পরিবেশ দূষণের কারণে পরিবেশে স্বাভাবিক ভারসাম্য বিনষ্ট হয়। এ ছাড়া জীবজগতের স্বাভাবিক জীবন এবং স্বতঃস্ফূর্ত বিকাশ ব্যাহত হয়। ফলে পরিবেশের স্বাভাবিকতা নষ্ট হয়। বর্তমান সময়ে পরিবেশ দূষণের অন্যতম প্রধান কারণ হলো শিল্পায়ন। শিল্প-কারখানা সচল রাখতে জীবাশ্ম জ্বালানি, তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা ইত্যাদি ব্যবহার হচ্ছে। এ জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার দূষণের প্রধান উৎস।
জলাভূমি দখল ও বিপজ্জনক বর্জ্য অনিয়ন্ত্রিতভাবে ফেলাসহ দূষণ ও পরিবেশগত অবনতির ফলে নারী, শিশু এবং গরিবদের ওপর ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। প্রায় ১০ লাখ দরিদ্র মানুষ সিসা দূষণের ঝুঁকিতে রয়েছে। এ কারণে বিশেষ করে শিশুদের বুদ্ধিমত্তা বিকাশে ও অন্য ধরনের ক্ষতি হতে পারে। গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত ও মৃতশিশু প্রসবের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
বাংলাদেশে পরিবেশ বিপর্যয় ঘটছে। যার ফল স্বাস্থ্যবিপর্যয়। অনেক সামাজিক সংগঠন পরিবেশ নিয়ে দীর্ঘ দিন ধরেই কথা বলছে। কিন্তু সমস্যা হলো যারা পরিবেশ দূষণের জন্য প্রধানত দায়ী তারা অনেক ক্ষমতাধর। তাদের এ ক্ষমতা রাজনৈতিক। ফলে তারা রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় পরিবেশ দূষণ অব্যাহত রেখেছে। যেমন বিভিন্ন ইটভাটা ও বিভিন্ন শিল্প কারখানার মালিকেরা।
পরিবেশ রক্ষায় আইন আছে, নীতিমালা আছে। এসব আইন ও নীতিমালা ভঙ্গ করলে শাস্তিরও বিধান আছে, কিন্তু অপরাধীরা শাস্তি পাচ্ছে না। সরকার যদি সুশীলসমাজের মতো শুধু কথা বলে, কাজ না করে তাহলে সামনে আরো ভয়াবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে।
পরিবেশ দূষণের প্রধান শিকার নারী ও শিশু। বিশেষ করে শব্দ দূষণ শিশুদের অবসাদগ্রস্ত করে তোলে। তারা বধিরতায় আক্রান্ত হয়। তাদের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হয়। তারা বুদ্ধি প্রতিবন্ধী হয়ে উঠতে পারে। আর অতিরিক্ত সিসা শিশুদের রক্তশূন্যতা সৃষ্টি করে। তারা ঠিকমতো খেলেও অপুষ্টির শিকার হয়।
দূষিত এলাকায় বসবাসের ফলে গর্ভবতী মহিলাদের গর্ভপাত ও মৃত শিশু প্রসবের ঝুঁকি অনেক বেড়ে যেতে পারে। এসব এলাকার দূষিত বায়ু এবং পানির কারণে তার নিজের এবং গর্ভের শিশুর স্বাস্থ্যগত ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে। রাসায়নিক মিশ্রণ আছে, এমন দূষিত বায়ুর সংস্পর্শে থাকলে চোখ, নাক বা গলার সংক্রমণ বা ক্ষতির কারণ হতে পারে। সেই সাথে ফুসফুসের নানা জটিলতা, যেমন ব্রঙ্কাইটিস বা নিউমোনিয়া, মাথাব্যথা, অ্যাজমা এবং নানাবিধ অ্যালার্জি সমস্যা দেখা দিতে পারে।
ক্যান্সার ও হৃদরোগবিশেষজ্ঞরা বলছেন, দীর্ঘ দিন বায়ু দূষণের মধ্যে থাকলে বা এরকম পরিবেশে কাজ করলে ফুসফুসের ক্যান্সার এবং হৃদরোগের দেখা দিতে পারে। এমনকি সেটা মস্তিষ্ক, লিভার বা কিডনির দীর্ঘমেয়াদে সমস্যা সৃষ্টি করতে পারে। দূষিত পানি বা নদীর ভেতর যেমন মাছ বা প্রাণী থাকে, যেসব ভেজষ উৎপন্ন হয় দূষণ সেসব প্রাণীর ভেতরেও ছড়িয়ে পড়ে। খাদ্যচক্রের মাধ্যমে এসব ক্ষতিকর পদার্থ আবার মানবদেহের শরীরে চলে আসে। ফলে সরাসরি দূষিত পানির কাছাকাছি না থাকলেও সেসব দূষিত পদার্থ এসব মাছের মাধ্যমে মানব দেহে আসে। ফলে ত্রুটিপূর্ণ জন্ম বা ক্যান্সার হতে পারে। এমনকি খাদ্যচক্রের মাধ্যমে মানব শরীরে ঢুকছে সিসা, প্লাস্টিকসহ নানা ক্ষতিকর পদার্থ।
শব্দ দূষণের কারণে একজনের হাইপার টেনশন, আলসার, হৃদরোগ, মাথাব্যথা বা স্নায়ুর সমস্যা হতে পারে। এমনকি অতিরিক্ত শব্দের পরিবেশে থাকলে শিশুর জন্মগত ত্রুটির সৃষ্টি হতে পারে। শব্দ দূষণের কারণে প্রেশার, শ্বাসের সমস্যা এমনকি হজমের সমস্যার সৃষ্টি হতে পারে।
সভ্যতার ক্রমবিকাশের সাথে বিজ্ঞানের উন্নতি সাধন হয়েছে। আমাদের জীবনযাত্রার মান বেড়েছে। অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি বেড়েছে কিন্তু প্রকৃতির ক্ষতি করতে আমরা দ্বিধাবোধ করিনি। আমরা আমাদের ইচ্ছামতো নগরায়ন করেছি, শিল্প-কারখানা তৈরি করেছি, জমির উৎপাদন বাড়ানোর জন্য কীটনাশক ও রাসায়নিক সারের ব্যবহার বাড়িয়েছি, নদী দূষণ ঘটিয়েছি, পাহাড় কেটেছি, গাছ কেটেছি নির্বিচারে এবং আকাশের নির্মল বায়ুকে করেছি দূষিত। হ