ঘণ্টাখানেক আগে সৌরভ গোসল করতে বাথরুমে ঢুকেছে। এখনো বের হওয়ার কোনো নাম নেই। সৌরভের এই অভ্যাস ভালো লাগে না চৈতীর। দাম্পত্য জীবনের এক বছর চলছে ওদের। মানুষ হিসেবে সৌরভ বরাবরই অসাধারণ। কিন্তু তার কিছু কিছু অভ্যাস পছন্দ না চৈতীর। দাঁত ব্রাশ আর গোসল করতে দীর্ঘ সময় নেয়া, রাতভর ফেসবুকে ডুবে থাকাÑ সৌরভের এ আচরণগুলো চৈতীর ভালো লাগে না।
আজ পয়লা বৈশাখের সুন্দর সকাল। অনেকক্ষণ আগে সৌরভ গোসল করতে বাথরুমে ঢুকেছে। এখনো বের হচ্ছে না। হঠাৎ করে চৈতীর ইচ্ছে হলো বৈশাখের এই বিশেষ দিনে স্বামীর সাথে একটু ঠাট্টা-তামাশা করবে। এক টুকরো কাগজে চৈতী লিখতে শুরু করে, ‘আমি খেয়াল করেছি তুমি আজকাল আমাকে এড়িয়ে চলো। তোমার মাঝে বিশাল পরিবর্তন দেখছি। আমার মন বলছে, তোমার জীবনে অন্য কোনো নারী এসেছে। তা না হলে তুমি এভাবে বদলে যাবে কেন! তাই তোমার সংসার থেকে চলে গেলাম। ভালো থেকো।’ ছোট্ট চিঠিটা লিখে বালিশের পাশে রেখে চৈতী খাটের নিচে লুকিয়ে রইল। চিঠি পড়ে সৌরভের কী প্রতিক্রিয়া হয়, সে খাটের নিচ থেকে দেখবে।
গোসল সেরে বাথরুম থেকে বের হয় সৌরভ। আজ অফিসের তাড়া নেই। সরকারি বন্ধ। সৌরভ চৈতীকে না দেখে সারা ঘর খুঁজতে থাকে। না, চৈতী কোথাও নেই। খোঁজাখুঁজির এক ফাঁকে সে প্যান্ট-শার্টও পরে নিলো। হঠাৎ বালিশের পাশে রাখা চিঠিটাতে চোখ পড়ল সৌরভের। চিঠিটা পড়ে কতক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে রইল সে। তারপর পকেট থেকে মোবাইল বের করে কাকে যেন ফোন করে উচ্ছ্বাস গলায় বলল, ‘হ্যালো মিতা, আমার জীবন থেকে ওই ডাইনিটা স্বেচ্ছায় দূর হয়েছে। এবার তোমাকে নিয়ে আমি ঘর বাঁধব। তুমি রমনার বটমূলে চলে এসো। আমিও আসছি।’
খাটের নিচ থেকে এসব শুনে মাথায় যেন বাজ পড়ল চৈতীর। এ কী শুনছে সে! সৌরভের জীবনে অন্য নারী আছে! ভাবতেই পারছে না চৈতী। তার গলা ফেটে কান্না আসছে। সৌরভ বাসা থেকে বের হয়ে যাচ্ছে। তার মুখটা হাসি হাসি। চৈতী খাটের নিচ থেকে সৌরভের চলে যাওয়া দেখছে। বাসা থেকে বের হয়ে দরজা লাগিয়ে দিলো সৌরভ। চৈতী খাটের নিচ থেকে বেরিয়ে এসে খাটে বসে অঘোরে কাঁদতে লাগল। সৌরভের জীবনে আরেক নারী আছে, মানাই যায় না।
হঠাৎ চৈতীর চোখ গেল বালিশের পাশে। সৌরভকে লেখা তার ঠাট্টা করা চিঠির পাশে আরেকটি চিঠি দেখা যাচ্ছে। চৈতী সেই চিঠিটা চোখের সামনে মেলে ধরে। সৌরভ লিখেছে, ‘ওরে আমার পাগলী বধূ। বানোয়াট চিঠি লিখে খাটের তলে যে লুকিয়ে ছিলে, তোমার পা দু’টি স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল। মিতা নামের কাউকে আমি আসলে ফোন করিনি। ওসব বানিয়ে বলে তোমাকে শুনিয়েছি। আজ পয়লা বৈশাখ। আমি পান্তা-ইলিশ কিনতে যাচ্ছি। তোমাকে নিয়ে মজা করে পান্তা-ইলিশ খাবো। আর শোনো, কাল রাতে অফিস থেকে আসার সময় তোমার জন্য একটি বৈশাখী শাড়ি কিনে এনে আলমারিতে ভরে রেখেছি। বের করে পরে নাও। এসে যেন তোমাকে বৈশাখী শাড়িতে দেখি। শোনো বউ, তোমাকে ছাড়া আমি আর কারো নই। আমার জীবনে তুমি ছাড়া আর কেউ নেই। তোমার ওই সুন্দর মনে আমাকে সারা জীবনের জন্য ছোট্ট একটু জায়গা দিও কেবল।’
চিঠি পড়ে আনন্দে চোখ চকচক করে উঠল চৈতীর। এক দৌড়ে গিয়ে আলমারি খুলে দেখে সত্যি একখানা বৈশাখী শাড়ি। সৌরভের কর্মকাণ্ড দেখে হাউমাউ করে কাঁদতে লাগল চৈতী। এই কান্না সুখের কান্না।
আমিশাপাড়া, নোয়াখালী
ঘণ্টাখানেক আগে সৌরভ গোসল করতে বাথরুমে ঢুকেছে। এখনো বের হওয়ার কোনো নাম নেই। সৌরভের এই অভ্যাস ভালো লাগে না চৈতীর। দাম্পত্য জীবনের এক বছর চলছে...
