ভারত থেকে কঠিন শর্তে বিদ্যুৎ আমদানি করছে বাংলাদেশ। এ কারণে চাইলেও ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি বন্ধ করা যাবে না। বরং শর্ত বজায় রাখতে দেশীয় বিদ্যুৎকেন্দ্রই বন্ধ রাখতে হবে। অধিকন্তু, বাংলাদেশ ৫০০-এর স্থলে ৩০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আনলেও পুরো ৫০০ মেগাওয়াটের ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হবে।
উচ্চ মূল্যে ভারতীয় বিদ্যুৎ আমদানি এবং ভারতীয় বিদ্যুতের ওপর অতিনির্ভরতা প্রতিযোগিতামূলক দরে পণ্যোৎপাদন ব্যাহত করবে এবং ভারত বাংলাদেশকে জিম্মি করে ফায়দা লুটবে। ভারতের বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের কাছ থেকে এক হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ কেনার চুক্তি করেছে বাংলাদেশ। জ্বালানিবিষয়ক আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আদানির কাছ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ আমদানিতে বাংলাদেশের বাড়তি ব্যয় হবে ৭০ হাজার কোটি টাকা। ২৫ বছরে এ টাকা বাড়তি দিতে হবে। আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয় করে বাংলাদেশকে অতিরিক্ত ব্যয় করতে হবে জেনেও সরকার আগ্রহী দেখাচ্ছে। আদানি গ্রুপ থেকে বিদ্যুৎ ক্রয়ের যৌক্তিকতা নিরূপণে ২০১৬ সালে বিদু্যুৎ বিভাগের যুগ্মসচিব (উন্নয়ন) শেখ ফয়েজুল আমীনকে সদস্যসচিব করে গঠিত, ছয় সদস্যবিশিষ্ট কমিটি আগেই বলেছে, আদানি গ্রুপের বিদ্যুতের দাম বাংলাদেশী প্রতিষ্ঠানগুলোর চেয়ে বেশি পড়বে। তবুও বাংলাদেশ সরকার বুঝেশুনে, উচ্চমূল্যে ও কঠিন শর্তে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানি করেছে কাদের স্বার্থে?
ভেড়ামারা দিয়ে ভারতের বহরমপুর থেকে যে বিদ্যুৎ আসে, সে বিদ্যুৎ না কিনলেও বাংলাদেশকে ক্যাপাসিটি চার্জ দিতে হয়। ভারতের কাছ থেকে নেয়া ঋণের ক্ষেত্রেও কঠিন শর্ত গিলছে বাংলাদেশ। সহজ শর্তে ঋণ নেয়ার সুযোগগুলো কাজে না লাগিয়ে কঠিন শর্তে ভারতীয় ঋণ কার স্বার্থে? দেশে সুলভ ও সাশ্রয়ী দরে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সুযোগ কাজে লাগাতে সরকারের অনাগ্রহ-অনীহা একদিকে, অন্য দিকে উচ্চমূল্যে বিদ্যুৎ আমদানি এবং রেন্টাল-কুইকরেন্টাল বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদিত, উচ্চমূল্যের বিদ্যুৎ ক্রয়ে অতিআগ্রহ জনমনে বিরাট প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। অতিমূল্যে বিদ্যুৎ ক্রয় দেশে প্রতিযোগিতামূলক দরে পণ্যোৎপাদন অসম্ভব করে তুলছে। বিদ্যুতের অতিমূল্যের কারণে ব্যবসায় ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান টিকিয়ে রাখা কঠিন হবে। জ্বালানিতে পরনির্ভরতা ঝুঁকিপূর্ণ বলে সব দেশই জ্বালানিতে আত্মনির্ভরতায় জোর দিয়ে থাকে। গুরুত্বপূর্ণ জালানি হলেও বিদ্যুতে ভারত নির্ভরতা আত্মঘাতী হচ্ছে বলে বিশ্লেষকেরা মনে করেন। ভারত নির্ভরতার মাশুল নেপাল-ভুটান দেয়ার উদাহরণ চোখের সামনেই রয়েছে। ভারতের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার তিক্ত অভিজ্ঞতার কারণে দেশ দুটি এখন প্রতিবেশী অন্য দেশগুলোর দিকে ঝুঁকেছে। কয়েক বছর আগে খাদ্যসঙ্কটের আশঙ্কায় ভারত থেকে কয়েক লাখ টন চাল আমদানির চুক্তি করেও চাল পায়নি বাংলদেশ। ঠুনকো অজুহাত দেখিয়ে ভারত চাল প্রদানে অপারগতা প্রকাশ করে আর এই অজুহাতে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দিলে বাংলাদেশের অর্থনীতির কত বড় সর্বনাশ হবেÑ তা মাথায় রেখে ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয়া উচিত। হ
