মূলত গল্পই আমার প্রাণশক্তি। আমার গল্পে ফুটে ওঠে সামাজিক অসঙ্গতি। দেশের ছিন্নমূল, দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ, বস্তিবাসী, টোকাইÑ এদের নিয়ে কাজ করার মানুষ কম নেই। তবুও এই মানুষগুলো এখনো বিভিন্ন কারণে অবহেলায় আছে। এদেরকে নিয়েই আমার গল্পের কলম চলতে থাকে। যদিও গল্প লিখে এদের জীবনকে আমূল পরিবর্তন করতে পেরেছি সেটা বলতে পারছি না। তবে মানুষকে ভাবাতে পারব। আমি সেই পরিকল্পনাতেই কাজ করছি। পড়াশোনা শেষ করেছি অনেক আগে। এখন একটা চাকরি করছি। প্রতিদিন সকাল-সন্ধ্যা অফিস। হাঁপিয়ে উঠতে হয়। তারপরও এই ব্যস্ততার মাঝে এগিয়ে যাচ্ছি প্রতিদিন। এত ব্যস্ততার মাঝেও অবসর সময়টাকে বেশ কাজে লাগাই। সরকারি নির্ধারিত ছুটির দিন কিংবা একটু সময় পেলেই গল্প লিখতে বসি। আমার বাড়িতে এত এত বই আছে যে, সেগুলো শেষ করতে আমার অনেক বছর লাগবে। সেই বইগুলো নিয়ে পড়তে বসি। দেশ-বিদেশের বিখ্যাত লেখকরা কিভাবে তাদের চিন্তাভাবনাগুলো কলমের আঁচড়ে তুলে এনেছেন, কিভাবে লিখলে মানুষকে আকৃষ্ট করা সম্ভব সেগুলো বোঝার চেষ্টা করি। একটা গল্প কিংবা উপন্যাস দিয়েও সমাজকে পরিবর্তন করা যায় এটা আমার ধারণার মধ্যেই ছিল না। এখন বুঝতে পারি, সমাজের বিভিন্ন অসঙ্গতি ধরিয়ে দিতে বা সমাজের বিভিন্ন কলুষিত দিকগুলো পরিবর্তন করে আলোর পথে আনতে গল্প কিংবা উপন্যাস অন্যতম হাতিয়ার হতে পারে। এই ব্যস্ত নাগরিক জীবনে অন্যকে নিয়ে ভাবার সময় মানুষের খুব একটা হয় না। অনেকে হয়তো চেষ্টা করে, কিন্তু পারে না। হয়তো পারে। কতটুকু? জানি না। এসব ভাবনায় বিভোর না হয়ে আমি চেষ্টা করি এই মানুষদের পাশে দাঁড়াতে। যখনই অবসর পাই ছুটে যাই বিভিন্ন বস্তিতে। বস্তিতে গিয়ে অবাক হই, এই দেশের শিক্ষিতের হার দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু বস্তিতে এখনো শিক্ষার আলো এসে পৌঁছায়নি। সাক্ষরতার জ্ঞানটুকু পর্যন্ত নেই এখানে! ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়ে এই বয়সে যাদের স্কুলে যাওয়ার কথা, তা না করে ওরা ভিক্ষার হাত পাতছে মানুষের দ্বারে দ্বারে। তখনই মনে পড়ে নজরুলের অমর কবিতা পঙ্ক্তিÑ ‘আমরা যদি না জাগি মা কেমনে সকাল হবে’Ñ এই প্রত্যয় থেকে আমি বস্তিবাসীর এসব বিরূপ চিত্র বদলে দিতে, এদেরকে শিক্ষিত নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে, আমি কিছু বন্ধু নিয়ে অবসরের সময়টুকুতে বস্তিবাসীদের পাশে দাঁড়াই। দরিদ্রতার কারণে এখানকার মানুষ, যারা ইচ্ছা থাকা সত্ত্বে¡ও কিছু করতে পারছে না তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার চেষ্টা করি। অবসরে জীবনটাকে মানুষের সেবায় ব্যয় করতে এখন একটা সামাজিক সংগঠনের সাথে যুক্ত হয়েছি। সেই সংগঠনের মাধ্যমেই ওদের জন্য যুদ্ধ করার আরেকটু প্রয়াস পেয়েছি। সফল, শিক্ষিতসমাজ গঠনে নিজেকে এগিয়ে নিতে চাই। কেননা, আমার হাতে আছে শিক্ষার কলম। এই যুদ্ধে কলমই আমার শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার।
মূলত গল্পই আমার প্রাণশক্তি। আমার গল্পে ফুটে ওঠে সামাজিক অসঙ্গতি। দেশের ছিন্নমূল, দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষ, বস্তিবাসী, টোকাইÑ এদের নিয়ে কাজ করার মানুষ কম নেই।...
