২০১৮ সাল। বোধহয় আমি আছি দুনিয়ার মাঝ পথে। ১৯১৮ সালের কেউ এখনো আছে কি না সন্দেহ! তবে হলফ করে বলতে পারি, ১৮১৮ সালের কোনো মানুষ এখন আর দুনিয়াতে নেই। তখন আমারই মতো অনেকেই ছিল। তেমনিভাবে আসবে ২১১৮ সাল! স্বাভাবিকভাবে আমিও থাকব না। থাকবে অন্য কেউ। দুনিয়ার গতি আরো বেড়ে যাবে। অনেক কিছু বদলে যাবে। সব কিছুতে অনেক পরিবর্তন আসবে।
আমি যেমন অতীতের কাউকে মনে রাখিনি! (বিখ্যাত ছাড়া)। কারো কোনো খোঁজখবর রাখিনি। শত শত বছর ধরে মাটির সাথে মিশে গেছে কত সহস্র কোটি মানুষ! তেমনি এখন থেকে ঠিক অনেক বছর পরে কেউ ঘুণাক্ষরেও জানবে না এই আমার কথা! চলেই যখন যাব! মানুষের দুনিয়াতে এই আসা-যাওয়ার ইতিহাস আমাকে খুব ভাবনায় ফেলে দেয়। বড় সাধ হয় কিছু একটা করে যাওয়ার। তবে পরজগতে জিতে যাওয়ার রাস্তা করে গেলেই সফল।
মৃত্যু যেকোনো সময় যে কারো দুয়ারে এসে হাজির হতে পারে। ছোট-বড়, জোয়ান কিংবা বুড়ো যে কারোই পরকালের ডাক আসতে পারে। এই বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন। তবে আমি দেখেছি যাদের বয়স বেশি তারা অনেকটা মৃত্যুর খুব কাছে দাঁড়িয়ে থাকেন। যেকোনো মুহূর্তে তারা মৃত্যুকূপে পতিত হতে পারেন! কিন্তু আমি দেখেছি, তাদের বেশির ভাগেরই যাওয়ার ব্যাপারে তেমন কোনো অনুভূতি নেই। উল্টো তাদের দিয়ে হয়ে যাওয়া অনেক অসঙ্গতি আমার চাহনিতে ধরা পড়ে!
আমি এভাবে প্রতিনিয়ত সবার চলে যাওয়া নিয়ে ভাবি। এমনকি আমার নিজের চলে যাওয়া নিয়েও বেশি ভাবি। আর আমার চাহনিতে ধরা পড়ে চলে যাওয়ার এই রূপ-রেখা এবং সেই জনদের; যারা চলে যাওয়ার সন্ধিক্ষণে রয়েছেন!
পূর্ব শিলুয়া, ছাগলনাইয়া, ফেনী
২০১৮ সাল। বোধহয় আমি আছি দুনিয়ার মাঝ পথে। ১৯১৮ সালের কেউ এখনো আছে কি না সন্দেহ! তবে হলফ করে বলতে পারি, ১৮১৮ সালের কোনো মানুষ...
