অবকাশ মানুষের জীবনে এক প্রাণবন্ত সময়। জীবনে অবকাশ না থাকলে নন্দনকাননে সুশোভিত ফুলের মাঝে ন্যুয়ে পড়া ফুলের মতোই নিরানন্দ হয়ে থাকে জীবন। প্রত্যেকের জীবনে অবকাশের ভিন্নস্বাদ আছে। সারা দিনের কর্মক্লান্ত শেষে যখন বাসায় ফিরি জীবন তখন একটু ফুরফুরে থাকতে চায় মন। ক্লান্তি দুঃখ মুছে নিজের আরশির সামনে দাঁড়িয়ে নিজের সাথে বলতে চাই, মনের কথা। জীবনের উপলব্ধির কথা। মনের কথা শুধু মনে মনে বলে রেখে দিলেই কোনো মানুষ কখনো জানবে না সে কথা। জানবে না আমার জীবন, স্বাদ-আহ্লাদ, সুখ-দুঃখ, অনুভূতি অভিলাষ। তাই মনের সংলাপগুলো নিয়ে যখন টেবিলে বসি তখন উপন্যাস, গল্প, কবিতা লিখে দীর্ঘ সময় পার করি। ফলে নিজের মধ্যে স্বতঃস্ফূর্ততা জেগে ওঠে । তার মধ্যে লিখতে লিখতে নাওয়া খওয়া ও সময়ের কাঁটার কথা ভুলে যাই! তবুও নিজের মাঝে আনন্দের স্বাদ ফিরে পাই। এভাবে জীবনের অবকাশ সময়ে বিভিন্ন গল্প, উপন্যাস, কবিতা, ছড়া লিখেছি এবং প্রচুর আনন্দও পেয়েছি? আমার অবকাশে এসব লিখে লিখে বইও প্রকাশ পেয়েছে কিছু। কখনো কখনো জাতীয়-আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমসাময়িক ঘটনার উপর বাস্তব ঘটনার তথ্য উপাত্তসহ মানব মনের অব্যক্ত কথা ব্যক্ত করার চেষ্টা করেছি। মাঝে মাঝে নিশিরাতে ছাদের উপর পায়চারি করি। দূর আকাশের তারা দেখে স্রষ্টার সৃষ্টি নিয়ে ভাবি। কতনা রহস্যময় নিপুণ তাঁর সৃষ্টি। যেমন প্রকৃতিতে পিঁপড়ারা সারিবদ্ধ হয়ে যেভাবে ঘোরে, দিগন্ত থেকে দিগন্তে ছুটে বেড়ায় ঘুঘু, সাদা বক, বনের হাতি। কিভাবে প্রত্যেক প্রাণী তার আপন গণ্ডিতে বসবাস করছে এবং এরা সবাই প্রভুর নির্দেশিত বন্য পরিবেশকে মেনে নিয়ে প্রভুর জিকির করছে। মানুষকে যদি এমন পরিবেশে রাখা হতো তাহলে কী হতো। ভাবতেই অবাক হই, আল্লাহ মানুষকে কত ভালো পরিবেশ দিয়েছেন। বিচার-বিবেচনার জন্য বিবেক-বুদ্ধি দিয়েছেন। এসব ভাবতেই আমার মাথা অবনত হয়ে পড়ে প্রভুর কুদরতি চরণে। এসব অনুভূতি থেকে বিপদে-আপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর মাধ্যমে প্রভুর সেবা করার চেষ্টা করি। সাধ্যমতো সাহায্য হাত বাড়িয়ে দেই। স্বেচ্ছায় রক্তদান, বৃক্ষরোপণ করি। মাঝে মাঝে প্রকৃতিতে দেখে দেখে নিজেকে হারিয়ে ফেলি। নদীর উজান থেকে আসা কলকল জলের তীরে বসে ভাবি- জীবন একটা নদীর মতোই। ভরা যৌবনে কানায় কানায় ভরে যায়। যখন সে শুকিয়ে যায় তখন নিতান্তই এক কঙ্কালের মতো পড়ে থাকে। আজ আমরা যারা জীবিত আছি মরে গেলে তো একটি মরা নদীই হয়ে থাকব মাটিতে। তবু কিসের নেশায় ছুটছি তুচ্ছ এই জীবনের পিছে? জানি না। এসব আধ্যাত্মিক চিন্তার ভেতরে পাই জীবনের চূড়ান্ত সুখের ঠিকানা। এসব আমার লেখালেখির বিষয় হয়ে ওঠে। অবকাশ লেখক জীবনের এক সোনালি সময় যার ভেতর নিহিত আছে সৃষ্টির আনন্দ-বেদনার উপাখ্যান।