এক বিঘা জমিতে সবজি চাষ করতে খরচ হয় ২০ হাজার টাকার মতো। অথচ সবজি বিক্রি করে ১৫ হাজার টাকাও উঠছে না। কৃষকের লোকসান পাঁচ হাজার টাকা। এই চিত্র দেশের উত্তরাঞ্চলের। তবে সব জায়গায়ই কৃষকের লোকসান হচ্ছে। একটু কমবেশি আরকি। মওসুমের শুরুতে মুলার মণ ছিল এক হাজার ২০০ টাকা। এখন তা ২০০ টাকা। প্রতি কেজি মুলা পাঁচ টাকা। রাজধানী শহর ঢাকায় মুলার কেজি ২০ থেকে ২৫ টাকা। কৃষক যে মুলা পাঁচ টাকা কেজি বিক্রি করে। কয়েক দফা হাত বদল হয়। হাত বদলকারীরা লাভবান হয় বেশি। কৃষক হয় ক্ষতির শিকার।
মধ্যস্বত্বভোগীদের নিয়ে অনেক কথা হয়। তাদের নিয়ন্ত্রণ, অবৈধ মুনাফা রোধ করা হবে। অনেক দিন থেকেই এমন কথা শুনে আসছি। আজো কৃষকের দুঃখ দূর করার ব্যবস্থা হয়নি। বাড়তি আয়ের জন্য যারা সবজি চাষ করেছিলেন। তাদের অবস্থা আরো শোচনীয়। এ মওসুমে আবার ধান বিক্রি করেও কৃষকের লাভ হয়নি। এমন হলে কৃষক বাঁচবে কিভাবে? দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে কৃষিপণ্য সংরক্ষণের জন্য আধুনিক গুদামের দরকার। তাও করা হচ্ছে না। কৃষক না বাঁচলে কৃষির উন্নতি হবে না। সামান্য লাভ হলেই খেটেখাওয়া কৃষক খুশি হয়। তাদের মুখে হাসি ফুটে। কৃষক সবজির সঠিক মূল্য থেকে বঞ্চিত হন। প্রতি বছরই এ ঘটনা ঘটে। এটা নতুন নয়। তবে এ সমস্যা দূর করতে কোনো ব্যবস্থা নেই। আমাদের বিজ্ঞানীরা সবজির আধুনিক চাষাবাদ ও জাত উদ্ভাবন করেছেন। ধানেরও নতুন জাত এসেছে। কৃষিতে নতুন যন্ত্রপাতির ব্যবহার বেড়েছে। তবে দুঃখ এটাই কৃষকের জীবনে পরিবর্তন কমই এসেছে। বন্যা, ঝড়, খরা প্রভৃতি প্রকৃতিক দুর্যোগ যখন তখন হানা দিয়েছে। কৃষক সব হারিয়ে পথে বসেছে। আবার দাড়া সোজা করে দাঁড়িয়েছে। সবুজ ফসলে ছেয়ে দিয়ে জমি। লোকসান সত্ত্বেও কৃষক হাল ছাড়েনি। তবে আর কতকাল হাল ধরে রাখতে পারবে কে জানে। এত কিছুর পরেও দেশে সবজির উৎপাদন কমেনি। ও দিকে, জমি কমেছে, ধানের উৎপাদন বেড়েছে। বাজার মনিটরিংয়ে যারা কাজ করেন, তারা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করলে বাজারের এমন দশা হওয়ার কথা কি? সরকার ফসলের ন্যায্যমূল্য পাওয়ার ব্যবস্থা করবে, এটিই প্রত্যাশা করছি। হ
