২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর রাজধানীর পল্টনের রাজপথসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় প্রধানত আওয়ামী লীগের ক্যাডাররা লগি-বৈঠা দিয়ে যে তাণ্ডব ঘটিয়েছিল, যে নৃশংস হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিলÑ তা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছে। কত নিষ্ঠুর হলে তাজা জীবন্ত মানুষকে প্রকাশ্য রাজপথে পিটিয়ে হত্য করে, তাদের মৃতদেহের ওপরে পা তুলে নৃত্য করতে পারে, তা বোধগম্য। তখন এ দৃশ্য সব দুনিয়ার মানুষ দেখে মর্মাহত হয়েছিল। কোটি মানুষ চোখের পানি ফেলেছে। আওয়ামী লীগ নেত্রীর ঘোষণার প্রেক্ষাপটে কিছু লোক লগি-বৈঠার তাণ্ডব চালানো হয়েছিল। এই হত্যাকারী কারা সেটি অত্যন্ত স্পষ্ট। তারপরও এমন জঘন্য হত্যাযজ্ঞের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার হচ্ছে না। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর এমন জঘন্য হত্যাকাণ্ড ঘটাবার জন্য সে সময় পশ্চিমাঞ্চলের একটি জেলা থেকেও নাকি সন্ত্রাসী ঢাকায় আনা হয়েছিল। ভালো-মন্দ মানুষের আবাস সব জেলাতেই আছে। ২০০৬ সালে বাংলাদেশে সুপ্রিম কোর্টে যে তাণ্ডব ঘটানো হয়েছিল, ঘটনাক্রমে সেটির নেতৃত্বও দিয়েছিলেন ওই জেলার দুই আইনজীবী। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ঢাকার ধানমন্ডিতে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধুকে জঘন্যভাবে হত্যার করার পরও সেখানকার একজন নেতা উল্লাস করেছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন অধ্যাপককে এ সরকার বানিয়েছিল একটি সরকারি ব্যাংকের চেয়ারম্যান। শোনা যায়, যিনি চাটুকারিতার প্রতিযোগিতায় জিতে পদটি পেয়েছিলেন। তিনি চেয়ারম্যান হয়ে ব্যাংকটিকে কার্যত ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গেছেন। মিডিয়াতে তিনি নানা ধরনের ভিত্তিহীন কথা বলে থাকেন, যার অনেকটাই হাস্যকর ও বিদ্বেষাত্মক। তার বাড়িও সে জেলায়। আমার পরিচিত একজন কম্পিউটার ইঞ্জিনিয়ার বিভিন্ন অফিসে সফটওয়্যার দিয়ে বেশ কামাচ্ছেন। ঢাকায় দু’টি প্লটও কিনেছেন। অথচ তার সফটওয়্যার নিয়ে রয়েছে অনেক বিতর্ক। ২০১৫ সালে টিভির পর্দায় যখন আরাফাত রহমান কোকোর মৃত্যুর খবর দেখানো হচ্ছিল, তখন লোকটি তার সম্পর্কে খুব বাজে মন্তব্য করেছিলেন। শোকের সময় এমন মন্তব্য শুনে আমাদের অফিসের সবাই অবাক হয়ে গিয়েছিলেন। এই লোকটির বাড়িও একই জেলায়। ২০০৩ সালে চারদলীয় জোট সরকার যখন সন্ত্রাস দমনের জন্য ‘ক্লিন হার্ট’ অপারেশন চালাচ্ছিল, তখন সেখানকার তৎকালীন এক ছাত্রদল নেতা ঢাকায় এসে লুকিয়েছিলেন। ওই নেতার ছোট চাচা ছিলেন আমার বন্ধু। এই সূত্রে তরুণ নেতাকে প্রশ্ন করেছিলামÑ তার দল ক্ষমতায় থাকতেও কেন পালিয়ে থাকতে হচ্ছে তাকে? তিনি বলেছিলেন, তার ক্ষমতার অপব্যবহারের নানা ঘটনা। শুনে অবাক হয়ে যাই।
লোকমুখে জানা যায়, আওয়ামী লীগের সেখানকার এক নেতা ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর বিশেষ করে রাজধানী ঢাকাতে লগি-বৈঠা দিয়ে বর্বরতার ক্ষেত্রে বিরাট ভূমিকা রেখেছিলেন। পরবর্তী সময় তিনি দলীয় বড় একটি পদও পেয়েছেন। এরপর তিনি মিডিয়াতে মুখ ভেংচি দিয়ে বিভিন্ন ধরনের বাজে কথা বলে যাচ্ছেন এবং বিরোধী মতের লোকদের হুমকি দিয়েই চলছেন। আমাদের কোম্পানি এক ব্যক্তির কাছে কয়েক লাখ টাকা পাবে। কিন্তু তার কাছে এই টাকা চাওয়া হলে তিনি উল্টো হুমকি দিচ্ছেন। এই ব্যক্তির বাড়িও সেখানে। কিছু দিন আগে সেখানে কোর্টে ভিত্তিহীন মানহানির মামলায় হাজিরা দিতে ঢাকা থেকে গিয়েছিলেন একজন মজলুম সম্পাদক। ক্ষমতাসীন সরকারের দলীয় ক্যাডাররা তাকে কোর্ট প্রাঙ্গণেই পিটিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। কোনো মতে, রক্তাক্ত দেহ নিয়ে তিনি ঢাকা ফেরে আসেন। জেলাটির অনেক মানুষের মহব্বত, দরদ ও ভালোবাসা মনে রাখার মতো। তাদের মেহমানদারিও খুব প্রশংসনীয়।
যাহোক, গোপালগঞ্জ নিয়েও সমালোচনা কম নেই। তবে গোপালগঞ্জের অনেক লোকের গুণাবলি ও ভালোবাসার কথা ভুলে যাওয়ার মতো নয়।
২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে চরম নিন্দনীয়। এরকম হামলা চমর মানবতাবিরোধী। এটা স্পষ্ট নয় যে, আসলে কারা এহেন নৃশংসতা ঘটিয়েছে। দেখা যায়, সরকার তাদের বিরোধী মতের কয়েকজন লোককে এ ব্যাপারে জড়িয়ে দিয়েছে, এ ক্ষেত্রে আইনি প্রক্রিয়া দেখানো হয়েছে। কিন্তু ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর পল্টনের রাজপথে এবং অন্যান্য জায়গায় লগি-বৈঠা দিয়ে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছিল কয়েকজন মানুষকে যারা পৃথিবী থেকে চিরবিদায় নিয়েছেন। কিন্তু তারা রেখে গেছেন কতগুলো বিরাট প্রশ্ন। দেশবাসী সব নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চায়। কিন্তু মিডিয়াগুলো বিশেষ করে ২৮ অক্টোবরের নির্মম হত্যাকাণ্ড তুলে ধরছে না কেন? ঘ
