তিস্তা শীতকালে শুকিয়ে ধু-ধু বালুচর। যেন এক মরুভূমি। ভারতের একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা এক মৃতপ্রায় নদী। পানির সঙ্কটে জনসাধারণের জীবনযাত্রা ও জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে।
তিস্তা নদী ভারতের সিকিমের পার্বত্য অঞ্চলে উৎপত্তি হয়ে নীলফামারী দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। তিস্তাকে উত্তরের জীবনরেখা বলেও অবহিত করা হয়। তিস্তা ঘিরেই লালমনিরহাট, রংপুর, গাইবান্ধা, নীলফামারী অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্বাহ হয়। নদীতে পানির অভাবে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা জেলেরা এখন বেকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। কৃষকেরা পানির অভাবে সেচ দিতে পারেন না কৃষিজমিতে। তিস্তা এখন হেঁটে পাড়ি দেয়া যায়। তাই খেয়াঘাটের মাঝিদের আর নৌকা বাইতে হয় না। এ কারণে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তারাও। অনেকে পেশা ছেড়ে জীবিকার তাগিদে অন্য পেশার দিকে ঝুঁঁকলেও সুবিধা করতে পারছেন না। পানির অভাবে নদীপাড়ের গাছপালা শুকিয়ে মরে যাচ্ছে। তিস্তাপাড়ের পাখিরাও পাড়ি দিয়েছে অন্যত্র। সব মিলিয়ে এক দুর্বিষহ জীবনযাপন করছেন তিস্তা পাড়ের মানুষেরা।
শীতে পানির অভাবে সেচ দিতে পারছেন না কৃষকেরা। এতে আশানুরূপ ফলন না পাওয়ায় প্রতি বছরই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন তারা। কিন্তু বর্ষায় ভারত অতিরিক্ত পানি ছেড়ে দিলে বন্যা দেখা দেয় এসব অঞ্চলে। সৃষ্ট বন্যায় ফসলহানিসহ ঘরবাড়ি ছাড়া হন মানুষ। ভারতের একতরফা নদী শাসনে তিস্তা যেন উত্তরাঞ্চলের অভিশাপে পরিণত হয়েছে।
সম্ভাবনা জাগিয়েও বারবার থেমে যাচ্ছে তিস্তা চুক্তি। ১৯৮৩ সাল থেকে তিস্তার পানি বণ্টন নিয়ে আলোচনা চলে এলেও এখন পর্যন্ত ৩৬ বছরে কোনো মীমাংসায় পৌঁছাতে পারেনি দুই দেশ। এর মাঝে ২০১১ সালে তিস্তা চুক্তি হওয়ার কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে এসে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর আপত্তির কারণে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী মনমোহন সিং চুক্তি সম্পাদন করতে পারেননি। ২০১১ সালের পর আট বছর কেটে গেছে, এত দিনেও সমস্যার সমাধান করতে পারেনি বাংলাদেশ।
ভারত তিস্তার বদলে এখন তোরসা, জলঢাকা নদীর পানির কথা বলছে। যা তিস্তার পানি না দেয়ার নতুন কৌশল। ১৯৯৭ সালে আন্তর্জাতিক পানি প্রবাহ কনভেনশন ২০১৪ সালের ১৭ আগস্ট থেকে আইনে পরিণত হয়েছে। সেখানে উজানের দেশ থেকে ভাটির দেশে প্রবাহিত নদীর পানি কিভাবে ব্যবহৃত হবে, তার সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে। ভারতে যেটি তেরেসা নদী, বাংলাদেশ তা দুধকুমার। ভারতে যা জলঢাকা নদী, বাংলাদেশে তা ধরলা নদী। এ নদীগুলোতে তেমন উল্লেযোগ্য পানি থাকে না, যা দিয়ে তিস্তার পানি সঙ্কট দূর করা সম্ভব।
২০১৪ সাল থেকেই ভারত একতরফা তিস্তার পানি প্রত্যাহার করেছে। আর এ ক্ষেত্রে আমাদের কূটনৈতিক তৎপরতা পর্যাপ্ত নয়। আগের কূটনৈতিক কৌশলে যেহেতু কোনো সমাধান আসছে না, তাই বাংলাদেশের উচিত কূটনৈতিক কৌশলে পরিবর্তন আনা। এভাবেও যদি সমস্যার সমাধান না হয়, তা হলে আন্তর্জাতিক আদালত বা নদী সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক ফোরামের যাওয়া উচিত। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
mozammeldu93@gmail.com
তিস্তা শীতকালে শুকিয়ে ধু-ধু বালুচর। যেন এক মরুভূমি। ভারতের একতরফা তিস্তার পানি নিয়ন্ত্রণের কারণে বাংলাদেশ অংশে তিস্তা এক মৃতপ্রায় নদী। পানির সঙ্কটে জনসাধারণের জীবনযাত্রা ও...
