খেলায় ‘ট্রাম কার্ড’ একটি মজার বিষয়। নিজের শক্তিমত্তা বাড়াতে বিশেষ এই ক্ষমতা বেশ কাজে দেয়। ক্ষেত্রবিশেষে ‘সুপ্রিম পাওয়ার’কে নাকানিচুবানি খাওয়ায়। অবাক করার বিষয় হলো, খেলার বাইরেও এই ট্রামকার্ড নীতি ব্যবহার লক্ষ করা যায়। বিশেষ করে রাজনীতিতে এই ট্রামকার্ড বেশ জনপ্রিয় একটি খেলা। দলীয় জাতীয়তা বাড়াতে এই ট্রামকার্ড বেশ কাজে দেয়। ১৯৪৭-এ দেশ ভাগের ট্রামকার্ড হিসেবে কংগ্রেস ও মুসলিম লীগ; দুই দলই বেছে নেয় ধর্মকে। একদল ইসলামকে, অন্যদল হিন্দু ধর্মকে। ভারতে কিংবা পাকিস্তানের রাজনীতির মাঠে এই মজার ট্রামকার্ড খেলাটা সেই পুরনো নীতি ধরেই চলে আসছে। লক্ষ করা যায়, ভারতে যখন নির্বাচন নিকটে চলে আসে, নির্বাচনের প্রার্থীরা পাকিস্তানের চৌদ্দগোষ্ঠী উদ্ধার করে ছাড়ে। এতে আবার ওই নেতার সমর্থক বেড়ে চলে! ক্ষেত্রবিশেষে কষে পাকিস্তানকে গালাগাল করা দলটিই জয় পায়। আবার পাকিস্তানের বেলায় দেখা মেলে একই চিত্র। ওই ভারতের চৌদ্দগোষ্ঠী যে ভালোভাবে উদ্ধার করতে পারবে, সেই জনপ্রিয় নেতা। এটি পাকিস্তান-ভারতের নেতাদের একটা জনপ্রিয় ও মুখরোচক ট্রামকার্ড। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে বেশ দারুণ একটি ট্রামকার্ড ব্যবহার করেছেন। নির্বাচনের আগে তিনি বেশ আবোল-তাবোল কথা বলেছেন। আর তার এই কথাগুলো হাসি-তামাশা করে প্রকাশ করেছে পুরো বিশ্বের সংবাদমাধ্যম। এতটাই প্রচার করেছে যে, তৃতীয় বিশ্বের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরাও ডোনাল্ড ট্রাম্পকে চিনে ফেলেছে। তবে প্রথমে তাকে একজন বাতুল হিসেবে প্রচার করা হলেও এখন দৃষ্টিভঙ্গি সম্পূর্ণই বদলেছে। যখন তিনি আমেরিকার মতো সুপ্রিম পাওয়ারের অধিকারী একটি দেশের প্রেসিডেন্ট হলেন। কিন্তু ট্রাম্প তার ট্রাম্পকার্ডের মাধ্যমে ঠিকই সবার সামনে চলে এলেন। পরে সবাই বুঝলেন, ট্রাম্পের সেই আবোল-তাবোল বক্তব্যগুলো সত্যিই ছিল একটি ট্রামকার্ড। প্রতিটি দেশের রাজনীতিতেই ট্রামকার্ড খেলা থাকে, আছে। সেটি স্থান, কাল, পাত্র ও দেশ ভেদে তা বিভিন্ন রকম হয়ে থাকে। কথায় আসতে পারে, বাংলাদেশের রাজনৈতিক ট্রামকার্ড কোনটি? বাংলাদেশে ভারতবিরোধী ও পাকিস্তানবিরোধী ট্রামকার্ড বেশ প্রচলিত। বড় দু’টি রাজনৈতিক দলীয় সমর্থন জোগাতে ভালোভাবেই এই দু’টি দেশকে ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি বাংলাদেশী রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে পাকিস্তানবিরোধী কথাবার্তা শোনা গেলেও, ভারতবিরোধী কথা খুব অল্পই শোনা যায়। এককালের ভারতবিরোধী বিএনপি, এখন অনেকটা ভারতমুখী। মজার বিষয় হলো, বিএনপির নব্য ভারতমুখী নীতির কারণে, আওয়ামী লীগের সমমনা দলের নেতারা পাকিস্তানবিরোধী বক্তব্য দিয়ে তেমন তৃপ্তি পান না। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ট্রামকার্ড হিসেবে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের-বিপক্ষের সুরও বেশ আলোচিত। কিন্তু সমস্যা হলোÑ বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলই সম্প্রতি দেশে ট্রামকার্ড হিসেবে এ জামায়াতকেই বেশি ব্যবহার করে। জামায়াতকে ট্রামকার্ড হিসেবে আওয়ামী লীগই বেশি করে। মুক্তিযুদ্ধে এই দু’টি দল দুই মেরুতে ছিল। যেহেতু নীতির দিক থেকে ’৭১-এ আওয়ামী বিজিত, তাই জামায়াতকে দেখা হয় অপরাধী দল হিসেবে। জামায়াতকে ট্রামকার্ড ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ বেশ ভালো অবস্থানই তৈরি করেছে। ২০১৪ সালের নির্বাচনে বিএনপি নয়, যেন অলিখিতভাবে জামায়াতই ছিল আওয়ামী লীগের প্রধান বিরোধী দল। মজার বিষয় হলো, এখন দেশের প্রায় সব ক’টি দলই চায় জামায়াতকে ট্রামকার্ড হিসেবে ব্যবহার করে ফায়দা নিতে। যুক্তফ্রন্ট তৈরি নিয়ে জামায়াত ইস্যু ব্যবহার বেশ লক্ষণীয়। ছোট ছোট দলগুলো নিজ জোটেই কিভাবে জামায়াত ইস্যুকে ডেকে এনেছে। এমনকি ইসলামপন্থী দলগুলোও জামায়াতকে ইস্যু করে বক্তব্য ছাড়ে। যদিও দেশে জামায়াত নিবন্ধন হারানো একটি রাজনৈতিক দল। তবে এখন এই বাণী তুলে তেমন ফায়দা মিলছে বলে মনে হয় না। নির্বাচন আসন্ন। এরই মধ্যে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক কাদা ছোড়াছুড়ি। জোট বেঁধে বড় দু’লই রাজনীতির মাঠে। আওয়ামী লীগ তার উন্নয়নের কথা বলছে, বিএনপি জোট নির্যাতনের কথা বলে বেড়াচ্ছে। তবে তাদের কৌশলগত ট্রামকার্ডের নতুন কোনো ইস্যু এখনো দেখেনি সাধারণ জনগণ। যা খুব সহজেই জনগণকে কাছে ডেকে নেবে। হ
শিক্ষার্থী, ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ, কুমিল্লা