মানুষমাত্রই নিজেকে অন্যের কাছে সুন্দরভাবে উপস্থাপন করতে চায়। এটি মানুষের সহজাত প্রবৃত্তি। মানুষ এটাও চায় যে, অন্যে তাকে উপযুক্ত ও উৎকৃষ্ট ভাষায় সম্বোধন করুক। কাউকে যত প্রীতিপূর্ণ ভাষা ও আবেগময় ভঙ্গিতে সম্বোধন করা হবে, এতে সম্বোধনকারীর আন্তরিকতা ও বন্ধুত্বের ভাব তত বেশি প্রকাশিত হবে। ফলে পারস্পরিক ভ্রাতৃত্বের বন্ধন সুদৃঢ় হবে। মানুষকে মন্দ নামে, পশুর নামে ডাকা কিংবা তার নাম বিকৃত করে অপমানসূচক বা অশ্লীলভাবে সম্বোধন করা আমাদের সমাজে অধিক লক্ষণীয়। এটি একটি কবিরা গুনাহ যদিও এটি আমরা ভুলেই গেছি। বর্তমান সমাজে ইসলামী নামগুলো হাসি-তামাশার খোরাক হয়ে উঠেছে অনেকের কাছে। আমরা মুসলিম হয়েও অজ্ঞতাবশত এমন অন্যায় কাজ করেই চলছি। কিছু উদাহরণ দিলে বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে উঠবে। টিভি-রেডিওতে ‘প্রাণ ম্যাঙ্গো ক্যান্ডি’র কল্যাণে একটি নাম মজাদার হিসেবেই দেখা হয়ে থাকে। যাদের নাম ‘মোখলেস’ তারা কিন্তু বিপাকে পড়েন। অথচ মোখলেস শব্দটি ‘এখলাস’ শব্দ থেকে এসেছে যার অর্থ ‘একনিষ্ঠভাবে ইবাদত করা’। ‘মফিজ’ একটি আরবি শব্দ যার অর্থ সফলকাম হওয়া। সাধারণত পরকাল প্রসঙ্গে শব্দটি ব্যবহার করা হয়ে থাকে। ম্যাজিক টুথ পাউডারের বিজ্ঞাপন দেখে আমরা নামটিকে নিয়ে ঠাট্টা করে থাকি। পরকালের সফলতা নিয়েই যদি ঠাট্টা করি, তবে কি আমরা পরকালে সফলতা লাভ করতে পারব? সমাজে ‘আবুল’ অন্যতম ঠাট্টামূলক নাম। আমরা এই নামের মাহাত্ম্য জানি না। নবী হজরত মুহাম্মদ সা:-এর উপনাম ছিল ‘আবুল কাশেম’ যার অর্থ, কাশেমের পিতা। গভীরভাবে ভেবে দেখা উচিত আমরা কী নিয়ে ব্যঙ্গ করছি। সর্বাধিক মজা করা হয় ‘কুদ্দুস’ নামটিকে নিয়ে। অথচ এটি আল্লাহর একটি গুণবাচক নাম, যার অর্থ মহাপবিত্র। বলতে হবে, আবদুল কুদ্দুস। আমরা আল্লাহ তায়ালার নাম নিয়েও তামাশা করছি! মুমিন নাম নিয়েও যথেষ্ট ব্যঙ্গ হয় আমাদের সমাজে। পূর্ণাঙ্গ ঈমানদার ব্যক্তিকেই মুমিন বলা হয়। অথচ আমরা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘কস কি মমিন’ বলে নামটিকে ব্যঙ্গ করে থাকি। মহান আল্লাহ তায়ালা আল কুরআনের সূরা হুজুরাতের ১১ নম্বর আয়াতে বলেছেন : ‘হে মুমিনগণ! কোনো পুরুষ যেন অপর পুরুষকে উপহাস না করে; কেননা সে উপহাসকারী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে এবং কোনো নারী যেন অপর নারীকে উপহাস না করে; কেননা সে উপহাসকারিণী অপেক্ষা উত্তম হতে পারে। কেউ ঈমান আনার পর তাদের মন্দ নামে ডাকা গুনাহ। যারা এমন কাজ করার পর তওবা না করে তারাই জালিম।’
আজকের সমাজে এমন অনেক মানুষ আছে যারা উপনামে সমাজে প্রসিদ্ধ এবং যাতে তাকে চিনতে সুবিধা হয় এবং যাতে সে দুঃখ ও রাগ অনুভব করে না বা তার আপত্তি থাকে না, এমন উপনামে ডাকা দোষের কিছু নয়।
কোনো মানুষকে গাধা, গরু, ভেড়া, ছাগল, কুকুর, শুয়োর, পাঁঠা ইত্যাদি বলে ডাকা মারাত্মক অপরাধ। প্রথমত, এটি মিথ্যা; কারণ সে তো মানুষ, পশু নয়। হজরত মুহাম্মদ সা:-এর ‘কুনিয়ত’ ছিল আবুল কাশেম। তিনি তার নিজের সন্তানের নাম রেখেছিলেন ‘ইব্রাহীম’। পবিত্র আল কুরআনে ২৫ জন নবীর নাম উল্লেখ করা আছে। এর থেকে পছন্দসই যেকোনো একটি নাম নবজাতকের নামে রাখা যেতে পারে। আল্লাহ যেন আমাদেরকে তার দ্বীনের পথে সঠিকভাবে চলার তাওফিক দান করেন, আমীন। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ইসলামী বিশ^বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
