বর্তমান সময়কে বলা হয় তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির যুগ। তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে উৎকর্ষ ব্যক্তিরাই নিজেদের দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। একটি দেশকে এগিয়ে নিতে সে দেশের বেশির ভাগ তরুণকে আইটি ক্ষেত্রে সুশিক্ষিত হতে হবে। আইটি সমৃদ্ধ যুবসমাজ চাকরির বাজারে বিশেষ সুবিধা লাভ করে থাকে। ২০০৪ সালে ফেসবুক উদ্ভাবনের পর তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে এক অনন্য প্রবাহমানতা লক্ষ করা যায়। ফেসবুকের মাধ্যমে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত সহজেই জানা যায়, চলমান ঘটনা সম্পর্কে জানা যায় অতি সহজভাবে। ফেসবুকে অনেক দিন দেখা না হওয়া বন্ধুর সাথে ভার্চুয়ালি ভিডিও চ্যাট, মেসেজিংও করা যায়।
গুগল আবিষ্কার হওয়ার পর তথ্যপ্রযুক্তির ক্ষেত্রে উৎকর্ষতা সৃষ্টি হয়। সৃষ্টি হয় বিভিন্ন অজানা জিনিস সম্পর্কে জানার প্রতি অসাধারণ স্পৃহা। পৃথিবীর যেকোনো জিনিস সম্পর্কে সার্চ দিলে গুগল তা সহজে খুঁজে বের করে দেয় ব্যবহারকারীকে। শিক্ষাক্ষেত্রেও গুগলের অবদান হেয় করার মতো নয়। বিভিন্ন বিষয়ের বিস্তারিত বর্ণনা, অ্যাসাইনমেন্ট কন্টেন্ট, স্লাইডসহ যাবতীয় তথ্য পাওয়া যায় মুহূর্তে। তাই মানুষ বর্তমানে গুগলের অনুরক্ত। যুবসমাজ গুগল ব্যবহার করে বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পেয়ে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বর্তমানে ওয়াইফাই সুবিধা থাকায় শিক্ষার্থীরা সহজে প্রয়োজনীয় ইনফরমেশন পাচ্ছেন তাৎক্ষণিকভাবে। তারা বিভিন্ন তথ্য সম্পর্কে জানছেন এবং এই জ্ঞান তাদের বহির্বিশ্বের সাথে তাল মেলাতে সাহায্য করছে।
বাংলাদেশে ফেসবুক ব্যবহারীর সংখ্যা প্রায় ১০ কোটি। তা ছাড়া অন্যসব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম হোয়াটস অ্যাপ, ভাইভার, টুইটার, ম্যাসেঞ্জার ব্যবহারকারীর সংখ্যা অনেক। এ বিপুলসংখ্যক জনশক্তি তথ্যপ্রযুক্তির ব্যবহারে সাবলীল। তথ্যপ্রযুক্তিতে শুধু যে সুবিধাই আছে তাই নয়, অনেক অসুবিধাও আছে। তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে অনেকে ভুয়া সংবাদ প্রচারও করছে। এর অপব্যবহারে অনেক সময় সমাজে ঘটছে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা।
বর্তমানে আমাদের দেশ বিভিন্ন দিক দিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বরাদ্দ করা ব্যয়ের পরিমাণও বাড়ানো হয়েছে বাজেটে। দেশের স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তৈরি করা হয়েছে আধুনিক মানসম্মত ডিজিটাল কম্পিউটার ল্যাব। যে ল্যাবের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা আইটি ক্ষেত্রে দক্ষ মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে উঠছেন। তা ছাড়া জেলা যুব উন্নয়ন অধিদফতরের কম্পিউটার ল্যাবের মাধ্যমে যুবসমাজ পাচ্ছে আধুনিক সুযোগ-সুবিধা। ফলে তথ্যপ্রযুক্তি ক্ষেত্রে এগিয়ে যাচ্ছে বাংলাদেশ। তাই দেশের উন্নয়নের জন্য চাই তথ্যপ্রযুক্তির উৎকর্ষ। হ
লেখক : শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়