ছাদ, বেলকোনি কৃষি দিন দিন জনপ্রিয় হচ্ছে। ছাদে সবজি, ফলমূল কত কিছুই না হচ্ছে। ব্যালকনিতে সুন্দর সব ফুল গাছ শোভা পাচ্ছে। বিষমুক্ত সবজি, অক্সিজেনের সরবরাহ বাড়ানো তো আছেই। এসব কাজে অনেকের অবসর ভালো কাটছে। করোনাকালে জমিয়ে বাগান করেছেন। এমন লোকের সংখ্যা নেহায়েত কম নয়। তবে বাগান করতে গেলে পোকামাকড়সহ কিছু সমস্যা দেখা দেয়। এসব সমস্যার বিনামূল্যে সমাধান দেন শফিকুর রহমান বিপ্লব। শফিক বিপ্লব নামে যার ব্যাপক পরিচিতি। দুই যুগেরও বেশি ধরেই স্বেচ্ছায় এ কাজ করছেন তিনি। গাছ বিষয়ে কেউ সাহায্য চাইলেই এগিয়ে আসেন তিনি।
পেশাগত জীবনের বাইরে তিনি একজন সফল বাগানি, পোষাপাখি পালক, বন্যপাখির সুরক্ষায় তৎপর। গাছ অদল-বদল ও পরিচর্যা বাগানবিষয়ক পরামর্শ দেন তিনি। হাজার হাজার বাগানপ্রেমীর বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দিয়ে সাহায্য করেন তিনি। রীনা নামের একজনের গোলাপ গাছ মরে যাচ্ছিল। শফিকের সাথে যোগাযোগ করতেই তিনি রীনাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন। সে মোতাবেক কাজ করায় গাছ বেঁচে উঠেছে। তিনি শুধু পরামর্শ দিয়ে থেমে থাকেননি। পরে খোঁজখবরও রেখেছেন। প্রতিদিন শত শত কৃষককে সরাসরি ও ফোনালাপের মাধ্যমে কৃষিসেবা দেন। তার কাছ থেকে প্রশিক্ষণ পেয়ে বহু বেকার যুবক-যুবতী স্বনির্ভর হয়েছেন বলে জানা যায়। কেউ কেউ জাতীয় পুরস্কারও পেয়েছেন বলে শফিক বিপ্লব জানান। নিজ বাড়িতে তিনি শত শত ফুলের গাছ লাগিয়েছেন। প্রতিদিন অসংখ্য রঙ-বেরঙের ফুল ফোটে। এমন ফুলের মধ্যে আছে নীলমনি, স্বর্ণচাপা, কাঞ্চন, বকুল। এ ছাড়া আছে শিউলি, দোলনচাপা, অর্কিড, ক্যাকটাস, লিলি, বনসাঁই, বটপাকুড়, বকুল, হাসনাহেনা, অপরাজিতা, পদ্ম শাপলা, ওয়াটার লিলি প্রভৃতি। পাশাপাশি ভেষজ গাছ, সবজি ও ফলের গাছ রয়েছে তার বাগানে। গবেষণাধর্মী কাজ তার পছন্দ। নিজেই প্রচুর পরীক্ষা নিরীক্ষা করেন। অন্যদের জন্য সহজ পথ বের করে দেন। মাঝবয়সী উদ্যমী, পরিশ্রমী এই তরুণ দিনরাত গাছপ্রেমী, কৃষকদের সহায়তা করছেন। সাহায্য চাইলেই তিনি তৎক্ষণাৎ সাড়া দেন। এ জন্য অনেকেই তাকে গাছপ্রেমীদের বন্ধু বলেন। কারো কারো কাছে তিনি গাছের ডাক্তার। কৃষকদের কাছে তিনি অতি আপন বন্ধু। কৃষি নিয়ে যারা কাজ করতে চান তাদের জন্য অনুপ্রেরণা হলেন শফিক বিপ্লব। ঝিনাইদহ জেলার হরিণাকুণ্ডু উপজেলার হুদারাধানগর গ্রামে তার বাড়ি।