একজন লোকের চেহারা সুন্দর নয় বলে তাকে অপমান করার অধিকার আপনার নেই। চেহারার সৌন্দর্য আল্লাহর সৃষ্টি। এতে ব্যক্তির কৃতিত্ব নেই। ব্যক্তি নিজে তার চেহারার সৌন্দর্য তৈরি করেনি।
কেউ দেখতে সুন্দর না হলে সেটি তার দোষ নয়। তাই তাকে তিরস্কার করা যায় না।
একই কারণে কেউ সুন্দর বা সুন্দরী হলে তাকে অবহেলা করা যায় না। এমনটা করা বরং মানবতাকে নিয়ে হাসি ঠাট্টা করার শামিল। কেউ সুন্দরী হলে তাকে পুরস্কৃত করা মানে যারা সুন্দরী নয় তাদের তিরস্কার করা! যা খুবই অমানবিক।
বন্ধ হোক সুন্দরী প্রতিযোগিতার নামে সব ধরনের অশ্লীলতা, বেহায়াপনা আর নারী দেহের নগ্ন প্রদর্শনী। এটি নারীর মর্যাদার বিরোধী। সুন্দরী প্রতিযোগিতা মানবতার চূড়ান্ত অধঃপতন নির্দেশ করে। এভাবে নারীকে পণ্য বানানো তীব্র নিন্দনীয়।
মানুষ মানুষকে পণ্য করে।
মানুষ মানুষকে জীবিকা করে। মানুষকে পণ্য আর জীবিকা করার অন্যতম উপায় এসব সুন্দরী প্রতিযোগিতা। কৃতিত্ব তো একমাত্র তারই যিনি এ চেহারা বানিয়েছেন। মূর্খরা কখনোই এটি চিন্তা করে না। এ জন্যই তারা সুন্দরী প্রতিযোগিতার আয়োজন করে নারীকে ভোগের পণ্য বানায়। তারা নাকি এভাবে সমাজকে আর দেশকে কিছু দিতে চায়! আশ্চর্য! দেশকে কিছু দিতে হলে সৌন্দর্যকে ব্যবহার করতে হবে কেন? যুগে যুগে যারা মানব সভ্যতাকে ইতিবাচক কিছু দিয়ে ধন্য হয়েছেন, তারা কেউ তো নিজের সৌন্দর্য দিয়ে এটা করেননি!
বিজ্ঞানীরা বছরের পর বছর অক্লান্ত পরিশ্রম করে মানব সভ্যতাকে কিছু উপহার দেন।
গরিব বাবার সন্তানেরা একদিকে রিকশা চালায়, আর অন্যদিকে সহপাঠীর বই ধার করে পড়ে পরীক্ষায় কৃতিত্ব দেখায়। এভাবে সে উচ্চশিক্ষা লাভ করে পরে সমাজ আর দেশের জন্য অবদান রাখে।
দেশে গরিব পরিবারের হাজার হাজার মেধাবী শিক্ষার্থী টাকার অভাবে লেখাপড়া করতে পারছে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরা গবেষণা করার জন্য অর্থ বরাদ্দ পায় না। অথচ এসব সুন্দরী প্রতিযোগিতার জন্য কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে!
তাই নারীর মর্যাদার স্বার্থে এবং দেশ ও সমাজের স্থিতিশীলতার স্বার্থে অবিলম্বে এসব সুন্দরী প্রতিযোগিতা বন্ধ হোক। সুন্দরী প্রতিযোগিতার জন্য বরাদ্দ অর্থ বরং গরিব মেধাবী শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ার জন্য এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য ব্যয় করা হোক।
গ্রামের একটি ছেলে এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করার পর, বাড়ি থেকে দূরে বা শহরে গিয়ে মেসে থেকে ভালো কলেজে লেখাপড়া করতে পারে। কিন্তু গ্রামের একটি মেয়ের ক্ষেত্রে এ ধরনের সুযোগ বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই নেই। বিষয়টি দুঃখের। সন্তানদের সুশিক্ষিত করতে হলে সুশিক্ষিত মা দরকার। একটি উদীয়মান পরিবারকে ধ্বংস করার জন্য পরশ্রীকাতর লোকেরা সেই পরিবারের মূর্খ মা’কেই কিন্তু টার্গেট করে। তাই সুন্দরী প্রতিযোগিতার মতো অনুৎপাদনশীল ও অনৈতিক খাতে কোটি টাকা ব্যয় না করে ছাত্রীদের জন্য শহরে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে পূর্ণ নিরাপত্তাসহ মেসের ব্যবস্থা করা হোক। হ
লেখক : চিকিৎসক, ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, ঢাকা