গ্যাসের দাম বাড়ানো হলে শিল্প, কলকারখানা ও পরিবহন খাতে ব্যয় বাড়বে। বিপর্যস্ত হবে জনজীবন। অর্থনীতিতে দেখা দিবে অশনিসঙ্কেত। এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের চেয়ারম্যান বলেছেন, যৌক্তিক হারে গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে। জনমনে প্রশ্ন, যারা গ্যাস আমদানি করেন; তারা তো এ খাতে লোকসান দেন না, বরং লাভজনক অবস্থানে আছেন। তা হলে কেন গ্যাসের দাম বাড়ানো হবে? আমরা মনে করি, এ সিদ্ধান্ত সাধারণ জনগণের স্বার্থ পরিপন্থী। গ্যামের দাম বাড়ানোর সিদ্ধান্ত যাবে মুষ্টিমেয় কিছু ব্যবসায়ীর পক্ষে। তা ছাড়া সরকার গ্যাসে ভর্তুকি দিচ্ছে না। এরপরও দাম বাড়ানো কার স্বার্থে? অথচ গ্যাসের দাম বাড়লে শিল্পকারখানায় ব্যয় বেড়ে যাবে, পরিবহন খাতে দেখা দেবে অরাজকতা। ২০০৯ সালে গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছিল ১১ শতাংশ। ২০১৫ সালে বাড়ানো হয়েছিল ২৬ শতাংশ, ২০০৭ সালে ১১ শতাংশ, এবার বিতরণ কোম্পানিগুলোর ১০২ শতাংশ দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে।
বিজিএমইএ জানিয়েছে, দেশে মোট উৎপাদিত গ্যাসের মাত্র ১৬.৬৯ শতাংশ সরবরাহ করা হয় শিল্প খাতে। বাংলাদেশে মোট গ্যাস সরবরাহের আনুমানিক সাত-আট শতাংশ যায় পোশাক খাতে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের গণশুনানিতে শিল্পে গ্যাসের দাম বর্তমানে প্রতি ঘনফুট ৭.৭৬ পয়সা থেকে বাড়িয়ে ১৮.৪ পয়সায় উন্নতি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সে অনুযায়ী, শিল্প খাতে গ্যাসের মূল্য ১৩২ শতাংশ বাড়বে। এ দিকে বিশ^ বাজারে পোশাকের দাম না বাড়লেও প্রতি বছর গড়ে প্রায় আট শতাংশ হারে শিল্পের উৎপাদন খরচ বাড়ছে। ২০১৪ থেকে ২০১৮ সময় মোট উৎপাদন খরচ বেড়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ। শিল্পে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাসের চাপ পাওয়া যাচ্ছে না। এসব কথা উল্লেখ করে বিজিএমইএ সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেছেন, গ্যাস পেলেও তা অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত। আবার যতটুকু গ্যাস ব্যবহার করছি; তার চেয়েও বেশি বিল পরিশোধ করছি। আমরা দীর্ঘ দিন ধরে ইভিসি মিটার চেয়ে আসছি, যাতে চাপ অনুযায়ী গ্যাসের দাম দিতে পারি। দুই-তিন বছরেও গ্যাস বিতরণ কোম্পানি আমাদের ইভিসি মিটার দিতে পারেনি। বিকেএমএইএর ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মনসুর আহমেদ বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ানোর প্রভাবে আমাদের ব্যাকওয়ার্ড লিঙ্কেজ শিল্প বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। সেগুলো বন্ধ হয়ে গেলে আমরা কী করব? গ্যাসের দাম বাড়ানোর জন্য তিতাস গ্যাস ও বিইআরসিতে ঘাপটি মেরে থাকা কিছু লোক আছেন; যারা আমাদের কথা চিন্তা করেন না। তারা একচেটিয়া সিদ্ধান্ত নিতে চান। বস্ত্র ও পোশাক খাতের কারণে এমডিজি অর্জন হয়েছে। এখন এসডিসি অর্জন আমাদের বিবেচনায় নিতে হবে। বাংলাদেশ বস্ত্র কারখানা সমিতির সভাপতি মো: আলী বলেন, গ্যাসের দাম বাড়লে প্রতি কেজি সুতার উৎপাদন খরচ ৭.৭২ পয়সা বা ৯ সেন্ট হারে বাড়বে। যেখানে বর্তমান স্থানীয় উৎপাদনকারীদের প্রতি কেজি সুতায় ৩০ টাকা করে ভর্তুকি দিতে হবে। গ্যাসের দাম বাড়ালে বস্ত্র খাত ক্ষতিগ্রস্ত হলে দেশের অর্থনীতিতে একাধিক প্রভাব পড়বে। হ
লেখক : সভাপতি, সুশীল ফোরাম