বাংলাদেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা না থাকায় ধনী ও ক্ষমতাবানরা তাদের সন্তানদের ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে পড়ালেখা করিয়ে থাকেন। ব্রিটিশ পাঠ্যক্রমে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল কোর্স করে তারা। ব্রিটিশ কাউন্সিলের তত্ত্বাবধানে তাদের পড়াশোনা ও পরীক্ষা গ্রহণ চলে। সে পরীক্ষা নির্বিঘœ করতে সব রাজনৈতিক দলই হরতালের মতো চরম কর্মসূচিতেও ছাড় দেয়। তা ছাড়া, তাদের লেখাপড়া হয় বিদেশের মাটিতে। মোট জনসংখ্যার দুই শতাংশেরও কম এ বিশেষ সুবিধাভোগী শ্রেণী, কিন্তু তারা সমাজ ও রাষ্ট্রের ৫০-৬৫ শতাংশ সুবিধা ভোগ করে থাকে। মধ্যবিত্ত ও উচ্চবিত্ত ঘরের সন্তানরা দেশে প্রাপ্য সুবিধার ৮৫-৯০ শতাংশ ভোগ করে। অন্য দিকে, প্রায় ৮০ শতাংশ মানুষ তাদের সন্তানদের লেখাপড়ার জন্য মাত্র ১০-১৫ শতাংশ সুযোগ-সুবিধা। অথচ, সরকারের মায়াকান্না সবসময় এ বঞ্চিত ৮০ শতাংশ মানুষের জন্যই, যাদের স্বার্থে শাসকগোষ্ঠী তেমন কিছুই করে না। অবশিষ্ট ১০-১৫ শতাংশ সুবিধা ভাগাভাগি করে নিতে হয় সমাজের বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ, ৮০-৮৫ শতাংশ সাধারণ মানুষকে। শিক্ষা নাগরিকের মৌলিক অধিকার হলেও দেশের এ বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষই আসলে এক ধরনের উচ্ছিষ্টভোগী।
বাংলাদেশের সংবিধানে ইনসাফভিত্তিক সমাজ একটি ঘোষিত নীতি। এর অর্থ হলোÑ শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থানের মতো মৌলিক বিষয়ে সব নাগরিক সমঅধিকার ভোগ করবেন। তাহলে, সংবিধানের মূলনীতি ‘সমাজতন্ত্র’ শুধুই ছেলে ভোলানো বুলি আর প্রতারণা ছাড়া কিছুই নয়।
বিগত তিন দশকে শাসকশ্রেণী বাংলাদেশে শিক্ষাকে সবচেয়ে লাভজনক ব্যবসায় পরিণত করেছে। তাদের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ইতোমধ্যে শিক্ষাকে পরিণত করা হয়েছে সবচেয়ে দামি পণ্যে। বিশ্বব্যাংক আর এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের পরামর্শ মেনে তারা শিক্ষাকে লাভজনক ব্যবসায়ে পরিণত করতে যেন উন্মাদ হয়ে উঠেছে।
দশম শ্রেণী পর্যন্ত বিনামূল্যে বই বিতরণ করে সরকার বাহবা কুড়ায়, যা একজন শিক্ষার্থীর শিক্ষাব্যয়ের ১০ শতাংশের এক শতাংশও নয়। সরকারের কৃতিত্ব হলোÑ বছরের প্রথম দিনেই শিক্ষার্থীদের হাতে বই পৌঁছে দেয়া। কিন্তু ওই বই কতটা যুগোপযোগী, কতটা মানসম্পন্ন ও আকর্ষণীয় তা বলার অপেক্ষা রাখে না। অভিযোগ আছে, সরকার বিপুল অর্থ ব্যয় করে যে পাঠ্যপুস্তক রচনা ও প্রকাশ করে, তা বহু ভুলে ভরা। দেশের বিভিন্ন শিক্ষাঙ্গনের সচেতন শিক্ষার্থীরা শিক্ষাব্যবস্থার অচলায়তনের জন্য পাঠ্যপুস্তকের এই ভুলকে দায়ী করেছে। ওই বই ক্লাসরুমে ব্যবহার করতে শিক্ষকদের প্রশিক্ষিতও করা যায়নি। হ
লেখক : সাংবাদিক
বাংলাদেশে প্রচলিত শিক্ষাব্যবস্থায় আস্থা না থাকায় ধনী ও ক্ষমতাবানরা তাদের সন্তানদের ইংরেজিমাধ্যম স্কুলে পড়ালেখা করিয়ে থাকেন। ব্রিটিশ পাঠ্যক্রমে ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেল কোর্স করে তারা।...
