শিক্ষার্থীরা আয় রোজগার করে না। কেউ বাপের টাকায়, কেউ টিউশনি করে, আবার কেউ পার্টটাইম জব করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে টাকা ম্যানেজ করে চলতে হয়। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের জন্য যানবাহনে হাফ ভাড়ার প্রচলন ঘটেছে। দুঃখের বিষয়, দিন দিন সেটি হারিয়ে যাচ্ছে এবং হাফ ভাড়া দিতে গেলে কখনো শিক্ষার্থীদের অপমান করা হচ্ছে, আবার অনেক সময় বাস থেকে নামিয়ে দেয়া হয়।
রাজধানীতে ২৪৬টি রুটে প্রায় আট হাজার বাস চলাচল করে। এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি রুটে হাফ ভাড়ার প্রচলন আছে। বিআরটিসির ১৮৫টি রুটে ৪৫২টি বাস চলাচল করছে। বিআরটিসি বাস না থাকলে হয়তো আমরা অনেকে জানতেই পারতাম না, শিক্ষার্থীদের জন্য হাফ ভাড়ার নির্দেশ আছে। তার বিরুদ্ধেও এখন হাফ ভাড়া না নেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
কিছু দিন আগে ‘নিরাপদ সড়ক চাই’ স্লোগান নিয়ে লাখ লাখ শিক্ষার্থী রাস্তায় নেমে আন্দোলন করেছে এবং ছাত্রছাত্রীদের ৯ দফা দাবির মধ্যে অন্যতম দাবি ছিল ‘শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে হাফ ভাড়া নিতে হবে’। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রে হাফ ভাড়া দিতে গিয়ে নিগ্রহের শিকার হতে হয়। বর্তমানে বাসে স্টুডেন্ট বলে হাফ ভাড়া দিতে চাইলে বলে, আমাদের বাসে নিয়ম নেই। নতুন করে যেটি প্রচলন ঘটেছে তা হলো,‘সামনে চেকার আছে’ বলে ফুল ভাড়া আদায় করা হয়।
আগে দেখা যেত, রাজধানীর আজিমপুর থেকে গাজীপুরের ৮ নম্বর বাস, সদরঘাট থেকে গাজীপুর ‘সুপ্রভাত’ বাস, যাত্রাবাড়ী থেকে বলাকা বাস ইত্যাদিতে হাফ ভাড়া দেয়া যেত। কিন্তু যে বাস টিকিট সিস্টেমে চলাচল করত সে বাসে দেয়া যেত না। কিন্তু ইদানীং সব বাসেই চেকার সিস্টেম চালু করা হয়েছে কয়েকটি বাস ছাড়া।
এই সিস্টেম চালু করে আজিমপুরের ৮ নম্বর বাস, সুপ্রভাত ইত্যাদি সব বাসেই হাফ ভাড়া উঠিয়ে দিয়েছে। মিরপুরগামী বিআরটিসি বাদে কোনো বাসেই বর্তমানে হাফ ভাড়া দেয়া যায় না এবং প্রায় সব রুটেই বাসের দরজায় লেখা থাকে ‘হাফ ভাড়া নেই’। এটা লেখার অর্থ, ছাত্রদের চলাচলের জন্য কার্যত বাসটি নিষিদ্ধ করা।
হাফ ভাড়ার প্রচলন শুধু বাংলাদেশে নয়, শিক্ষার্থীদের কথা বিবেচনা করে অনেক দেশেই এটি চালু আছে। যেমনÑ ভারতের কর্নাটক সরকার বাজেটে বিনা ভাড়ায় শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্য অর্থ বরাদ্দ করে থাকে। মেলবোর্ন, আমস্টারডাম প্রভৃতি শহরে বিনা ভাড়ায় শিক্ষার্থীরা যাতায়াত করতে পারে। মাল্টা, মরিশাসে শিক্ষার্থীরা বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করে। যুক্তরাষ্ট্রের শিকাগোতে বাস কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের জন্য কার্ড ব্যবস্থা চালু করেছে এটি দিয়ে তারা সব জায়গায় বাসে হাফ ভাড়া দিয়ে যেতে পারে।
দিল্লিতে ১০০ রুপির কার্ড দিয়ে প্রায় সারা মাস যাতায়াত করা যায়। এসি বাসে ২০০ রুপি লাগে। ভারতের কেরালা রাজ্যে শিক্ষার্থীদের জন্য সর্বনিম্ন ভাড়া আট রুপি করা হয়েছে। এভাবে অনেক দেশেই সুবিধা রয়েছে। আমাদের দেশে হাফ ভাড়ার সুবিধা দিন দিন উঠিয়ে নেয়া হচ্ছে।
ফলে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত করতে অনেক বেশি নিগ্রহ, অপমান ও হেনস্থার শিকার হতে হয়। এখনই যদি কর্তৃপক্ষ লাগাম টেনে না ধরে, তাহলে একসময় শিক্ষার্থীরা কোনো যানে হাফ ভাড়া দিতেই পারবে না।
অতএব, শিক্ষার্থীদের এই সুবিধা বহাল করতে ব্যবস্থা গ্রহণ করতে কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষার্থীরা আয় রোজগার করে না। কেউ বাপের টাকায়, কেউ টিউশনি করে, আবার কেউ পার্টটাইম জব করে কিংবা অন্য কোনো উপায়ে টাকা ম্যানেজ করে চলতে হয়।...
