পাঁচ টাকার কাগজি নোটে অঙ্কিত দৃষ্টিনন্দন ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদটি বাংলাদেশের উত্তরের সীমান্তবর্তী নওগাঁ জেলার মান্দা উপজেলার কুসুম্বা গ্রামে অবস্থিত। একসময় এটি বৃহত্তর রাজশাহী জেলার অন্তর্ভুক্ত ছিল। মান্দা উপজেলার ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া আত্রাই নদীর পশ্চিমে এ মসজিদটির অবস্থান। ২৫.৮৩ একর বা ৭৭ বিঘা বিশাল আকার এক দীঘি রয়েছে মসজিদের পূর্বপাশে। ধূসর রঙের এ মসজিদের দৈর্ঘ্য ৫৮ ফুট বা ১৮ মিটার, প্রস্থ ৪২ ফুট বা ১৩ মিটার। এতে ছয়টি গম্বুজ ও চারটি মিনার রয়েছে। ফলকদ্বারে বসানো ফলক থেকে জানা যায়, হিজরি ৯৬৬ (১৫৫৮-১৫৬৯ খ্রিষ্টাব্দ) আফগানি শাসনামলে শুর বংশের শেষের দিকের শাসক গিয়াস উদ্দিন বাহাদুর শাহের আমলে সুলায়মান নামে একজন ব্যক্তি এ মসজিদটি নির্মাণ করেন। ১৮৯৭ সালের ভূমিকম্পে মসজিদটির ছয়টি গম্বুজের তিনটি নষ্ট হয়ে যায়। পরে প্রতœতত্ত্ব বিভাগ সেগুলো সংস্কার করে। ২০১৭ সালে মসজিদের চারপাশে এবং বিশাল আকার দীঘির পূর্বপাশে ফুলের বাগান নির্মাণ ও আলোকসজ্জার ব্যবস্থা করা হয়। প্রাচীন এই মসজিদটির দেয়ালে রয়েছে লতাপাতার নকশাখচিত চমৎকার কারুকার্য। প্রাচীরঘেরা মসজিদের প্রধান ফটকে ছিল প্রহরীচৌকি। ইটের গাঁথুনি, সামান্য বাঁকানো কার্নিশ এবং তৎসংলগ্ন আটকোনা বুরুজ দেখে স্থাপত্যশৈলীতে বাংলা স্থাপত্যরীতির প্রভাব লক্ষ করা যায়। মূল গাঁথুনি ইটের হলেও এর সম্পূর্ণ দেয়াল এবং খিলানগুলো ধূসর পাথরের আস্তরণে ঢাকা। মসজিদের স্তম্ভ, ভিত্তি, মঞ্চ, মেঝে ও দেয়ালের জালি নকশাগুলোও পাথরের তৈরি। আয়তাকার মসজিদটিতে রয়েছে তিনটি বে এবং দুটি আইল। এর পূর্ব প্রান্তে তিনটি এবং উত্তর ও দক্ষিণে একটি করে প্রবেশপথ রয়েছে। মসজিদের কেন্দ্রীয় মিহরাবটি পশ্চিম দিকের দেয়াল থেকে আলাদা। পশ্চিম দেয়ালের দক্ষিণ-পূর্ব দিকে এবং মাঝামাঝি প্রবেশপথ বরাবর আরো দুটি মিহরাব রয়েছে যা মেঝের সমান্তরাল। মসজিদের ভেতরে উত্তর-পশ্চিম কোণের স্তম্ভের ওপর একটি উঁচু আসন রয়েছে। ধারণা করা হয়, এই আসনে বসেই তৎকালীন কাজী বা বিচারকরা এলাকার বিভিন্ন সমস্যার বিচারকার্য পরিচালনা করতেন। প্রতিদিন দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে শত শত মানুষ কুসুম্বা মসজিদের সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন। নওগাঁ জেলা শহর থেকে ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদের দূরত্ব ৩৫ কিলোমিটার এবং মান্দা উপজেলা সদর থেকে এর দূরত্ব মাত্র চার কিলোমিটার। রাজশাহী শহর থেকেও সড়কপথে অনায়াসে এখানে আসা যায়। অসম্ভব সুন্দর মসজিদটির রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে যেকোনো দিন আপনিও ঘুরে আসতে পারেন ঐতিহাসিক কুসুম্বা মসজিদ থেকে।হ
