তখন নবম শ্রেণীতে পড়তাম। আষাঢ় মাস ছিল। তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। শহর থেকে গ্রামে নানুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। গ্রামের নাম ‘জগৎপুর’। নদীর তীরে সারি সারি তুলাগাছ আমাকে মুগ্ধ করত। তুলাগাছের ফুল টুপ টুপ শব্দ করে নদীর পানিতে ঝড়ে পড়ার শব্দ আমার অন্তরের মাঝে নাড়া দিত। আমি শহরের বাসিন্দা হলেও পানিতে সাঁতার কাটতে জানতাম।
নানুর বাড়ির সমবয়সী বন্ধুদের সাথে অতি উৎসাহ নিয়ে নদীতে গোসল করতে গেলাম। বেশি বৃষ্টিপাতের কারণে নদীতে ছিল প্রবল স্রোত। আবহাওয়া ছিল বিরূপ। আমি সাঁতার জানলেও এমন ভয়ঙ্কর স্রোতে কী বিপদ হতে পারে সে ধারণা আমার ছিল না। গ্রামের পারদর্শী ছেলে-ছোকরারা নদীতে ঝাঁপ দিয়ে এ তীর থেকে সে তীরে চলে যাচ্ছিল। স্রোত তাদের কিছুটা ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল দূরের দিকে। অনভিজ্ঞ আমিও নদীতে ঝাঁপ দিলাম। সাঁতার কেটে কিছুটা যাওয়ার পরে স্রোত আমাকে নিজের অবস্থান থেকে ভাসিয়ে অন্যদিকে নিয়ে যাচ্ছিল। আমি অনেক দূরে চলে যাচ্ছিলাম। আমি বোকার মতো লড়াই করতে গিয়ে স্রোতের উল্টো দিকে সাঁতার কাটতে লাগলাম। এভাবে স্রোতের সাথে কিছুক্ষণ যুদ্ধ করতে করতে আমি নিস্তেজ হয়ে যেতে লাগলাম। একসময় নিজেকে ছেড়ে দিলাম। স্রোত আমাকে খুব জোরে ভাসিয়ে নিয়ে যেতে লাগল। আমার নাকে-মুখে পানি ঢুকে গেল। আমি যথাসম্ভব নিজেকে ভাসিয়ে রাখলাম। আমার এক সমবয়সী নদীর ওপার থেকে সব কিছু খেয়াল করল। সে দ্রুত তীর ঘেঁসে আমাকে লক্ষ করে উপর দিয়ে ছুটতে লাগল। আমি ভেসে যাচ্ছিলাম। সেও ছুটে চলছিল। একসময় নদীর এক বাঁকে সে নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে আমার হাত ধরে ফেলল। স্রোত আমাকে ভাসিয়ে ওপারের কিছুটা কাছে নিয়ে গিয়েছিল। এতে করে আমাকে নাগালের মধ্যে পেতে তার সুবিধা হয়েছিল। সে আমাকে যখন টেনে তুলেছিল তখন আমি একেবারে নিস্তেজ। আল্লাহর অশেষ রহমতে অনেক বড় বিপদ থেকে সেদিন রক্ষা পেয়েছিলাম। সে যদি ছুটে না আসত- তবে কী হতো তা ভেবে এখনো আঁতকে উঠি। আমি বোকামি করেছিলাম স্রোতের বিপক্ষে সাঁতার কেটে নিজের লাইন সোজা রাখতে চেয়েছিলাম। অথচ এমন বিপদে শুধু নিজেকে ভাসিয়ে রাখলেই স্রোত আমাকে একসময় হয়তো কোনো এক বাঁকে নিয়ে তীরে পৌঁছে দিত! এখনো সেই স্মৃতি মনে জাগলে ভয়ে শিহরন জেগে উঠে!
তখন নবম শ্রেণীতে পড়তাম। আষাঢ় মাস ছিল। তুমুল বৃষ্টি হচ্ছিল। শহর থেকে গ্রামে নানুর বাড়িতে বেড়াতে গিয়েছিলাম। গ্রামের নাম ‘জগৎপুর’। নদীর তীরে সারি সারি তুলাগাছ...
