ঈদ বছরে দু’বার আসে। একটি ঈদুল ফিতর অপরটি ঈদুল আজহা। ঈদের এই নামগুলোর সাথে পরিচিত হয়েছি একালে এসে। সেকালে ঈদের একটির নাম ছিল বড় ঈদ। আরেকটির নাম ছিল ছোট ঈদ। ছোট ঈদ বলা হতো রোজার ঈদকে আর বড় ঈদ বলতাম কোরবানির ঈদকে। আর বড় ঈদ, সে তো শুরুই হতো ঈদের জামাতের পর। বড় ঈদের সবচেয়ে বড় আনন্দ ছিল কোরবানির গরু জবাই। বড় ঈদের আনন্দটা ঈদের দুই দিন আগেই শুরু হয়ে যেত। তিন কাকা মিলে কিনে আনতেন বিশাল বড় ষাঁড়। সেই ষাঁড় বেঁধে রাখা হতো বাড়ির আঙিনায়। দিনের বেশির ভাগ সময় ষাঁড়ের কাছেই কাটাতাম। এটা-সেটা খাওয়াতাম। ঈদের নামাজ শেষে দ্রুত বাড়ি আসতাম। কার গরু কখন জবাই হয় সেই খবর নিয়ে দূর থেকে দাঁড়িয়ে তা দেখতাম। আমরা ছোটরা দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে শুধু দেখতাম। গরুর পেট থেকে বের করা হতো চর্বিজাতীয় এক ধরনের সাদা পর্দা। ছোট চাচা সেগুলো আমাদের ভাগ করে দিতেন। আমরা সেগুলো ভাঙা কলসের মুখে লাগিয়ে টিনের চালে শুকাতে দিতাম। কলসের খুলি ঈদের চার-পাঁচ দিন আগে থেকেই সংগ্রহ করে রাখতাম। বিকেল হলেই কচুর চিকন ডগা দিয়ে বাজানো শুরু করতাম ঢোল। ডুম-ডুম আওয়াজে মাতিয়ে তুলতাম সব বাড়ি। মধুর আনন্দঘন সেই দিনগুলো ঢোলের আওয়াজের মতো হারিয়ে গেছে জীবন থেকে। খুব মিস করি সেই দিনগুলোকে। খুব। খুব বেশি।
ভালুকবেড়, ময়মনসিংহ
ঈদ বছরে দু’বার আসে। একটি ঈদুল ফিতর অপরটি ঈদুল আজহা। ঈদের এই নামগুলোর সাথে পরিচিত হয়েছি একালে এসে। সেকালে ঈদের একটির নাম ছিল বড় ঈদ।...
