সারা বিশ্ব আজ করোনার আতঙ্কে দিশেহারা, অসহায় ও বন্দিদশায় দিন যাপন করছে। ধনে-জনে, গবেষণায় ও ক্ষমতায় বিশ্বের তাবৎ শক্তিশালী দেশগুলোও আজ করোনার আগ্রাসনে নুয়ে পড়েছে। বিশ্বজুড়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। প্রতিনিয়ত আক্রান্ত হচ্ছেন লাখো লাখো। ইতোমধ্যে সারা বিশ্বে করোনায় আক্রান্ত ১৭ লাখের উপরে, মৃত্যু হয়েছে এক লাখ তিন হাজার জনের। আর বাংলাদেশে আক্রান্ত ৪৮২ জন ও মৃত্যু হয়েছে ৩০ জনের। দিনরাত শত চেষ্টার পরেও এর ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারে এখনো বিশ্বের প্রথম সারির দেশগুলো ব্যর্থতার পরিচয় দিচ্ছে। তবুও চলছে আবিষ্কারের আপ্রাণ চেষ্টা। সর্বোচ্চ সচেতনতামূলক ব্যবস্থা অবলম্বন করেও রেহাই মিলছে না করোনার কবল থেকে। নেই রুটি-রোজগারের কোনো ব্যবস্থা। খেয়ে না খেয়ে, অনাহারে-অর্ধাহারে চলছে খোদ উন্নত দেশগুলোর মানুষের দিন যাপন। তবে আমরা এখনো তাদের চেয়ে সার্বিকভাবে ভালো আছি।
সরকারিভাবে সাধ্যমতো চিকিৎসাসেবাও চলছে দেশজুড়ে। প্রধানমন্ত্রীর ৩১ দফা নির্দেশনা আমলে নিয়ে কাজ করছে স্বাস্থ্য বিভাগ, সামরিক ও বেসামরিক প্রশাসন। মৃত্যু ঝুঁকি নিয়ে সেবা দিচ্ছেন চিকিৎসকরা। সরকারিভাবে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হচ্ছে নি¤œ আয়ের মানুষদের। এভাবে করোনার চোখ রাঙানি চলতে থাকলে ক’দিন পরে নি¤œ আয়ের মানুষের মতো, নি¤œ মধ্যবিত্ত বা মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মানুষদের ত্রাণের ওপর নির্ভর করতে হবে। এই অব্যাহত পরিস্থিতিতে সরকারইবা কত দিন সামাল দিতে পারবে তাতেও রয়েছে রীতিমতো সংশয়। এই অবস্থায় যেসব দেশ আমাদের অন্তত ত্রাণের মাধ্যমে সহায়তা করবে তারাও আমাদের চেয়ে খারাপ অবস্থানে রয়েছে। কেউ জানে না কবে থামবে করোনার এই তাণ্ডব। তবুও সংক্রমণ রোধে আমাদের সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে, মনোবল রেখে আরো সচেতন হতে হবে, মানতে হবে সরকারি সব নির্দেশনা। কারণ এই পরিস্থিতিতে এর কোনো বিকল্প নেই।
মানুষ সব দিক দিয়ে যখন করোনার কাছে দুর্বল ঠিক তখনই বিশ্বের বিভিন্ন ধর্মাবলম্বীর রাষ্ট্রনেতা ও সাধারণ মানুষ নিজ নিজ স্রষ্টার কাছে এই গজব থেকে রেহাই পাওয়ার জন্য হাত উঠিয়েছেন। অনেক বিধর্মী রাষ্ট্রপ্রধানরাও কুরআনকেই সত্য বলে মেনেছেন, আল্লাহর কাছে মুক্তি চেয়েছেন। জানা যায়, যেসব দেশে প্রকাশ্যে আজান দেয়ার রীতি সরকারিভাবে বন্ধ ছিল সেসব দেশেই আজ তারা প্রকাশ্যে আজান দিচ্ছেন, মসজিদমুখী হচ্ছেন। আল্লাহ করোনার মতো প্রাণঘাতী মহামারী দিয়ে আজ বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন সব ক্ষমতা কেবল তারই হাতে। তাই এখনই বিশ্ববাসীকে ব্যভিচার, জিনা, অন্যায়ের পথ থেকে সরে আসতে হবে। মানতে হবে আল্লাহর আদেশ ও নিষেধ। ইসলামের ইতিহাস থেকে জানা যায় যখন মানুষ এতটাই গোনাহর কাজ, অন্যায়, অবিচার, জিনা ইত্যাদির মতো কাজে বেশি লিপ্ত থাকে, আল্লাহ ভয় মন থেকে দূরে থাকে ঠিক তখনই আল্লাহ গজব নাজিল করেন। বুঝিয়ে দেন আল্লাহকে অমান্য করার ভয়াবহতা বা শাস্তি কত ভয়ঙ্কর হতে পারে।
যুগে যুগে, শতাব্দীতে শতাব্দীতে এমন বহু মহামারীর ভয়ঙ্কর তাণ্ডব চালানোর ইতিহাস আমরা জেনেছি। যতটুকু বুঝা যাচ্ছে, এখনই কোনো সঠিক চিকিৎসা বা প্রতিষেধক আবিষ্কার সম্ভব হবে না তাই এর নিয়ন্ত্রণ ও পরিত্রাণ কেবল স্বয়ং বিধাতার হাতেই। আর যদিও কোনো ভ্যাকসিন আবিষ্কার হয় তত দিনে প্রাণহানি ও অর্থনৈতিক বা অন্যান্য যে ক্ষয়ক্ষতির মুখে আমরা এবং বিশ্ব পড়বে তা কাটিয়ে উঠতে হয়তো কয়েক যুগ লেগে যাবে। তাই আসুন মুক্তির লক্ষ্যে আমরা তওবা করে আল্লাহর ইবাদত করি। নবী করিম সা:-এর পথ অনুসরণ করে মেনে চলি আল্লাহর সব আদেশ-নিষধ। আল্লাহর কাছে এই মহামারী করোনার কবল থেকে মুক্তি চাই। চাই করুণা।
প্রকৌশলী ও প্রাবন্ধিক, হবিগঞ্জ
