যে কোনো মানুষের জন্য অবকাশ অত্যন্ত কাক্সিক্ষত বিষয়। কর্মব্যস্ত মানুষের কাছে সেটি আরো প্রিয়। তবে একজন লেখকের জন্য অবকাশ প্রচণ্ড প্রার্থিত একটি অনুষঙ্গ। কারণ এ অবকাশেই লেখক চিন্তা-ভাবনা, পঠন-পাঠন ও লেখার সুযোগ পান। সাধারণ মানুষ কখনো বিনোদনে, সাংসারিক কাজে, ভ্রমণে বা জীবনের প্রয়োজনীয় ব্যাপারে অবকাশের সময় ব্যয় করেন; অন্য দিকে লেখক অবকাশের সুযোগ সৃষ্টির কাজে; মননশীল লেখালেখি বা চিন্তার কাজে খরচ করেন। এখানেই মৌলিক পার্থক্য স্পষ্ট।
আমার অবকাশও কাটে সৃজন ও মননের প্রবাহে। জীবন ও জগতের চলমান গতিধারায় অপরিহার্য ও প্রয়োজনীয় এত বেশি কাজ থাকে যে, অবসর পাওয়া দুষ্কর হয়ে ওঠে। তাই আমি সব কাজ দ্রুত শেষ করার চেষ্টা করি প্রার্থিত অবকাশের জন্য। কারণ এ সময়টাই আমার কাছে চরম কাক্সিক্ষত : সেই সৃজনবেদনার জন্য, জীবনকে নতুন ভাবনা-উপলব্ধি-চিন্তার আলোয় উদ্ভাসিত করার জন্য। জীবনের নতুন আবিষ্কার ও পরিচয়ের অন্বেষা সম্ভব হয় এই অবকাশেই। সারাক্ষণ ব্যস্ত থাকলে ভাবের বীজ কখনো অঙ্কুরের সবুজ সম্ভাবনায় উঁঁকি দেবে না; প্রাণের প্রকাশ ও বিকাশও সম্পন্ন হবে না। তাই লেখক জীবনে অবকাশের বিকল্প নেই। আবার অবকাশ পেলেই প্রাণবৈচিত্র্য ও রহস্য সন্ধানের জন্য কখনো বেরিয়ে পড়ি অরণ্যে, নদী-বিল-সমুদ্রে, নির্জন দ্বীপে, পাহাড়ে, আদিগন্ত সবুজ ফসলে ভরা গ্রামীণ বাংলার প্রান্তরে। যেখানে প্রকৃতি ও জীবন কথা হয়ে ওঠে প্রবহমান প্রাণের স্পন্দনে।
সেখানে নিজেকে খুঁজে পাই নতুন আলোয় : আনন্দ, মুগ্ধতা, বিস্ময়, অন্বেষা, অন্তর্দৃষ্টি সব কিছু যেখানে একাকার হয়ে যায়। সেই সাথে অবকাশে লেখকদের সাথে সাহিত্য-আড্ডা আমার অত্যন্ত প্রিয় বিষয়। সেই আড্ডায় উঠে আসে সমকাল, সাহিত্য, সংস্কৃতি, শিল্পকলা, ইতিহাস, ঐতিহ্য, জ্ঞান-বিজ্ঞান সব নানা প্রসঙ্গ। তাই অবকাশ মানেই আমার কাছে নতুন স্বপ্ন, সম্ভাবনা, ভাব ও ভাষা, সৃজন ও মননের বীজতলা। সবার জীবনেই অবকাশ আসুক ও কাজে লাগুকÑ এই প্রত্যাশা করি। হ
