প্রতি বছর একঝাঁক অচেনা-অজানা নতুন শিক্ষার্থী নিয়ে প্রতিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগের যাত্রা শুরু হয়। প্রত্যেক শিক্ষার্থী আলাদা বৈশিষ্ট্যের হওয়ায় তাদের মধ্যে থাকে ভিন্নতা। এ ভিন্নতার কারণেই অনেক সময় জন্ম নেয় দ্বন্দ্ব-কলহ ও বিভেদ। এ ক্ষেত্রে বিভাগীয় শিক্ষাসফর কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। কারো প্রতি কোনো ভুল ধারণা থাকলে সফরের সময় তা দূর হয়ে যায় নিমিষেই। আর যদি সেই সফর হয় কোনো সমুদ্র তীরে, তাহলে তো কথাই নেই।
সমুদ্রের নীল জলে গা ভাসিয়ে ফুরফুরে মনে কথা বললেই হয়ে যায় যে কারো সাথে দোস্তি। এ যে এককাপ চায়ের আদলে দু’জন মানুষের মান-অভিমান ও দ্বন্দ্বের অবসান ঘটে সহজেই। তাই প্রতিটা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাসফর নিঃসন্দেহে বিভাগের শিক্ষার্থী-শিক্ষকের মধ্যে আন্তরিকতা ও পারস্পরিক সম্পর্ক বাড়াতে সহায়তা করে বলে বেশির ভাগ শিক্ষক-শিক্ষার্থী মনে করেন।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে অনেক সময় যেকোনো ছাত্রের প্রতি শিক্ষকের জন্ম নিতে পারে রাগ-অনুরাগ। হতে পারে ভুল বোঝাবুঝি। স্কুল-কলেজের শিক্ষার ধরন আর বিশ্ববিদ্যালয়ের লেখাপড়ার মধ্যে রয়েছে অনেক তফাৎ। স্কুল-কলেজ মাতানো কোনো শিক্ষার্থীর কোনো পুরনো অভ্যাস বিশ্ববিদ্যালয় জীবনেও থেকে যেতে পারে। এগুলো পরিবর্তনে শিক্ষার্থীকে সময় দিতে হয়। পরিস্থিতিই তাকে বুঝিয়ে দেয় তার কোনো অভ্যাসগুলো বদলানো প্রয়োজন।
শিক্ষার্থী নমনীয় না হলে, শ্রেণিকক্ষে উচ্চৈস্বরে প্রশ্ন করলেÑ শিক্ষক যেমন মনোক্ষুণœœ হন; তেমনি শিক্ষকের কটু কথাতেও আঘাত পেতে পারেন কোনো শিক্ষার্থী। শিক্ষকের কারণেও ভাঙতে পারে শিক্ষার্থীর মন। অনেকের জানার আকাক্সক্ষা থাকে একটু বেশি। জ্ঞানার্জনের তৃষ্ণা থাকে প্রবল। সব শিক্ষকের কাছ থেকে জ্ঞান আহরণ করতে চান। কিন্তু শিক্ষক যদি সঠিকমতো যাচাই না করে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হন; তা হলে ভুল বোঝাবুঝি হওয়া স্বাভাবিক। বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তাই ছাত্র-শিক্ষকের মধ্যে সম্পর্ক নির্ণয়ের পর বন্ধন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এ বন্ধন নির্ণীত হতে পারে শিক্ষাসফরে।
বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে পা রেখেই একজন শিক্ষার্থী ভিন্ন একটি পরিবেশে প্রবেশ করেন। তাই শিক্ষকের সাথে সম্পর্কটা যথার্থ হলেই যেকোনো ছাত্রের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে চল হয়ে ওঠে সহজ। মনোবল হয় দৃঢ়। বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন অনেক ছাত্রের জীবনে আসতে পারে ধূসর সময়। এতে ভাঙতে পারে হৃদয়। এমন মুহূর্তগুলোতে হয়তো অনেক শিক্ষকই প্রকৃত অভিভাবক হয়ে তার পাশে দাঁড়াতে পারেন। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ে স্টাডি ট্যুর প্রয়োজন। শুধু শ্রেণিকক্ষেই পাওয়া যায় না শিক্ষা। নানাভাবে অর্জন করতে হয়। তাই শিক্ষাসফরে সমুদ্রের বিশালতা দেখবে, ঢেউয়ের মহত্ব দেখলে, মোহনা দেখলে মন হয় প্রফুল্ল হয়ে ওঠে। প্রকৃতির কাছাকাছি হলে মানুষের মন হয়ে ওঠে খানিকটা অবৈষয়িক। ফলে গড়ে উঠতে পারে ছাত্র-শিক্ষক কাক্সিক্ষত সম্পর্ক। একই সাথে সহপাঠীদের সাথে গড়ে ওঠে হৃদ্যতা। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়