দেশকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। দেশের প্রায় ৫০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানে জালসনদে চাকরি করছে তারা। মন্ত্রণালয় সঠিক তদারকির মাধ্যমে জাল সনদধারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে প্রকৃত সনদধারী মেধাবীদের নিয়োগের ব্যবস্থা করলে দেশ আরো এগিয়ে যাবে। সম্প্রতি শিক্ষামন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেছেন, ৬০ হাজারের মতো শিক্ষকের শূন্যপদ রয়েছে। তাই দ্রুত নিয়োগের কথা বলেছেন তিনি। দেশের শিক্ষাব্যবস্থার এই ক্রান্তিকালে প্রকৃত সনদধারী মেধাবীদের শিক্ষকতা পেশায় আনতে পারলে জাতি উপযুক্ত শিক্ষাদাতা পাবে। বলতে ইচ্ছা করেÑ জাল সনদ নিপাত যাক, প্রকৃত সনদধারী মুক্তি পাক। হ
লেখক : শিক্ষক, উচ্চ বিদ্যালয়