বন্ধুত্ব ও ভালোবাসা মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য একটি অংশ। সেই ছোট্টবেলায় যাদের সাথে গোল্লাছুট, কপালটোকা খেলেছি; এখন তাদের খুব করে মনে পড়ে। শৈশবের শিক্ষা, যৌবনের শিক্ষা আর এই শিক্ষাজীবনের একটি ধাপ পেরিয়ে সবাই পাড়ি জমাই নানা জায়গায়। আর নিজের জীবনকে সাজাতে ব্যস্ত হয়ে উঠি কর্মব্যস্ততায়। বন্ধুদের নিয়ে খামখেয়ালি কথা, বিকেলের সেই ঘুরতে যাওয়ার কথা, চায়ের দোকানে বসে আড্ডাবাজির কথা, মজা করে মুড়ি খাওয়ার স্মৃতি কোনো কিছুই আসলে ভোলা যায় না। বন্ধুদের সাথে কাটানো প্রতিটা মুহূর্তই যেন অমূল্য হয়ে ধরা দেয় জীবনের পরতে পরতে। যৌবনে এসেই মূলত একজন ছাত্রের জীবনে সেরা বন্ধুত্বটি গড়ে ওঠে এবং এই বন্ধুত্বের অটুট বন্ধন হয়।
প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ‘জামিয়া ইসলামিয়া দারুস সুন্নাহ মাদরাসা। টাঙ্গাইল শহরের বেবি স্ট্যান্ডের তীর ঘেঁষে বিশাল মাঠ নিয়ে সবুজ সমারোহে গড়ে ওঠা বিশাল এই বিদ্যাপীঠ। যেখানে সব সময় কুরআনের মৌমাছিরা বিচরণ করে মধু আহরণ করে। মূলত বন্ধুত্ব বা ভালোবাসা বিষয়টা উপলব্ধি করতে শিখেছি এখানে এসে। সবুজের সান্নিধ্যে থাকা এখানকার প্রতিটি মানুষ বন্ধুবৎসল। খুব সহজেই একে অপরের সাথে মিশতে পারে। আমি এদের কাছে শিখেছি, কিভাবে মানুষকে কাছে টেনে নিতে হয়, বিপদ-আপদে কাঁধে-কাঁধ মিলিয়ে পাশে থাকতে হয়। কিভাবে বন্ধুত্বের ছায়াতলে থেকে নিতে হয় জীবনের সুমিষ্ট স্বাদ। আর তাই তো প্রিয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা সবসময়ই হৃদয়ের মধ্যখানে অগোচরে রয়ে যায়। শিক্ষাজীবনে সবারই কমবেশি বন্ধু বা সাথী থাকে। আর বন্ধুরা থাকলে চলার পথে দেখা হবে, কথা হবে, হবে অনাবিল আড্ডা-আনন্দ, আর না বলা জীবনের অনেক কথা। এটাই তো বন্ধুত্বের দাবি। অনেক কিছু পেয়েছি, বন্ধু পেয়েছি এই শিক্ষাজীবনে। অনেক সুন্দর ছিল দিনগুলো। প্রতিদিন সকালে বসে পড়তাম ক্লাসে। সারাদিন ক্লাস আর ক্লাসের ফাঁকে বন্ধুদের সাথে কথাবার্তা, কত আড্ডা। বিকেলে চায়ের দোকানে বসে চায়ের আড্ডা। কত কিছু নিয়ে সে আড্ডা যেন শেষই হতো না। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে যাওয়ার দিনগুলোও খুব মিস করার মতো। এ সবই প্রিয় প্রতিষ্ঠানকে ভালোবাসার কিছু প্রতিদান। যদিও সবার সাথে এখন আর আগের মতো দেখা হয় না। কিন্তু ব্যস্তময় জীবন থেকে পালিয়ে আবারো বন্ধুদের সাথে অল্প কিছু সময় কাটাতে নানান পথ খুঁজতে থাকে মন। তবে সুযোগ পেলেই ছুটে আসি ভালোবাসার প্রিয় প্রতিষ্ঠানে। সম্মানিত উস্তাদদের কাছে। প্রিয় বন্ধুদের কাছে। কিন্তু তারা সবাই আর নেই। অনেকেই আসতে পারে না ব্যস্ততায় অবসর মেলে না বলে। তবুও যাদের সাথে দেখা হয়, তাদের সাথেই পুরনো স্মৃতিগুলো রোমন্থন করি। ফলে ওই দিনটিও অন্যরকম ভালোলাগায় অতিবাহিত হয়।
যার বন্ধু নেই সে স্বাভাবিকভাবে বিষণœতায় ভোগে। একাকিত্ব তাকে গ্রাস করে সবদিক থেকে। ছন্দহীন জীবনে ছন্দ আর নিরানন্দ জীবনে আনন্দের জোয়ার যোগ করতে বন্ধুত্বের জুড়ি নেই। আবার সে বন্ধুদেরকে ছেড়ে চলে যাওয়াটাও সবচেয়ে কষ্টের। শৈশব জীবন, শিক্ষাজীবন ও পরবর্তী জীবনের দিনগুলোতে সে চিত্রই চোখে পড়ে সর্বত্র। হ