মালা নিবেন ভাইজান! মালা বকুল ফুলের মালা। দাম বেশি না মাত্র পাঁচ টাকা। নেন না ভাইজান একটা মালা। জ্যামে আটকে পড়া গাড়িগুলোর পাশে দৌড়াতে দৌড়াতে কথাগুলো বলছিল আট বছরের এক ছোট্ট ছেলে। ছেলেটির দিকে তাকাতেই কেমন যেন মায়া হয়। জসিম সাহেব ছেলেটিকে হাতের ইশারায় কাছে ডাক দিলেন, এই ছেলে এদিকে এসো। ছেলেটি এসেই আবার বলতে লাগল, ভাইজান দাম বেশি না মাত্র পাঁচ টাকা। একটি মালা নিয়ে যান না! জসিম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, তুমি মাত্র পাঁচ টাকার জন্য এত অল্প বয়সে এভাবে জীবনের ঝুঁঁকি নিয়ে রাস্তায় ঘুরে ঘুরে মালা বিক্রি করো কেন? কথাটি শুনেই ছেলেটির চোখের কোণে পানি চলে এলো। বাম হাতে পানি মুছতে মুছতে জবাব দিলোÑ স্যার আপনাদের মতো এমন সুখি হলে কি আর মালা বিক্রি করতাম? জসিম সাহেব জিজ্ঞেস করলেন, কেন কী হয়েছে তোমার শুনি? ছেলেটি জবাব দিলোÑ আমরা দুই ভাই আর মা। বাবা এই কয়েক দিন হলো মারা গেছেন। তখন আমি তৃতীয় শ্রেণীতে পড়তাম। আমার পরীক্ষা কাছে চলে আসায় বাবা পরীক্ষার ফি জোগাড় করতে রিকশা নিয়ে বেরিয়েছিলেন, কিন্তু এটাই ছিল বাবার শেষ বের হওয়া। তারপর আর বাবা কোনো দিন ফিরে আসেননি। আজো বাবার কোনো খোঁজ পেলাম না। জানি না বাবা আজ কোথায় আছে, কেমন আছে। তখন থেকে মা এক বড়লোকের বাসায় কাজ করে আমাদের খাবার জোগাড় করে, কিন্তু আজ তিন দিন ধরে মা ভীষণ অসুস্থ। ঘরে খাওয়ার মতো কোনো কিছুই নেই। ছোট ভাইটা সারাক্ষণ খাবারের জন্য কান্না করে আর মা শুধু পানি খেতে দেয়। কত দিন থাকা যায় বলেন? তাই আজ এই মালাগুলো বিক্রি করে ছোট ভাইয়ের জন্য রুটি কলা আর অসুস্থ মায়ের জন্য ওষুধ নিয়ে যাবো। এ কথাগুলো শুনে জসিম সাহেবের চোখে পানি চলে এলো। জসিম সাহেব পকেট থেকে ১০০ টাকার একটি নতুন নোট বের করে ছেলেটির হাতে ধরিয়ে দিলেন। ছেলেটি বলল, স্যার এত টাকা ভাংতি তো আমার কাছে নেই। জসিম সাহেব বললেন, পুরো টাকাটাই তুমি নিয়ে যাও। ছেলেটি খুশি হয়ে বলল, আল্লøাহ আপনার মঙ্গল করুন। এ কথা বলে ছেলেটি তার ছোট ভাইয়ের জন্য একটি রুটি আর কলা আর অস্স্থু মায়ের জন্য একপাতা নাপা ট্যাবলেট নিয়ে খুশিতে বাসার দিকে দৌড়াতে লাগল। যখন রাস্তা পার হতে যাবে তখনই একটি বেসামাল রাক্ষুসে ট্রাক এসে ছেলেটির প্রাণ কেড়ে নিলো। মুহূর্তের মধ্যেই ছোট দেহটি মাটির সাথে পিষে গেল। কাচের মতো ভেঙে গেল ছোট মনের বড় স্বপ্নগুলো। পাশেই পড়ে রইল রুটি, কলা আর মায়ের ওষুধগুলো।
