জাতীয় অর্থনীতিতে তাঁতশিল্পের অবদান ছোট করে দেখার মতো নয়। শিল্পের এই গুরুত্বপূর্ণ খাতে অসংখ্য মানুষের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের মাধ্যমে দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতিতে যথেষ্ট অবদান রাখছে। ঐতিহ্যবাহী এ তাঁতশিল্পের প্রসার এবং নতুন নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বিভিন্ন স্থানে নানা ধরনের প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার। এসব প্রকল্পের মধ্যে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলার কুতুবপুরে ‘শেখ হাসিনা তাঁতপল্লী’ একটি। ২০১৭ সালে এ প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।
সম্ভাবনাময় এ তাঁতপল্লী প্রস্তাবনায় কর্মসংস্থানের সুযোগের কথা চিন্তা করে এক দিকে যেমন উচ্ছ্বসিত স্থানীয়রা, তেমনি জমিজমা ও বসতবাড়ি অধিগ্রহণ আতঙ্কে অনেকে উদ্বিগ্ন। প্রস্তাবিত এ প্রকল্পের যে সীমানা নির্ধারণ করা হয়েছে; এর বেশির ভাগই ফসলি জমি এবং বসতবাড়ি। স্থানীয় অধিবাসীদের আয় কিংবা জীবিকার একমাত্র উৎস এই ফসলি জমি। বেশির ভাগ মানুষ এই জমি থেকে যে ফসল উৎপাদন করেন, তা দিয়ে পরিবারের প্রয়োজন মিটিয়ে উদ্বৃত্ত অংশ বিপণনের মাধ্যমে পরিবারের ভরণপোষণ করে থাকেন।
একবিংশ শতাব্দীর এ সময়ে এসে বিশ্ব যখন ভবিষ্যৎ খাদ্য সঙ্কট মোকাবেলায় উদ্বিগ্ন; তখন বারো মাস ফসল ফলে এমন জমি কেন তাঁতপল্লীর জন্য অধিগ্রহণ করতে হবে তা আমাদের কাছে বোধগম্য নয়। অন্য দিকে, প্রশ্ন দেখা দিয়েছে বসতবাড়ি অধিগ্রহণ নিয়েও। যেসব জমি অধিগ্রহণ করা হবে সেখানে রয়েছে বিপুল গাছপালা। প্রস্তাবিত তাঁতপল্লী গড়ে তুলতে এসব গাছ কাটা পড়বে। এ ছাড়া জমির প্রকৃত দর পাওয়া নিয়ে ভূমি মালিকদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। বর্তমান স্থানীয় বাজারদর (৩৩ শতাংশের এক বিঘা ৬০ লাখ টাকা) আর সরকারি বাজারদরে বিশাল পার্থক্য থাকায় ক্ষতিপূরণ হিসেবে তিন গুণ দাম নির্ধারণ করলেও ভুক্তভোগীরা তাদের প্রত্যাশিত ন্যায্যমূল্য পাওয়া নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।
জাতীয় স্বার্থে তাঁতশিল্পের প্রসারে এ ধরনের উদ্যোগকে যেমন সাধুবাদ জানাতে হয়; তেমনি জলবায়ুর বিরূপ প্রভাব এবং স্থানীয়দের সর্বস্ব হারানোর বিষয়টিও আমলে নেয়া দরকার। যা উপেক্ষা করা যায় না। ফসলি জমি ও বসতবাড়ি রক্ষা করে এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা যায় কি না তা ভেবে দেখতে হবে সরকারকে। একেবারেই যদি স্থান পরিবর্তনের সুযোগ না থাকে; সে ক্ষেত্রে জমি অধিগ্রহণ করায় যারা ক্ষতিগ্রস্ত হবেন, তাদের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নিয়ে উদ্ভূত এ সঙ্কট মোকাবেলা করা যেতে পারে। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ahmedmoonirr1995@gmail