আমরা এমন এক অবস্থার মধ্যে আছি যে, প্রাইমারি স্কুলের সামান্য দফতরির চাকরি নিতেও দিতে হয় লাখ টাকা। বাস্তবতা হলো, একজন যত ভালো কর্মী (রাজনৈতিক) হোক না কেন, দলীয় কোনো পদবি পেতে হলে তাকে নেতার কাজে অনেক সময় দিতে হয় এবং নেতাকে নিজের কিছু কর্মী দেখাতে হয়। এখন ছেলেগুলোকে চা-নাশতা খাওয়াতে হবে, মাঝে মধ্যে পকেট খরচ, মিটিংয়ে আনলে গাড়ি ভাড়াও তাকে বহন করতে হয়। কর্মী নামের এই ছেলেগুলোর যে খরচ আসে সেই টাকা সে কোথায় পাবে? কারণ, সে নিজেই তো ছাত্র। তাহলে কি তাকে চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজির দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে না? সেই টাকা ম্যানেজ করতে গিয়ে সে অপকর্ম করতে বাধ্য হচ্ছে না? প্রচলিত নোংরা রাজনীতি করতে বাধ্য হচ্ছে কর্মীরা। ওরা হয়তো নোংরামি করছে নতুবা এটাকে সমর্থন দিতে বাধ্য হচ্ছে। আর যারা বিভিন্ন জায়গায় গ্রুপের ‘মূল কারিগর’ তাদের পেছনে কয়েক শ’ ছেলে থাকে। যদি টাকাওয়ালা না হয় তাহলে এত টাকা কোথায় পাবে ওরা? এভাবেই তো দুর্নীতির নায়ক হয়ে উঠছে। পাচ্ছে দুর্নীতির মহাশিক্ষা। এর বাস্তবতা দেখতে চাইলে আপনার এলাকার গ্রুপিং রাজনীতির খবর নিন। বেশির ভাগের অবস্থা এটাই। অনেকে অবশ্য ‘ভালো’র চর্চা করছেন বা নিজের টাকায় রাজনীতি করছেন।
কিছু দিন আগে দেখলাম, রাস্তায় কাজ হচ্ছে। সড়কে পিচ ঢালাই না করে দেয়া হচ্ছে ইট। পিচ ঢালাই ভাঙার পর পিচের ছোট ছোট কালো টুকরা মানুষ নিয়ে যাচ্ছে। কিছু লোক পিচের সাথে জমা করে রাখা ইট ঠেলাগাড়িতে করে ইট নিচ্ছে, এমনভাবে যাতে ইট দেখা না যায়। আমাদের দেশের মানুষদের অবস্থা যদি এমন হয় তাহলে কিভাবে আমাদের দুর্দশা কমবে? আর যাদের ক্ষমতা আছে তাদের আচরণ কেমন?
কথা হলো, দুর্নীতি প্রতিরোধ করা যায় কিভাবে? প্রথমত থাকা চাই সততা আর সদিচ্ছা। এরপরই বিহিত ব্যবস্থা নেয়া সম্ভব। বাস্তব সত্য হলো, আমাদের ওপর থেকে নিচÑ প্রতিটি স্তরেই দুর্নীতি।
ক্ষমতাবান লোক থেকে সাধারণ মানুষ সংখ্যায় অনেক বেশি। তাই দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা যদি ঠিক হয়ে যান, তাহলে অধস্তনরাও ঠিক হয়ে যাবেন। সংসদ সদস্য ঠিক হয়ে গেলে তার নাম নিয়ে কেউ দুর্নীতি করতে সাহস করবে না। কয়েক কোটি মানুষকে সংশোধন করতে হবে না যদি কয়েক হাজার অফিসারকে ঠিক পথে আনা যায়। আর যদি অন্যায় প্রভাব খাটানো বন্ধ করা যায় তাহলে অবশ্যই ইনসাফ কায়েম হবে। ক্যান্সার যেভাবে মানুষকে আস্তে আস্তে মৃত্যু পর্যন্ত পৌঁছায়, দুর্নীতি সেভাবেই উন্নতির ক্ষেত্রে বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এখন অনেকের ক্যান্সার ব্যাধি থেকে মুক্তি পাওয়ার খবর পাওয়া যায়। আমরাও যদি ‘দুর্নীতি নামক ক্যান্সারের ওষুধ’ সঠিকভাবে ব্যবহার করি তবে প্রিয় জন্মভূমি থেকে দুর্নীতি উৎখাত করা সম্ভব। দেশ তখন এগিয়ে যাবে অনেক তাড়াতাড়ি। আসুন দেশপ্রেমে উজ্জীবিত হই, দুর্নীতিকে উৎখাত করি। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, জালালপুর জালালীয়া ফাজিল সিনিয়র মাদরাসা, সিলেট
