বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বা WHO-এর মতে, বিশ্বে প্রতি ৪০ সেকেন্ড কোথাও না কোথাও মানুষ আত্মহত্যা করেছে। প্রতি বছর পৃথিবীতে আট লাখেরও বেশি মানুষ আত্মহত্যা করেছে। এ ছাড়া আরো শত শত মানুষ আত্মহত্যার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাংলাদেশ এ ক্ষেত্রে দশম অবস্থানে আছে। আত্মহত্যার জন্য যে পদ্ধতিগুলো ব্যবহার করা হয় তা হলোÑ ওষুধ অথবা কীটনাশক খাওয়া; ফাঁসিতে ঝোলা; আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার ইত্যাদি। গবেষণায় দেখা গেল, পৃথিবীতে ১৫-২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে আত্মহত্যাই মৃত্যুর দ্বিতীয় বৃহৎ কারণ। এর অনেক কারণ রয়েছে। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোÑ যেমন, পারিবারিক অশান্তি; বেকারত্বের বোঝা; প্রেমে ব্যর্থতা বা পারিবারিক অস্বীকৃতি; সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন হওয়া; বিভিন্ন হতাশা ও টেনশন; অপমান ও অভিমান ইত্যাদি। বাংলাদেশও এর থেকে পিছিয়ে নেই। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সড়কে দুর্ঘটনা যেমন বাড়ছে, বাড়ছে আত্মহত্যার প্রবণতাও। কিছু দিন আগে তারই উদাহরণ ভিকারুননিসা নূন ছাত্রী অরিত্রীর আত্মহত্যা। প্রতিটি মানুষই ভুল করে থাকে। ভুলের ধরনের ওপর বিবেচনা করা হয় তার অপরাধটা কেমন। প্রতিটি অপরাধেরই সুনির্দিষ্ট শাস্তির বিধান রয়েছে। কিন্তু কোনো আইনেই লেখা নেই যে, আত্মহত্যা অপরাধের সমাধান। আত্মহত্যা যেমন সামাজিক ব্যাধি, তেমনি ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে তার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেয়া হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, পৃথিবীতে যত আত্মহত্যার ঘটনা ঘটে, তার ৭৫ শতাংশ হয়ে থাকে নি¤œ বা মধ্য আয়ভুক্ত দেশগুলোতে। হয়তো ভিকারুননিসা নূন স্কুলের শিক্ষক অরিত্রীর পরিবারের সাথে খুব মন্দ আচরণ করছেন, তাকে খুব অপমান করছেন। তার ক্ষমা প্রার্থনাকে উপেক্ষা করা হয়েছে। তাকে স্কুল থেকে বহিষ্কার নেতিবাচক কাজ। তার মানে এই নয়, বাবাকে অপমান করার অভিযোগে সন্তানকে আত্মহত্যার মতো একটা জঘন্য পথ বেছে নিতে হবে। এ জন্য সমাজে সুনির্দিষ্ট আইন ও শাস্তির বিধান রয়েছে। আত্মহত্যা করলেই যে তার পরিবারের অপমান লাঘব হবে, তা কিন্তু নয়। কিন্তু সমাজে আত্মহত্যার প্রবণতা দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ সবসময় অনুকরণপ্রিয়। একজনের আত্মহত্যা দেখে অন্যজনের মনে কিন্তু এ ভয়াবহ প্রবণতা জন্ম নিতে পারে। এর জন্য পরিবার, সমাজ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে খুব সচেতনভাবে কাউন্সেলিং করতে হবে। বিভিন্ন বেসরকারি সংগঠনকেও এগিয়ে এসে সমাজে এর নেতিবাচক দিক তুলে ধরতে হবে। এ ক্ষেত্রে পরিবারকে খুব বেশি দায়িত্ব নিতে হবে। তা হলেই মনে হয় অরিত্রীর মতো কোনো তরুণ-তরুণীকে অকালে বিদায় নিতে হবে না। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ
belaldc14@gmail.com