খুব দ্রুত পায়ে বাসা থেকে বেরিয়ে যাচ্ছে রাফি। ইস! আজকে মনে হয় লেট হয়েই গেল। রাফি সরল মনের মানুষ। খুব সহজেই অচেনা মানুষকেও আপন করে নেয়। অফিসের বসও কোনো দিন রাফির অফিসে আসা বা কোনো কাজের ত্রুটি ধরতে পারেনি। তবে আজকে কোনো এক অপ্রত্যাশিত কারণে লেট হয়ে গেল রাফির।
বাসার সামনে রিকশার অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে আছে রাফি! এমন সময় রিকশার প্যাডেল মেরে এগিয়ে এলো একজন বৃদ্ধ। তাকে নিয়েই রাফি ছুটল অফিসের দিকে। কথায় আছে; যেখানে বাঘের ভয় সেখানেই রাত পোহায়! রাফিরও আজকে একই অবস্থা। বৃদ্ধ চালক দ্রুত চালাতেও পারছে না। অফিসে যেতেও লেট। তবে বৃদ্ধের প্রতি রাফির মায়া হলো। তাই আর দ্রুত চালাতে বলল না। এদের দেখলে নিজেকেই কেমন দুখী দুখী লাগে।
গন্তব্যে পৌঁছে মানিব্যাগ বের করে একশ’ টাকার একটা নোট বের করে দিলো রাফি। বৃদ্ধ চালক টাকা হাতে নিয়ে বলল :
-আমার কাছে তো ভাঙতি নাই বাজান। ভাঙতি টাকা থাকলে দ্যান।
-চাচা বাকি টাকাটা রেখে দিন।
-জে! না স্যার! দেশের লাইগ্যা শুধু করছি, কোনো দিন কিছু চাই নাই। এই বুড়া বয়সেও কাম কইরা খাই। আপনের থ্যাইকা বেশি ট্যাহা আমি নিমু ক্যান? একটু খাড়ান, আমি ভাঙতি আইন্যা দেই।
বৃদ্ধের কথা শুনে রাফির মনে কেমন যেন খটকা লাগল। রাস্তার ওপর পাশের দোকানদারের কাছে জানতে চাইল বৃদ্ধের সম্পর্কে। দোকানদার ক্ষুব্ধ মনে জানাল, বৃদ্ধ লোকটি একাত্তরের সাহসী বীর মুক্তিযোদ্ধা। সত্যিকার মুক্তিযোদ্ধা হওয়া সত্ত্বেও মুক্তিযোদ্ধার লিস্টে নাম ওঠেনি তার। পায়নি নিজের প্রাপ্য অধিকার। আসে না মুক্তিযুদ্ধ ভাতা। এসব শুনে রাফির মন ভারী হতে ওঠে। এক আকাশ কষ্ট বুকে নিয়ে ছুটতে থাকে অফিসের দিকে।হ